খবর

অতিরিক্ত দামে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রি

চট্টগ্রামে দুই প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে থামছেই না অতিমুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য। জেলা প্রশাসনের নিয়মিত অভিযানে প্রতিদিন উঠে আসছে ভয়াবহ চিত্র। করোনা পরিস্থিতিকে পুঁজি করে পকেট ভারী করছে এসব অসাধু ব্যবসায়ী। সম্প্রতি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অক্সিজেন সিলিন্ডারে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত মুনাফা করতে দেখা যায়।

এসব ব্যস্ত ব্যবসায়ীদের লাগাম টানতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুই ব্যবসায়িকে চার লাখ ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। গতকাল দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুকের নেতৃত্বে করোনাকালীন সময়ে অক্সিজেন সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও দাম বৃদ্ধির বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরীর আসগারদীঘির পাড় ও চকবাজারে অভিযান পরিচালিত হয়।

বর্তমান করোনা সংকটে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে বলে মন্তব্য করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক বলেন, ‘তারা মানুষের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে অতি প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ চিকিৎসাসামগ্রীর কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও দাম বৃদ্ধি করে ক্রেতাদের কাছ থেকে বিপুল মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে। এই ধরনের অনিয়ম রোধে আজ নগরীর চকবাজার এলাকার কাতালগঞ্জের বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে চার লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক শহীদুল আলম কোনো ধরনের ইনভয়েস ও প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তারা নিজেদের মতো করে দাম বৃদ্ধি করে বিক্রয় করে অক্সিজেন সিলিন্ডার, মিটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে বলে জানালেও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্সসহ অন্যান্য কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এমনকি তারা বিক্রয় ক্যাশ মেমোতে থাকা কার্বন কপিতে কোনো ধরনের টাকার অঙ্ক ও ক্রেতার নাম-ঠিকানা লিখে না। এ সময় তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সিলিন্ডার বিক্রি করা বন্ধ করে গোপনে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া যায়। গোডাউনে অনেক সিলিন্ডার থাকলেও ক্রেতাদের কাছে সিলিন্ডার নেই বলে জানিয়ে আসছে সবসময়।

সরেজমিন কয়েকজন ক্রেতার কাছ থেকে জানা যায়, ‘তিনি তাদের সিলিন্ডার নেই বললেও বিশেষ ক্ষেত্রে বেশি দামে বিক্রি করে। সিলিন্ডারপ্রতি লাভ করেছে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। আর মিটারপ্রতি লাভ করেছে ৩ হাজার টাকার বেশি।’

একই অভিযানে কাজির দেউড়ী আসগার দীঘিরপাড়ের হাসান ট্রেডার্সকে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স দেখাতে না পারায় ও আইসিইউ বেড ও পেশেন্ট বেডের ক্র?য় রশিদ দেখাতে না পারায় ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রি করে এমন কয়েকটি দোকান বন্ধ পাওয়া যায়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..