সম্পাদকীয়

অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানকেই ওষুধ বিক্রির সুযোগ দিন

চিকিৎসার প্রথম ধাপ ওষুধ। মানসম্মত ওষুধ উৎপাদন, বিপণনে যতœশীল ও সতর্ক থাকতে হয়। আমাদের দেশ জনসাধারণের জন্য সহজে ও ক্রয়সাধ্য মূল্যে নিরাপদ, কার্যকর ও মানসম্পন্ন ওষুধ নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় ওষুধনীতি প্রণয়নসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। ওষুধ বিতরণ, বিক্রয় ও গুদামজাতকরণ বিষয়ে জাতীয় ওষুধনীতিতে বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘পেশাগত যোগ্যতা অর্জন অথবা বৈধ পেশাগত লাইসেন্সধারী ব্যতীত কোনো ব্যক্তিকে ওষুধসমূহ মজুদ, বিতরণ বা বিক্রয়ের জন্য অনুমতি প্রদান করা উচিত নয়। সব পর্যায়ে ওষুধ পরিদর্শকরা কর্তৃক ওষুধের মান নিয়মিত যাচাইকরণ করার মাধ্যমে খুচরা বিক্রয় বা বিতরণ কেন্দ্রসমূহে এবং গুদামজাতকৃত ওষুধসমূহের মান ও নিরাপত্তা সংরক্ষণ নিশ্চিত করা উচিত।’ 

‘নোয়াখালীতে ট্রেড লাইসেন্স দিয়েই চলছে শত শত ফার্মেসি’ শীর্ষক যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে, তা পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে। 

আমাদের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, নোয়াখালীর বিভিন্ন বাজারের অলিগলিতে শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে অনেকেই ফার্মেসি খুলে বসেছেন। অভিযোগ উঠেছে, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক, নিষিদ্ধ, নকল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিন্মমানের ওষুধ বিক্রি করছে এসব ফার্মেসি।

ওষুধ আর দশটি নিত্যপণ্যের মতো নয়। একটু অসতর্কতায় জীবনরক্ষাকারী ওষুধ প্রাণঘাতী হতে পারে। বিক্রয় ও বিপণনে সতর্ক নজরদারি প্রয়োজন। আজকাল মুদি দোকানেও প্যারাসিটামল, ইসমোপ্রাজল প্রভৃতি ওষুধ বিক্রি হয়। তাই বলে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া ওষুধের ব্যবসা পরিচালনা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। 

জবাবদিহি ও নজরদারি না থাকায় অনুমোদনহীন ফার্মেসিগুলো নকল, ভেজাল ও মানহীন ওষুধ বিক্রি করতে পারে। অনেক সময়ে ফার্মেসি মালিকের পরামর্শে ওষুধ কেনে সাধারণ মানুষ। ফলে সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে ক্রমেই জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

ওষুধনীতিতে বলা হয়েছে, পেশাগত যোগ্যতা অর্জন, অথবা বৈধ পেশাগত লাইসেন্সধারী ব্যতীত কোনো ব্যক্তিকে ওষুধসমূহ মজুদ, বিতরণ বা বিক্রয়ের জন্য অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। কিন্তু অপেশাদার লোকজনই ফার্মেসি খুলে বসেছে। এর প্রতিকারে ওষুধনীতি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। অনুমোদন প্রক্রিয়ায় জটিলতার কথা বলেছেন ব্যবসায়ীরা, সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে অনুমোদিত খুচরা বিক্রেতাদের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। সে বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা গেলে অনুমোদনবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি কমে যাবে। ভেজাল ও মানহীন ওষুধে বেশি কমিশন দেওয়া হচ্ছে। এতে জনস্বাস্থ্য যেমন ঝুঁকিতে পড়ে, তেমনই ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলো। ওষুধ শিল্প সমিতিকেও দায়িত্ব নিতে হবে। সমস্যাটি কেবল নোয়াখালী জেলার নয়, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও ওষুধ শিল্প সমিতির সমন্বিত কার্যক্রমে সারা দেশেই মানসম্পন্ন ওষুধ নিশ্চিত করা সম্ভব।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..