সুশিক্ষা

অগ্রগতির পথে আজ ও আগামীর ক্যারিয়ার

সময়টাই এখন প্রতিযোগিতার। কি পড়ালেখা, কি ক্যারিয়ার সব ক্ষেত্রেই কঠিন প্রস্তুতি আর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখাই যে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার স্থির করে, তা পুরোপুরি ঠিক নয়। পড়ালেখার গতি ঠিক রেখে ভবিষ্যতের ক্যারিয়ারের জন্য নিজেকে তৈরি করাই শিক্ষার্থীদের মূল আদর্শ হওয়া উচিত, নইলে পিছিয়ে পড়তে হয়। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার সম্পর্কে জানানো ও কর্মক্ষেত্রে মানিয়ে নেওয়ার সঙ্গে পরিচিত করতেই ২০১১ সালে কাজ শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যারিয়ার ক্লাব (জেএনইউসিসি)।
প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি হাফিজুর রহমান ও তার কয়েকজন সহযোগীর গঠন করা জবি ক্যারিয়ার ক্লাব আজ মাইলফলক ছুঁয়েছে। ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও কম সময়ে জবি ক্যারিয়ার ক্লাব আজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর বড় ধরনের বিজনেস কেস কম্পিটিশনের আয়োজন প্রথমবার করতে সক্ষম হয় এই ক্লাবটি, যেখানে সারা বাংলাদেশ থেকে পাবলিক-প্রাইভেট মিলে সর্বমোট ৩২টি দল অংশগ্রহণ করে। প্রাইজমানি হিসেবে এক লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যার সবটাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব বহন করে। আর এই সাফল্যই ক্যারিয়ার ক্লাবটির কম সময়ে সফলতার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ক্যারিয়ার ক্লাবের বর্তমান সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ভাইয়ারা যখন ২০১১ সালে জবি ক্যারিয়ার ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন, তখন জগন্নাথের অনেক ডিপার্টমেন্টই জানত না যে জগন্নাথে ক্যারিয়ার ক্লাব নামে কোনো সংগঠন আছে। আর এখন শুধু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সারা বাংলাদেশের অধিকাংশ পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জেএনইউসিসি সম্পর্কে জানেন। এমনকি কিছু বিশ্ববিদ্যালয় জেএনইউসিসিকে অনুসরণ করে নিজেরাও প্রতিষ্ঠা করছে ক্যারিয়ার ক্লাব।
ক্যারিয়ার ক্লাবে ক্যারিয়ার গঠনের পাশাপাশি আর কী কী করা হয় জানতে চাইলে ক্লাবের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবির হোসেন বলেন, আমাদের এখানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগ থেকেই পরীক্ষার মাধ্যমে সেরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে ট্রেইনি হিসেবে পদ দিয়ে তাদের জন্য প্রতি মাসে বিভিন্ন কর্মশালার আয়োজন করা হয়, যেখানে সবাইকে
হাতে-কলমে দেখানো হয় কীভাবে প্রেজেন্টেশন দিতে হবে, কীভাবে নিজের সিভি নিজে বানাতে হবে এবং কীভাবে যেকোনো ধরনের ইন্টারভিউয়ের মুখোমুখি হয়ে নিজেকে এগিয়ে নিতে হবে। পাওয়ার পয়েন্ট, এমএস ওয়ার্ড, এক্সেল এ সবকিছুই শেখানো হয় এখানে। এছাড়া প্রতিবছর নানা ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করি, যেখানে সারা বাংলাদেশের বড় বড় পদের করপোরেট কর্মকর্তা এবং সরকারি-বেসরকারি, বিমা ও ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ করি। তারা ক্যারিয়ার ও ২১ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কীভাবে নিজেকে এগিয়ে রাখা যাবে, সে বিষয়ে কথা বলেন।
ক্লাবের ডিরেক্টর এমএম মুজাহিদ উদ্দীন বলেন, জবি ক্যারিয়ার ক্লাবের প্রতিটি শিক্ষার্থী অন্যান্য শিক্ষার্থীর চেয়ে নানা দিক থেকে অনেক এগিয়ে।
এই তো কিছুদিন আগেও জেএনইউসিসি’র ‘লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ২০১৯’-এর নতুন মেম্বারদের ‘ইনডাকশন’ প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অতিথি ছিলেন ক্যারিয়ার ক্লাবের অ্যালামনাইরা। তারা করপোরেট, ব্যাংকিং সেক্টর ও সিভিল সেক্টর নিয়ে আলোচনা করেন এবং নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে ক্লাবের নবীন সদস্যদের ক্যারিয়ারের নানা বিষয়ে তারা পরামর্শ দেন। ‘লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’ ক্যারিয়ার ক্লাবের একটি মেম্বার রিক্রুটমেন্ট প্রোগ্রাম। এখানে সবাইকে এক বছর ধরে নানাভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং স্কিল ডেভেলপমেন্ট করা হয়। এর ফলে সে ২১ শতাব্দীর চাকরির বাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে।
এ অনুষ্ঠানে লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ১৭-এর মেম্বারদের পদোন্নতি দিয়ে এক্সিকিউটিভ মেম্বার করা হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব সব সময়ই ক্যারিয়ার-বিষয়ক সেমিনার ও কর্মশলার আয়োজন করে থাকে।
ক্লাবের সাবেক সভাপতি জামশেদ আমিন রাব্বি বলেন, ক্যারিয়ার ক্লাবে যারা কাজ করেন, পরে তাদের কোথাও না কোথাও ভালো মানের সরকারি-বেসরকারি জব হয়েই যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ এখান থেকে অর্জিত ব্যবহারিক জ্ঞান ও চাকরির মৌখিক পরীক্ষা অনেক কাজে দিচ্ছে।
ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদ বলেন, ক্যারিয়ার ক্লাবের সাবেক অধিকাংশ ভাইয়েরা সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। ক্যারিয়ার ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করা এমন কেউই নেই যে এখনও বেকার! এজন্য বলা যায়, সময়ের সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার ক্লাব অনেকটাই অগ্রগতির পথে।

আমজাদ হোসেন ফাহীম

সর্বশেষ..