অনলাইনে কর দিতে লাখো করদাতার নিবন্ধন

রহমত রহমান: অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে (ই-রিটার্ন) করদাতাদের আগ্রহ বাড়ছে। মাত্র একটি নিবন্ধন শেষেই দেয়া যায় রিটার্ন। সঙ্গে সঙ্গে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র আর সনদ। শুধু তা-ই নয়, রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানোর আবেদনও এখন অনলাইনে করা যায়। প্রক্রিয়াটি সহজ হওয়ায় দিন দিন করদাতাদের আগ্রহ বাড়ছে। সে জন্য মাত্র ৫০ দিনে নিবন্ধন করেছেন ৯৫ হাজারের বেশি করদাতা। যার মধ্যে রিটার্ন দাখিল করেছেন ৫৩ হাজারের বেশি। সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন সাড়ে তিন হাজারের বেশি করদাতা।

এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, প্রক্রিয়াটি সহজ হওয়ায় প্রতিদিনই নিবন্ধন ও রিটার্ন দাখিলের হার বাড়ছে। ফলে প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, এ বছর ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের সময় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১৫ লাখ করদাতা রিটার্ন দাখিল করেছেন।

এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ই-টিআইএন থাকলে করযোগ্য আয় না থাকলেও রিটার্ন দিতে হবে। কিন্তু টিআইএনধারী বছরের পর বছর রিটার্ন দাখিল করেন না। আবার অনেক করদাতা কর অফিসে না গিয়ে অফিস বা বাসায় বসে রিটার্ন দাখিল করতে চান। তাদের জন্য এনবিআর চলতি বছর ১০ অক্টোবর ই-রিটার্ন ব্যবস্থা চালু করেছে। একজন করদাতার টিআইএন নম্বর, নিজ নামে নিবন্ধন করা মোবাইল ফোন সিম থাকলেই এক ক্লিকেই নিবন্ধন করতে পারবেন। করদাতা সামান্য কিছু তথ্য দিলেই অনলাইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিটার্ন তৈরি হয়ে যাবে। তবে অনলাইনে কর দেয়ার প্রক্রিয়া যুক্ত হলে ই-রিটার্ন আরও জনপ্রিয় হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এনবিআর সূত্রমতে, ১০ অক্টোবর অনলাইনে ই-রিটার্ন চালু করে এনবিআর। ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন ৯৫ হাজার ৮০৫ জন। তাদের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করেছেন ৫৩ হাজার ৪১টি। আর সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন তিন হাজার ৮০০টি। এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, শুধু নভেম্বরে (২৯ নভেম্বর পর্যন্ত) ৩১টি কর অঞ্চলে ১২ লাখ ৩৯ হাজার ১৬৫টি রিটার্ন দাখিল হয়েছে। কর আদায় হয়েছে ৯২৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। সময় বাড়ানোর আবেদন পড়েছে ৩৬ হাজার ৭১৪টি। ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ব্যক্তি শ্রেণি মোট রিটার্ন দাখিল করেছেন প্রায় ১৫ লাখ করদাতা। সময় বাড়ানোর আবেদন জমা পড়েছে এক লাখ ৫৫ হাজারের বেশি। আর আয়কর আদায় হয়েছে প্রায় এক হাজার ২৫১ কোটি টাকা।

সূত্রমতে, ৩০ নভেম্বর ছিল আয়কর দিবস। নিয়ম অনুযায়ী, ব্যক্তি শ্রেণির করদাতারা জরিমানা ছাড়াই ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করতে পারেন। নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হলে আবেদন সাপেক্ষে করদাতারা চাইলে সময় বাড়ানোর সুযোগ পান। যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে দুই থেকে চার মাস পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে নিতে পারবেন। করদাতাদের সুবিধার্থে এবার ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানো হয়েছে।

ই-রিটার্ন বিষয়ে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা শেয়ার বিজকে বলেন, এবার বেসিক ফিচারগুলো নিয়ে ই-রিটার্ন শুরু হয়েছে। আগামী বছর সব ফিচার সংবলিত একটা পূর্ণাঙ্গ ই-রিটার্ন আমরা দেখাতে পারব। প্রথম বছরেই ই-রিটার্নে দারুণ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ২৯ ও ৩০ নভেম্বর সিস্টেমের ওপর প্রচুর চাপ ছিল। পিক আওয়ারগুলোয় একসঙ্গে প্রচুর হিট হয়েছে। রিকোয়েস্ট সংখ্যা সেকেন্ডে প্রায় এক হাজার ৩০০ পর্যন্ত উঠেছে। এই কর্মকর্তা আরও বলেন, রিটার্ন দেয়া এখন অনেক সহজ। যাদের করযোগ্য আয় নেই, কিন্তু টিআইএন আছে বলে রিটার্ন দিতে হবে, তারা এখন সহজে ঘরে বসে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দিয়ে দিতে পারেন। যাদের করযোগ্য আয় আছে, রিটার্নের সঙ্গে ট্যাক্স দিতে হবে, তারাও খুব সহজে ই-রিটার্ন সিস্টেম থেকে ই-পেমেন্ট করে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন সাবমিট করতে পারছেন। আইভাসের মাধ্যমে বেতন-ভাতা হয়, সে বেতনের ওপর টিডিএস কাটা হয়, এমন করদাতারাও এখন অনলাইনে রিটার্ন দিতে পারছেন।

ই-রিটার্ন যেভাবে নিবন্ধন করা যাবে

ই-রিটার্ন দিতে চাইলে প্রথমে বঃধীহনৎ.মড়া.নফ ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন নিতে হবে। নিবন্ধন অপশনে গেলে প্রথমে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) দিতে হবে। এরপর নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ফোন নম্বর দিতে হবে। পরে ক্যাপচা লিখে সত্যতা যাচাই করতে হবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র, টিআইএন নম্বর, মোবাইল ফোনের তথ্য যাচাই করে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) দেয়া হবে। এ প্রক্রিয়ায় আপনি নিজের জন্য একটি পাসওয়ার্ড দেবেন। এভাবে হয়ে যাবে আপনার ই-রিটার্ন নিবন্ধন।

রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেছে, এবার সাইন ইন করতে হবে। ই-রিটার্নের সঙ্গে আপনার মসৃণ যাত্রা হলো। যাদের জিরো-ট্যাক্স-রিটার্ন, তাদের জন্য এ যাত্রাটা অভাবনীয় সহজ। মাত্র কয়েকটা ক্লিকে, কিছু মৌলিক তথ্য ইনপুট দিয়ে, মাত্র কয়েক মিনিটে আপনার রিটার্ন হয়ে যাচ্ছে। যাদের করযোগ্য আয় আছে, আইভাসের টিডিএস আছে, তারাও সহজে অনলাইন রিটার্ন করতে পারছেন। আয়করের আইন কানুন, ট্যাক্সের হিসাব-টিসাব জানা নেই? কোনো সমস্যা নেই। সিস্টেমের ওপর সব কাজ ছেড়ে দিন। শুধু বেসিক তথ্যগুলো ইনপুট দেবেন। সিস্টেমই হিসাব করে দেবে আপনার মোট আয় কত হলো, করের পরিমাণ কত হলো, কত রিবেট হলো, রিটার্নের সঙ্গে কত টাকা দিতে হবে। অনলাইনে রিটার্ন সাবমিট করার সঙ্গে সঙ্গে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র পাওয়া যাবে। বাম পাশের ট্যাক্স রেকর্ড মেনুতে গিয়ে ট্যাক্স সার্টিফিকেট, রিটার্নের কপি, কর পরিশোধের চালানÑসব কিছু প্রিন্ট করে নেয়া যাবে। বছরের যে কোনো সময় আপনার একটা ট্যাক্স সার্টিফিকেট দরকার, রিটার্নের কপি দরকার, আপনি ই-রিটার্ন অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করে ঘরে বসেই প্রিন্ট করে নিতে পারবেন। ই-রিটার্নের অফলাইন অপশনটাও দারুণ। জিরো-ট্যাক্স-রিটার্ন হোক, ট্যাক্স হোক, বা উৎসে কর, অগ্রিম আয়কর থাকুক, সব ধরনের করদাতা ই-রিটার্ন অফলাইন অপশন ব্যবহার করে নির্ভুল পেপার রিটার্ন বানিয়ে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে ই-রিটার্ন সিস্টেমে সাইন-ইন করে কেবল বেসিক তথ্যগুলো ইনপুট দিলে সিস্টেমই মোট আয়, ট্যাক্সের অঙ্ক, রিবেট সবকিছু হিসাব করে নির্ভুল রিটার্ন বানিয়ে দেবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯৩৬৪  জন  

সর্বশেষ..