মার্কেটওয়াচ

অনাস্থার কারণে নতুন শেয়ারে আগ্রহ নেই বিনিয়োগকারীর

পুঁজিবাজারের নতুন ব্যাংকের শেয়ার আসার কথা হলেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের এতে আগ্রহ নেই। কারণ বাজারে আস্থা দরকার। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। 

হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিডিনিউজ ২৪ডটকমের প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিবেদক আবদুর রহিম হারমাছি, একাত্তর টিভির সিনিয়র বিজনেস এডিটর কাজী আজিজুল ইসলাম মাখন এবং এএফপির ব্যুরো চিফ মো. শফিকুল আলম। এছাড়া টেলিফোনে অংশ নেন মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান।

অনুষ্ঠানে আবদুর রহিম হারমাছি বলেন, আগে অর্থনীতি নিয়ে রিপোর্ট করলেও তেমন দৃষ্টিপাত করা হয়নি। তবে কিছুদিন আগে আমাদের অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে একমত হয়েছেন। দেশের অর্থনীতির সঙ্গে পুঁজিবাজারের অগ্রগতি হয়নি। শুধু রপ্তানিতে নেতিবাচক অবস্থা ছাড়াও অর্থনীতি কিংবা পুঁজিবাজারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হচ্ছে ব্যাংক খাত। আর এ খাতের অবস্থান একেবারে তলানিতে পৌঁছেছে। ছয় মাসে সরকার ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে। যেখানে রাজস্ব আদায় বাড়ানোই ছিল মূল কাজ। রাজস্ব আদায় না বাড়িয়ে ব্যাংক থেকে অর্থ সংগ্রহ কখনোই ভালো অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার উদাহরণ নয়। ব্যাংক থেকে টাকা নিলে প্রাইভেট সেক্টর ঋণ পাবে নাÑতাহলে পুঁজিবাজারে অর্থ আসবে কীভাবে, আর তা কীভাবে ভালো করা সম্ভব? শুধু ১০ হাজার কোটি টাকা আনলেই বাজার ভালো হয়ে যাবে এর নিশ্চয়তা নেই। পুঁজিবাজারের নতুন ব্যাংক আসার কথা হলেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের এতে আগ্রহ নেই। কারণ বাজারে আস্থা দরকার। নতুন শেয়ার কিংবা ১০ হাজার কোটি টাকা এখানে বিষয় নয়। গত ১০ বছরে অনেক কোম্পানি বাজারে এসেছে কিন্তু বাজারের পরিবর্তন হয়নি। বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক না করে নতুন করে ব্যাংকের শেয়ার আনার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু?

টেলিফোনে মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান বলেন, অনেকের ভুল ধারণা রয়েছে সরকার টাকা দিচ্ছে। আসলে সরকার সরাসরি টাকা দেয় না বরং বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা করে। মূলত, পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট চলছে। এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আমরা চেয়েছিলাম পুঁজিবাজারে মধ্যস্থতাকারীরা যেন ঋণ সহায়তা পেতে পারে। যে অর্থ শুধু পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা যাবে। সে লক্ষ্য নিয়েই এগোনো হচ্ছে।

একাত্তর টিভির সিনিয়র বিজনেস এডিটর কাজী আজিজুল ইসলাম মাখন বলেন, রেমিট্যান্স সূচক ছাড়া অর্থনীতির অন্যান্য বেশকিছু সূচক নেতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। অর্থনীতিতে মন্দা অবস্থা তৈরি হয়নি তবে একটা ইঙ্গিত হিসেবে এ নেতিবাচকতাকে গ্রহণ করা যায়। সম্প্রতি একটা ভালো উদ্যোগ লক্ষ্য করা গেছে। তা হলো রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংক পুঁজিবাজারে আসবে। বাজারে সরকারি ব্যাংকের শেয়ার নিয়ে আসেন পাশাপাশি অন্যান্য বহুজাতিক কিংবা ভালো কোম্পানির শেয়ারও নিয়ে আসেন কিন্তু শেয়ারের মাত্রা ঠিক রাখতে হবে।

অন্যদিকে এএফপির ব্যুরো চিফ মো. শফিকুল আলম বলেন, অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির মূল দুটি চালিকা শক্তির একটি হচ্ছে রপ্তানি আর অন্যটি রেমিট্যান্স। এবং আমাদের রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রেমিট্যান্স বাড়ছে মানেই ভোগ বাড়ছে। তবে কিছু কিছু বিষয় উদ্বেগের সৃষ্টি করে। যেমন, প্রাইভেট সেক্টরের ক্রেডিট প্রবৃদ্ধি কমেছে। এর মানে কোম্পানিগুলো যারা উৎপাদন বাড়াবে তাদের ক্রেডিটের চাহিদা নেই। অর্থাৎ কোম্পানিগুলোর উৎপাদন কিছুটা কমেছে। তবে গত ১০ বছরে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির প্রভাব পুঁজিবাজারে আসেনি।

       শ্রুতিলিখন: পিয়াস

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..