অনলাইন রিটার্ন জমায় ‘১৩তম’ বার দেশ সেরা কুমিল্লা ভ্যাট

নিজস্ব প্রতিবেদক: অনলাইন রিটার্ন জমায় আবারো শীর্ষে কুমিল্লা কমিশনারেট। এ নিয়ে ১৩তম বার শীর্ষ স্থান অর্জন করলো কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট (সিইভিসি) টিম। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে মাঠে সক্রিয় সিইভিসি কুমিল্লা টিম। ২০২০ সালের অক্টোবরে প্রথম হ্যাট্রিক, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডাবল হ্যাট্রিক, এপ্রিলে ট্রিপল হ্যাট্রিক করেছে কুমিল্লা ভ্যাট। প্রতিনিয়ত নিজেদের ছাড়িয়ে যাবার প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা। চলতি বছরের আগস্ট মাসে অনলাইন রিটার্ন দাখিলের হার ছিল ৯৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ। আর সেপ্টেম্বর মাসে অনলাইন রিটার্ন দাখিলের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭ দশমিক শূন্য ৩ তিন শতাংশ। যেখানে সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সামগ্রিক অনলাইন রিটার্ন জমার হার প্রায় ৫০ শতাংশ। কুমিল্লা কাস্টমস সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

কুমিল্লা ভ্যাটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই কমিশনারেটের রিটার্ন দাখিলযোগ্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১১ হাজার ৪৫৯টি। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল হয়েছে ১১ হাজার ১১৯টি। সেপ্টেম্বর মাসে এই কমিশনারেটে অনলাইনে রিটার্ন জমা হয়েছে ৯৭ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের সক্রিয়তার মাধ্যমেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। চেয়ারম্যানের নির্দেশ মতো দেশকে ডিজিটাল করার প্রত্যয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এনবিআরের অধীন অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন ও রিটার্ন দাখিল অন্যতম ডিজিটাল কর্মকাণ্ড। মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের সক্রিয়তার মাধ্যমেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। উপর্যুপরি ১৩তম বার অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন জমায় সাফল্যকে ‘চমক’ হিসেবে দেখছে এনবিআর।

এনবিআর সূত্রমতে, সেপ্টেম্বর মাসে কুমিল্লা ভ্যাটের রিটার্ন দাখিলের হার ৯৭ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। এছাড়া যশোর ৯৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ, এলটিইউ ৯০ দশমিক ৮৩ শতাংশ, রংপুর ৮৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ, সিলেট ৭৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ, চট্টগ্রাম ৭৪ দশমিক ৪২ শতাংশ, রাজশাহী ৭১ দশমিক ৮১ শতাংশ, খুলনা ৫২ দশমিক ৬৭ শতাংশ, ঢাকা পূর্ব ৪৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ঢাকা পশ্চিম ৩৯ দশমিক ৯২ শতাংশ, ঢাকা উত্তর ৩০ দশমিক ৫১ শতাংশ ও ঢাকা দক্ষিণ ২২ দশমিক ৮৯ শতাংশ। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট নিবন্ধন নিয়েছে তিন লাখ এক হাজার ৫৬১টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে রিটার্ন দাখিল করেছে এক লাখ ৪৯ হাজার ৮৪১টি। রিটার্ন দাখিলের হার ৪৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

কুমিল্লা ভ্যাটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাত্র এক তৃতীয়াংশ জনবল নিয়ে কমিশনার এ সাফল্য অর্জন করেছে। কথায় নয় কাজে প্রমাণ করে দেখিয়েছে কুমিল্লা কাস্টমস ও ভ্যাট কমিশনারেট। কিভাবে অনলাইন রিটার্ন দাখিল সফল করা যায়। মাসের প্রথম হতে কমিশনারের কক্ষে মিটিং করে কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজ ভাগ করে দেয়া হয়। অনেক কর্মকর্তা স্বেচছায় গত ১৫ ও ১৬ অক্টোবর শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তহিক ছুটি বাতিল করে অনলাইন রিটার্ন দাখিলের কাজ অগ্রাধিকার দেন। লক্ষ্য, কুমিল্লা ভ্যাট টিমকে তের বারের মত চ্যাম্পিয়ন করা। ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের ই-মেইল হতে তথ্য পাওয়া যায়। অন্যান্য কমিশনারেটগুলোও নানা বৈরিতার মধ্যে কাজ করতে হয় টিমকে। অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন জমাদানের সময় সার্ভারে ক্রটি, বিদ্যুৎ ভোগান্তি। এবার শেষ সময়ে সার্ভার সমস্যা করায় অনলাইন রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের হিমশিমে পড়তে হয়েছে। সার্ভার সমস্যার কারণে রিটার্ন দাখিল বিঘ্নিত হয়। নানান সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বসে থাকেনি এ কমিশনারেটের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে কুমিল্লা ভ্যাট অন্যান্য মাসের মতো সেপ্টেম্বর মাসেও অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন জমা করেছে।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (সদর দপ্তর, কুমিল্লা) মোহাম্মদ ছালাউদ্দিন রিপন বলেন, ‘অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে কুমিল্লা ভ্যাট কমিশনারেট সর্বমোট তেরবার প্রথম। চারটি সার্কেল শতভাগ রিটার্ন দাখিল করতে সক্ষম হয়েছে। আশা করছি পর্যায়ক্রমে ষোলটি শতভাগ রিটার্ন অনলাইনে করতে সক্ষম হবে।’

এ বিষয়ে কুমিল্লা কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আবদুল হাকিম বলেন, ‘রিটার্ন দাখিলের প্রথম স্থান অর্জনের পথ কুসুমাসত্মীর্ণ ছিল না। একটা ভালো টিমওয়ার্ক এর মাধ্যমে এ অর্জন। কর্মকর্তারা পরিশ্রম করেছেন।  উদ্যম নিয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা রাজস্ব আদায় ও রিটার্ন অনলাইন দাখিলের কাজ করে যাচ্ছেন।’

এ বিষয়ে কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘সাফল্য অর্জনের চেয়ে ধরে রাখা কঠিন। কুমিল্লার কর্মপ্রবণ এনবিআরের সম্মানও উচ্চকিত করেছে। করোনাকালে কুমিল্লা টিমের জন্য বিষয়টি খুবই চ্যালেঞ্জের ছিল। আগেও বলেছে দলবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রতিযোগিতা এ অভূতপূর্ব সাফল্যের মূল নিয়ামক এবং দেশ প্রেমে উদ্ধুদ্ধ কর্মকর্তাদের পরিশ্রম ও সাফল্যের পিপাসা কুমিল্লা কমিশনারেটকে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ও রিটার্ন দাখিলে উপর্যুপরি সাফল্য এনে দিয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সক্ষম কর্মকর্তাদের বাছাই করে জটিলতর কাজে নিয়োগ, মনিটরিং উদ্বুদ্ধকরণ এক্ষেত্রে গতি বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। সর্বোপরি কর্মস্থলে দেশাত্মবোধ ও সেবার মনোভাব থাকা জরুরি। সারা দেশের কর্মকর্তাদের এরকম কাজের ধারা অব্যাহত থাকা উচিত। দক্ষ, সক্ষম, উপযুক্ত ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে সকল কর্মকর্তাদের আমরা পুরস্কৃত করি। ভবিষ্যতেও তাদের পুরস্কৃত করা হবে। জনবলের সীমাবদ্ধতার চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করে গেছে সিইভিসি টিম। ধরে রেখেছে ধারাবাহিক সাফল্য।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯৩  জন  

সর্বশেষ..