সম্পাদকীয়

অনুপ্রবেশ রোধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করুন

চারদিক থেকে ভিনদেশিদের অনুপ্রবেশ দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা তথা আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিবেশ ঝুঁকিপূর্ণ করে দিতে পারে। বেনাপোলসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে গত সাত দিনে ভারত থেকে আসা ২৫১ জন অনুপ্রবেশকারী বিজিবির হাতে আটক হয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। এমন অনুপ্রবেশের আগেই মানবিকতার ইস্যুতে দেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। আগে থেকেই দেশে অবৈধভাবে কাজ করছে কয়েক লাখ ভিনদেশি। অথচ জনঘনত্ব ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাথাপিচু আয়ের দিক দিয়ে বাংলাদেশ নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে আছে। ভূ-রাজনীতির দিক দিয়ে দেশটির অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল হলেও, অবস্থানটি তাৎপর্যপূর্ণ। এ অবস্থায় অনুপ্রবেশ সমস্যা যদি কূটনৈতিক উদ্যোগে মীমাংসা না হয়, তবে অচিরেই জনমিতির বিচারে বাংলাদেশ বড় সংকটে পড়তে পারে বৈকি।

অনুপ্রবেশ নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ হচ্ছে। তাতে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের সাধারণ ও দায়িত্বশীল মানুষের উদ্বেগ স্পষ্ট হয়েছে। ভারতে এনআরসি নিয়ে উত্তেজনাও রয়েছে তুঙ্গে। সেক্ষেত্রে ভারতীয় নেতানেত্রীরা কথায় কথায় বাংলাদেশকে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে ইঙ্গিত করছে। এরই মধ্যে গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজের প্রতিবেদন মারফত জানা যায়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আটককৃত অনুপ্রবেশকারীদের মুখে এনআরসি আতঙ্কের কথা শোনা যাচ্ছে। অথচ গত চারদিন আগেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এ ব্যাপারে তিনি আদতে কিছু জানেন না। তার কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে ভারতের সঙ্গে চলমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে তিনি বেশ স্বস্তি প্রকাশ করেন। এই স্বস্তি জনসাধারণের স্বস্তির কারণ হতে পারত, যদি অনুপ্রবেশকারীরা বিজিবির হাতে আটক হওয়ার পরেও কেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুপ্রবেশের তথ্য থাকল নাÑতার ব্যাখ্যা জানা থাকত। কয়েক লাখ ভারতীয় অবৈধভাবে বাংলাদেশে কাজ করে নিজ দেশে অবৈধ উপায়ে রেমিট্যান্সের অর্থ নিয়ে যাচ্ছে বলেও বিভিন্ন মহল থেকে শোনা যায়। এসব বিষয়ে কূটনৈতিক সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করি।

ভারত সরকারের প্রতি আমাদের পররাষ্ট্রনীতির আস্থা ও বিশ্বাস নিশ্চয় বাংলাদেশ-ভারত-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর, উৎপাদন, বিতরণ ও পরিবহনের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেবে বলেই বিশ্বাস। জোট আসিয়ানসহ মধ্য এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ কিংবা আরও বৃহত্তর পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক অবকাঠামো উন্নয়ন কৌশলেও আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ শক্তিশালী আন্তর্জাতিক বলয় গড়ে তোলা সম্ভব। তবে এসব অর্থনৈতিক উদ্যোগ সফল করতে হলে নাগরিকদের অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ হওয়া উচিত বলে মনে করি। অন্যথায় পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিঘিœত হতে পারে। অনুপ্রবেশ সমস্যার আশু সমাধান হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..