সম্পাদকীয়

অনুমোদনহীন যান চলাচল বন্ধে সমন্বিত ব্যবস্থা নিন

সরকার মহাসড়কে ইজিবাইকসহ ধীরগতির বিভিন্ন যান চলাচল বন্ধ করলেও আমদানি বন্ধ করেনি। আবার নসিমন-করিমন-ভটভটি নিবন্ধন ছাড়া মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়ালেও কর্তৃপক্ষ না দেখার ভান করেছে এমন অভিযোগ পুরোনো। ২০১০ সালে এগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর তা বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মন্ত্রণালয় তৎপর হলে সাধারণ মানুষকে এখন এত  দুর্ভোগে পড়তে হতো না। অথচ সড়কে নির্দিষ্ট গতিতে যান চলাচল নিশ্চিত করতে ধীরগতির যান উচ্ছেদের কোনো বিকল্প নেই।

মাঝেমধ্যে ঘটা করে অননুমোদিত যান চলাচল বন্ধের অভিযান চললেও সেটির সুফল পাওয়া যায়নি। নইলে মহাসড়ক থেকে ধীরগতির যান চলাচল বন্ধের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হলেও এসব যান মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কীভাবে? সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিরা একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কখনোই সমন্বয় রক্ষা করা হয়নি। তাদের আগ্রহও যেন কম। ২০১৭ সালে আইন করে মহাসড়কে এসব যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। আইন করার পর হাইকোর্টও এক আদেশে এসব যান চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে পুলিশকে কিছু নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো নিষেধাজ্ঞাই কার্যকর হয়নি। সংঘবদ্ধ চক্রের কারণে বরাবরই ভেস্তে গেছে সরকারের উদ্যোগ।

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মুন্সীগঞ্জ জেলা শহর ও শহরতলির প্রায় সব সড়ক এখন ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মিশুকের দখলে। মুন্সীগঞ্জ ও মীরকাদিম পৌরসভায়ই রয়েছে এসব যান তৈরির পাঁচ শতাধিক কারখানা। অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে গড়ে উঠেছে কারখানাগুলো। এর আগে খবর প্রকাশিত হয়েছে, জেলার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও মিশুকসহ এ-জাতীয় যানবাহনের পেছনে। অর্থমূল্যে হিসাব করলে বছরে প্রায় ১৮ কোটি টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে।

ধীরগতির এসব যান মহাসড়কে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল করে। জনস্বার্থে এসব যান চলাচল হয়তো পুরোপুরি বন্ধ করা উচিত হবে না। কিন্তু একটি নিয়মের মধ্যে আনা উচিত। মাসোয়ারা নিয়ে এসব যান চলাচলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশ্ন হলো, শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যানবাহনের সরকারি অনুমতিপত্র নেই, নেই পরিবেশ ছাড়পত্রও। অননুমোদিত এসব যান চলাচল বন্ধে অভিযান চালানো উচিত। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যেতে পারে।

ব্যাটারিচালিত এসব যানের ব্যাটারি চার্জ দেয়ার জন্য গ্যারেজ তৈরি করে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহায়তায় অবৈধভাবে বিদ্যুতের সংযোগ নেয়া হয়। সংযোগ দিতে এখানে লাখ লাখ টাকা লেনদেন হয়। ফলে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারায় সরকার। অবৈধ সংযোগের কথা স্বীকার করে বিদ্যুৎ চুরির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়ার কথা বলেছেন কর্মকর্তারা। সেটি সময়সাধ্য বিষয়। তাই আগে অবৈধ সংযোগ চিহ্নিত করে সেগুলো বিচ্ছিন্ন করা উচিত। শুধু বিদ্যুৎ অফিস নয়, ট্রাফিক পুলিশ, প্রশাসন, পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ও জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরে মাসোয়ারা দিতে হয়। সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়া হলে ব্যাটারিচালিত রিকশা, মিশুক প্রভৃতির অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..