সম্পাদকীয়

অজ্ঞাত হত্যা বন্ধে চাই নৈতিক সংশোধন

ধানমন্ডিতে গতকাল গলা কেটে হত্যা করা হলো দুই নারীকে। গণমাধ্যমে প্রায়ই এমন হত্যকাণ্ডসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মরদেহ উদ্ধারের খবর প্রকাশ পায়। কোনো সভ্য সমাজে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার ঘটনা ঘটছে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোয়ও। এমন হত্যাকাণ্ড বন্ধে কেবল আইনের যথাযথ প্রয়োগই নয়, নৈতিক সংশোধনও প্রয়োজন বলে মনে করি।

সুশাসন ও আইনশৃঙ্খলাকে পরিকল্পিত কাঠামোয় গঠন করতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে শ্রম, অর্থ ও সময় ব্যয় করা হচ্ছে, কিন্তু অবক্ষয়ের সূচক নিয়ত নিচের দিকে একরোখা। বৈজ্ঞানিকতা ও মুক্তচিন্তার যুক্তি কুসংস্কারের জট খুলতে পারলেও মূল্যবোধের অবক্ষয়কে লাগাম পরাতে পারেনি। স্বীকার করা হচ্ছে, নৈতিক মূল্যমানই এখন সামাজিক সংস্কারের চাবিকাঠি। কিন্তু তাকে যাপিত জীবনে সাজিয়ে নেওয়া বড়ই ভার। এমন পরিস্থিতিতে নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে বড় ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন। এক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন পেশাজীবী খাত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সরকারি চাকরিজীবী ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আদর্শিক এবং নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

তিন মাসে সারা দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনে মামলা হয়েছে এক হাজার ১৩৯ এবং হত্যা মামলা হয়েছে ৩৫১টি। উপরন্তু বিভিন্ন নির্যাতনের অনেক মামলা পুলিশ নেয়নি বলেও পত্রিকায় খবর আসে। অর্থাৎ, নির্যাতনের বাস্তব পরিসংখ্যান ঢের বেশি বলেই অনুমান। ক’দিন আগেই কেবল সন্দেহের বশে বুয়েটশিক্ষার্থী আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হলো। নুসরাতকে হত্যা করা হলো ধর্মীয় শিক্ষালয়ে। এসবের সঙ্গে শিক্ষকরাও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত বলে জানা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। প্রভাবশালী হন আর যে-ই হন না কেন, সর্বক্ষেত্রে আইনের উপযুক্ত প্রয়োগ কাম্য। তা না হলে এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষক হত্যাকাণ্ড আরও দেখতে হতে পারে। তাই সর্বস্তরের মানুষের সমন্বয়ে নৈতিক শিক্ষার এমন একটি বাতাবরণ সৃষ্টির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, যেখানে এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজেকে সংবরণ করে নেবে।

পরশ্রীকাতরতা, নিন্দাচর্চা, লোভ, হিংসা, দম্ভের মতো সাধারণ মানবিক দুর্বলতা চরম কুকর্মে পরিণত হচ্ছে। তখন মানবিক বোধ কিংবা পরিণাম-ভীতি কাজ করে না। তাই আইনের শাসনের আগে প্রয়োজন উত্তম মানুষ গড়নে রাষ্ট্রের আন্তরিক, সাহসী ও শিক্ষামূলক পদক্ষেপ। এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার ও নাগরিক সমাজ বৃহৎ মানসিকতার পরিচয় দেবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

সর্বশেষ..