সম্পাদকীয়

অটোমেশন যুগের কর্মসংস্থান বিষয়ে ভাবতে হবে এখনই

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানুষকে অনেক এগিয়ে দিচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষের কাজ কমিয়ে দিচ্ছে। একজন মানুষের চেয়ে নির্ভুল ও দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে পারে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক যন্ত্র। প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে শিল্প, কৃষি শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নতির গতি বেড়েছে।

আধুনিক সময়ে প্রযুক্তিনির্ভরতা এতই ব্যাপক যে, প্রযুক্তি ব্যবহার করে কায়িক পরিশ্রমের কাজগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে করার পদ্ধতি (অফিস অটোমেশন সিস্টেম) বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এখন কারখানা অটোমেশন করার কথা ভাবা হচ্ছে। কেবল দ্রুততা বা নিখুঁত কাজের জন্য নয়, অটোমেশন নিয়ে আসবে স্বচ্ছতা। এতসব সুবিধা থাকলেও অটোমেশনের বড় কুফল হলো, এটির জন্য অনেককে চাকরি হারাতে হবে।

অটোমেশন মানুষের বিকল্প হয়ে উঠলে কর্মসংস্থান সমস্যা প্রকট হবে। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘অটোমেশনে ৬০ শতাংশ কর্মসংস্থান কমবে পোশাক খাতে’ শীর্ষক প্রতিবেদন বিষয়টিকে নতুন করে সামনে এনেছে। শনিবার ‘ফিউচার স্কিলস রিকোয়ার্ড ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বা অটোমেশনের ফলে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে দুজনের চাকরিই ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। কর্মক্ষেত্রে মেশিনের গুরুত্ব বাড়বে, ব্যক্তির প্রয়োজন কমবে। শুধু তৈরি পোশাক খাতেই ২০৪১ সালের মধ্যে মোট কর্মসংস্থানের ৬০ শতাংশই চলে যাবে মেশিন বা রোবটের দখলে।

সেমিনারে পঠিত গবেষণা প্রতিবেদনে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, কৃষি ও খাদ্য, ফার্নিচার, পর্যটন ও হসপিটালিটি, চামড়া ও পাদুকাশিল্পে কর্মসংস্থানের সম্ভাব্য অটোমেশনের প্রভাব তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, অটোমেশনে প্রথাগত কর্মসংস্থানের অনেক পদই বিলুপ্ত হয়ে পড়বে।

আমাদের দেশ বেকার সমস্যায় জর্জরিত। এ অবস্থায় এমন খবর নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। অটোমেশনের ফলে তৈরি পোশাক খাতের অনেক পদই বিলুপ্ত বা অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়বে। যেমনÑএর মধ্যে এক ও দুই সুচবিশিষ্ট লক মেশিন অপারেটর, ফ্লোর সুপারভাইজার, প্যাটার্ন মেকার, কোয়ালিটি কন্ট্রোলার, প্রডাকশন প্ল্যানার ও মার্চেন্ডাইজারের মতো পদগুলো অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়বে। ফলে তৈরি পোশাক খাতের এসব পদে লোক নিয়োগের প্রয়োজন হবে না। এ পদগুলো রোবট বা অটোমেশনের দখলে চলে যাবে। এমন হলে আমাদের বেকার সমস্যা আরও প্রকট হবে। তবুও অটোমেশনকে স্বাগত জানাতে হবে এবং এর ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবিলার জন্য তৈরি হতে হবে। অন্য দেশ অটোমেশন ব্যবহার করে এগিয়ে যাবে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আমাদেরও সেটি ব্যবহারে দক্ষ হতে হবে। যতই অটোমেশন করা হোক না কেন, সেটি মানুষের বিকল্প নয়। আর কাজ না পাওয়া ব্যক্তিদের সুরক্ষার জন্য নতুন পথ খুঁজতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..