প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

অঙ্গ সংযোজন নিয়ে আর অনিয়ম নয়

 

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দেওয়া-নেওয়ার ক্ষেত্রে রক্তসম্পর্কিত নিকটাত্মায়ীয়ের পরিধি বাড়ানো হয়েছে ‘মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন (সংশোধন) আইন-২০১৭’-এর খসড়ায়। বর্তমানে প্রচলিত ১৯৯৯ সালের আইনানুসারে শুধু মা-বাবা, ছেলেমেয়ে, ভাই-বোন ও আপন চাচা, ফুফু, মামা, খালা ও স্বামী-স্ত্রীর কাছ থেকে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গ্রহণ করা যায়। নতুন আইন পাস হলে এসব আত্মীয়ের পাশাপাশি আপন দাদা-দাদি, নানা-নানি, নাতি-নাতনি এবং আপন চাচাতো, ফুফাতো, মামাতো ও খালাতো ভাই-বোনরাও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গ্রহণ ও দান করতে পারবেন। গত সোমবার মন্ত্রিসভায় এ আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজনের ক্ষেত্রে আত্মীয়ের পরিধি বাড়ানোর যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সরকারকে আমরা সাধুবাদ জানাই। দুর্ঘটনা কিংবা রোগে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের প্রয়োজন হলে অনেক সময় নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে নানা কারণে তা গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। ফলে অনেকেই অবৈধ উপায়ে এসব কেনে দালালের মাধ্যমে। অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেনাবেচার সঙ্গে কিছু চক্র এখনও সক্রিয় দেশে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন আইনের বাস্তবায়ন ঘটলে অঙ্গ পাচারের ব্যবসা অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হবে। অপহরণ করে জোরপূর্বক অঙ্গ কেটে নেওয়া কিংবা বুঝিয়ে-শুনিয়ে হতদরিদ্রদের কাছ থেকে অঙ্গ কেনার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার অবসান চাই আমরাও।

মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনের সংশোধনীতে শাস্তির বিধানেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বর্তমান আইনের কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে বা লঙ্ঘনে সহায়তা করলে সর্বনি¤œ তিন থেকে সাত বছরের কারাদণ্ড অথবা তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান ছিল। এখন আইনের সংশোধনীতে শাস্তির ক্ষেত্রে নিকটাত্মীয়ের পরিচয়ে মিথ্যা পরিচয় দিলে দুই বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং অন্য কোনো বিধি লঙ্ঘন করলে তিন বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। কারাদণ্ড কমিয়ে আনার বিষয়ে অনেকে অবশ্য আপত্তি করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ঢালাওভাবে শাস্তির বিধান না রেখে সুনির্দিষ্ট শাস্তির কথা। একই আইনের আওতায় অপরাধ সুনির্দিষ্ট করে দেওয়ার বিষয়টি অবশ্য অধিক যৌক্তিক। তবে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেনাবেচা বা পাচারের যে নির্মম ব্যবসা দেশে চলে আসছে, সেটি সম্পূর্ণ রোধে শাস্তির বিধানে কিছু কঠোরতা আনার বিষয় বিবেচনা করতে পারেন সংশ্লিষ্টরা। কিছু গ্রামে অনেক মানুষের একটি কিডনি না থাকার খবর গণমাধ্যমে এসেছিল। অর্থের লোভ দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে অঙ্গটি কিনে নেয় একটি চক্র বলা হয়েছিল প্রতিবেদনে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে তার সুফল লাভে কোন অঙ্গ বা প্রত্যঙ্গ কোন বয়সী দাতার কাছ থেকে নেওয়া যাবে বা কোন রোগ থাকলে কোন অঙ্গটি নেওয়া যাবে না কিংবা কোন প্রত্যঙ্গ গ্রহণ বা দানে আত্মীয়তার সম্পর্ক আবশ্যক নয়Ñএসব বিষয় আইনে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করাকে স্বাগত জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। সুন্দর আইনের সফল প্রয়োগও জরুরি। অন্যথায় সংশোধিত আইনের সুফল মানুষ ভোগ করতে পারবে না। বেসরকারি হাসপাতালে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন করতে হলে সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার যে বিধান রাখা হয়েছে, সেটিরও শতভাগ বাস্তবায়ন আবশ্যক।