অননুমোদিত নৌযানে যাত্রী পরিবহন বন্ধে ব্যবস্থা নিন

‘বরিশালের নৌপথ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ স্পিডবোট’ শীর্ষক যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে, তা পাঠকের মনোযোগ কাড়বে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বরিশাল-ভোলা-মেহেন্দিগঞ্জ নৌপথে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দুই শতাধিক স্পিডবোট যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করছে। নদীতে বেশিসংখ্যক নৌযান চলায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে, হতাহত হচ্ছেন যাত্রী ও জেলেরা। তার পরও এসব অবৈধ যান চলাচল বন্ধ হচ্ছে না।

স্পিড বোট পরিচালনা করে অনেকের জীবিকা নির্বাহ হয়, সংসার চলে। তাই এতে কিছু অনিয়ম হলেও দোষের নয়। মানবিক কারণ দেখিয়ে কেউ হয়তো এর বিরোধিতা করবেন না। কিন্তু স্পিড বোটের দুর্ঘটনা বিবেচনায় নিলে এটি কোনোভাবেই পরিবহন হিসেবে ব্যবহার্য হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। আমাদের মনে আছে, গত ৩ মে মাদারীপুরের শিবচরে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটের কাঁঠালবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকায় বাল্কহেডের (বালু টানা কার্গো) সঙ্গে স্পিডবোটের সংঘর্ষে ২৬ জনের প্রাণহানি হয়।

লকডাউন চলাকালে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্পিডবোট চলার অভিযোগ ছিল। তদন্তে স্পিডবোট ঘাটের অবস্থাপনার প্রমাণ মেলে এবং কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করে কতকগুলো সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে পাঠায় তদন্ত কমিটি। দুর্ঘটনার কারণ ছিল স্পিডবোট চালকের অসতর্কতা, চালকের কোনো প্রশিক্ষণ না থাকা, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় স্পিডবোট চালানো, নৌ-চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় চালক কর্তৃক স্পিডবোটটি নির্ধারিত ঘাটে না ভেড়া, অতিরিক্ত গতিতে বোটটি চালানো প্রভৃতি।

তদন্ত কমিটি যে কারণগুলো দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করেছে, সে কারণগুলো যেন আর ঘটতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা হয়নি বলেই প্রতীয়মান। নইলে বরিশালে স্পিডবোট মালিক সমিতির নেতারা প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা করে নদীতে এ অবৈধ যানটি কীভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন? দুর্ঘটনা ঘটলে প্রাণহানি হলে কিছুদিন কর্তৃপক্ষ নজরদারি করে। পরবর্তী সময়ে আর তৎপরতা লক্ষ করা যায় না।

বিভিন্ন রুটে চলাচলরত শত শত স্পিডবোট থেকে প্রতিদিন মোটা অঙ্কের চাঁদা তোলা হয়। এসব বোটের বেশিরভাগই পুরোনো, জোড়াতালি দেয়া। পথিমধ্যে পানি ওঠে। অনেক সময় ইঞ্জিন বিকল হয়ে আগুন ধরে যায়। বেশিরভাগ বোটে নেই লাইফ জ্যাকেট। দুই-একটি বোটে লাইফ জ্যাকেট থাকলেও তা ব্যবহার-অনুপযোগী। এসব নিয়ে যাত্রীরা কথা বললে চালকদের দুর্ব্যবহারের শিকার হন। অনেক চালক পথিমধ্যে বোটের ইঞ্জিনে ত্রুটির কথা বলে কিংবা চরে তুলে দিয়ে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখেন।

বিআইডব্লিটিএর উচিত, স্পিডবোটগুলোর ফিটনেস সার্ভে সনদ, রেজিস্ট্রেশন ও রুট-পারমিট যাচাই করা এবং অনুমোদনহীন নৌযান মালিকদের আইনের আওতায় আনা। স্পিডবোট চলাচল করতে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর থেকে সার্ভে সনদ, রেজিস্ট্রেশন ও রুট-পারমিট নিতে হবে। অথচ মালিকরা নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে সময়সূচি নেননি, কোনো আবেদনও করেননি। বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে কোনো কাগজপত্র না পাওয়ায় অবৈধ নৌযান চলাচল বন্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে জানিয়েছে নৌ-পুলিশ। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সক্রিয় হলে এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নিলে অবৈধ নৌযান চলাচল বন্ধ করা কঠিন নয়।


সর্বশেষ..