দিনের খবর শেষ পাতা সুশিক্ষা

অনলাইনে পরীক্ষা দিতে চান জবির ৭৬% শিক্ষার্থী

জবিসাসের জরিপ

আশিকুল ইসলাম, জবি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ৭৬ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইনে সেমিস্টার পরীক্ষা দিতে চান। গতকাল শুক্রবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (জবিসাস) এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। সমিতির অফিশিয়াল ফেসবুক গ্রুপে এ অনলাইন জরিপে মোট তিন হাজার ১৭১ শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে অনলাইনে পরীক্ষা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন দুই হাজার ৪০৯ শিক্ষার্থী, যা জরিপে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের ৭৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ (প্রায় ৭৬ শতাংশ)।

সশরীরে পরীক্ষার পক্ষে মত দেন ৬০৪ শিক্ষার্থী, যা জরিপে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের ১৯ দশমিক শূন্য চার শতাংশ। এছাড়া পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত নন বলে মত দিয়েছেন ১৫৮ শিক্ষার্থী, যা মোট জরিপের পাঁচ শতাংশ। তবে তিন বিষয়েই শিক্ষার্থীদের আলাদা আলাদা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ উঠে এসেছে।

অনলাইনে এক্সাম দিতে চেয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোহনা মেহজাবিন বলেন, অনলাইনে এক্সাম চাই। সিজিপিএ কম আসুক। সমস্যা নেই আমার। তবু আর সময় নষ্ট না করার বিনীত অনুরোধ রইল। পরীক্ষার ফি-গুলো দিয়ে যাদের অনলাইন পরীক্ষা দেয়ার পর্যাপ্ত উপকরণ নেই, ওগুলোর ব্যবস্থা করে দেয়া হোক। সশরীরে পরীক্ষা না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা বাবদ ব্যয় যা হতো, সেটা হচ্ছে না। ওই টাকার সঠিক উপযোগ আমার মতে এটাই হওয়া উচিত।

অপরদিকে এখনই সশরীরে পরীক্ষা দিতে চেয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী ফারহান আহমেদ রাফি বলেন, করোনার জন্য দীর্ঘ দেড় বছর ধরে একই সেমিস্টারে আটকে আছি। অনেক ডিপার্টমেন্টে অনলাইনে মিড এক্সাম নিচ্ছে। অনেক ডিপার্টমেন্টে নেয়া শেষ। তবে তাতে অনেক শিক্ষার্থীই বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। কেউ কেউ নেটওয়ার্কজনিত সমস্যার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তরপত্র জমা দিতে পারছে না, আবার অনেকে কানেক্ট হতে পারছে না। এ অবস্থায় অবশ্যই সশরীরে পরীক্ষা নিতে হবে এবং তা যত দ্রুত সম্ভব হবে ততই মঙ্গল। একই সেশনের যে বন্ধুরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে, তারা আমাদের থেকে দু-তিন সেমিস্টার এগিয়ে গেছে।

এখনই পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত নন বলে জানিয়ে চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী নভেরা হাসান নিক্বণ বলেন, আমি চারুকলা ও ছাপচিত্র বিভাগে পড়ছি। আমাদের এখানকার ৮০ শতাংশ কোর্সই প্র্যাকটিকাল। এগুলো নির্দিষ্ট স্টুডিও ও যন্ত্রাংশ ছাড়া করা সম্ভব নয়। এগুলো ব্যক্তিগত উদ্যোগেও ম্যানেজ করা সম্ভব নয়। আমাদের গত ছয় থেকে আটটি সেমিস্টারের সব কোর্স অনলাইনে শেষ হয়েছে। এই জ্ঞান দিয়ে আমাদের বা আমার পক্ষে মূল পরীক্ষায় অংশ নেয়া সম্ভব নয়। পরবর্তী সময়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করতে গেলে আমরা কিছুতেই তাল মিলাতে পারব না। তাই উপযুক্ত পরিমাণ স্টুডিওবেজড ক্লাস না করে আমি পরীক্ষায় বসা অনর্থক বলে মনে করি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অনলাইন পরীক্ষা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও আইন অনুষদের ডিন ড. সরকার আলী আককাস বলেন, এরই মধ্যে দেড় বছর নষ্ট হয়ে গেছে শিক্ষার্থীদের। আমাদের পরিকল্পনা ছিল সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা এখনও অনিশ্চিত। তাই আমরা বিকল্প হিসেবেই অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার কথা ভাবছি। কারণ এভাবে বসে থাকলে শিক্ষার্থীদের আরও সময় নষ্ট হবে এবং সার্বিকভাবে সেশনজট আরও বাড়বে। উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে শিগগির সশরীরে পরীক্ষা গ্রহণ করা না হলে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ায় করণীয় কী এসব বিষয়ে সুপারিশ তৈরির জন্য ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..