প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

অনভিপ্রেত, অদূরদর্শী

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা ২০১৭’র চালচিত্র নিয়ে গতকালের শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘স্টল ফাঁকা, কাস্টমসে আটকে আছে বিদেশি পণ্য’ শীর্ষক খবরটি আগ্রহী পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে। সেখানে আমাদের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মেলার পঞ্চম দিনেও অনেক বিদেশি স্টলে ওঠেনি পণ্য। কারণ হিসেবে স্টল সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নানা অভিযোগে ওইসব পণ্য আটকে রেখেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। এদিকে এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে মেলা প্রাঙ্গণে স্থাপিত কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাটসংক্রান্ত অফিসের দায়িত্বে নিয়োজিত রাজস্ব কর্মকর্তা জানান, ‘কাস্টমসে পণ্য আটকে থাকার নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে। ব্যবসায়ীরা তাদের এলসির কপি, প্যাকেজিং তালিকা, পণ্যের কোড নম্বর সরবরাহ করেছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে হবে।’ উপস্থাপিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তিটি তেমন জুতসই নয় বলেই প্রতীয়মান। তবে এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেছেন, ‘কাস্টমসকে আগে থেকে জানালে আমাদের কাস্টমস কমিশনাররা সাধারণত সেগুলোকে ফার্স্ট ট্র্যাকভুক্ত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খালাসের ব্যবস্থা করেন। এটি নির্ভর করে কোন দেশ থেকে পণ্য কীভাবে কোন বন্দর দিয়ে এসেছে, তার ওপর। স্থলপথে এলে বেনাপোল, নৌপথে এলে চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং আকাশপথে এলে ঢাকা কাস্টমস কর্মকর্তারা বিষয়টি দেখবেন।’ তার কথার সূত্র ধরেই বলা যায়, যদি বাণিজ্যমেলার পণ্যকে ফার্স্ট ট্র্যাকভুক্তই করা হয়, তাহলে পণ্য যে পথ দিয়েই আসুক, বাণিজ্যমেলার পণ্য দ্রুত ছাড়করণে এনবিআরের বিশেষ নির্দেশাবলি রয়েছে নিশ্চয়ই? নাকি স্থল-নৌ-আকাশপথে পণ্য আমদানি-রফতানি তদারকির জন্য ভিন্ন ভিন্ন সংস্থা রয়েছে? যদি তা না থাকে, সেক্ষেত্রে এনবিআরের দেওয়া নির্দেশাবলী প্রতিটি শুল্ক বন্দরে যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

লক্ষণীয়, বাণিজ্যমেলায় পণ্য প্রদর্শনী নিয়ে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ নতুন নয়। প্রকৃতপক্ষে বাণিজ্যমেলার দর্শন বহন করে, এমন বাণিজ্যমেলা আমরা এখনও পাইনি; অধিকন্তু এটা গ্রাম্যমেলারই রাজধানী সংস্করণ বলে অনেকের মন্তব্য। অভিযোগটি অস্বীকার না করেও বলা যায়, স্থায়ী লোকেশনে আয়োজনের আগপর্যন্ত ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার বর্তমান রূপ পাল্টে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। এখন কথা হলো, স্থায়ীভাবে বাণিজ্যমেলা আয়োজনের লক্ষ্যে সরকার যে স্থানটি নির্বাচন করেছে উপযুক্ত অবকাঠামো সুবিধাসহ তা চালু করতে সময় লাগবে খানিকটা। ইত্যবসরে সীমাবদ্ধতার মধ্যেই বিদেশি স্টলের ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ সেবা নিশ্চিত করা কি দায়িত্ববহির্ভূত কার্যক্রমের আওতায় পড়তো? বিদেশি স্টল সংশ্লিষ্ট অনেকে অভিযোগ করেছেন, পণ্য ছাড়করণে বাড়তি অর্থ ঢালতে হচ্ছে বিধায় ব্যয় পোষাতে স্টলে পণ্যটির বাড়তি দাম ধার্য করছেন তারা। চূড়ান্তভাবে সে বাড়তি ব্যয় কি স্থানীয় ভোক্তাদেরই বহন করতে হচ্ছে না? আরেকটি বিষয় রয়েছে, বাণিজ্যমেলায় প্রদর্শনীর জন্য যেসব জেনুইন বিদেশি ব্যবসায়ী রয়েছেন, তারা স্টল নেন সাধারণত উদ্দিষ্ট দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা সুবিধাজনক না অসুবিধাজনক, সেটা বুঝতে। অস্বীকার করা যাবে না, স্থানীয় একশ্রেণির ব্যবসায়ী ভুয়া পরিচয় দিয়ে বিদেশি স্টল নিয়ে থাকেন। তাদের কথা বাদই থাকলো। যারা প্রকৃতই বিদেশি ব্যবসায়ী, তাদেরই-বা কেমন মনোভাব হবে প্রথমে বন্দরে পণ্য খালাসে ভোগান্তির শিকার হয়ে এবং পরে মেলায় এসে পরিচয়পত্র (পাস) না পেয়ে প্রতিবার প্রবেশের জন্য আলাদাভাবে টিকিট কিনতে গিয়ে? সবার প্রত্যাশা, এসব প্রতিবন্ধকতা প্রতিকারে আশু ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ। আমাদের এ মেলার কোনো নেগেটিভ ব্র্যান্ডিং হোক, সেটা নিশ্চয়ই কেউ চাইবে না।