দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

অনেক চিকিৎসক আয়ের এক-চতুর্থাংশ দেখান না

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে প্রায় ৮০ হাজার চিকিৎসক রয়েছে। এর মধ্যে অনেক চিকিৎসক তাদের আয়ের এক-চতুর্থাংশ আয়কর ফাইলে দেখান না। বাজেটে এ বিষয়ে নির্দেশনা থাকবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। গতকাল এনবিআর সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ) নেতাদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা জানান।
সভায় বিপিএমসিএ’র পক্ষ থেকে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের আয়ের ওপর কর অব্যাহতি, ইকুইপমেন্ট আমদানিতে শুল্ককর অব্যাহতিসহ বাজেটে বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতের জন্য নির্দেশনা রাখার প্রস্তাব করা হয়।
যেসব চিকিৎসক সঠিকভাবে কর দিচ্ছে না এবং যারা মোটেও দেয় না তাদের করের আওতায় আনতে আগামী বাজেটে কি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে এনবিআর বলেন, ‘করের ক্ষেত্রে সব পেশাজীবী যেমন ডাক্তাররা একই রকম। ডাক্তাররা তো আলাদাভাবে ট্যাক্স প্রদান থেকে মাফ পাবে না। প্রশ্ন করতে পারেন অনেক সময় ডাক্তাররা যে প্রাইভেট প্র্যাকটিজ করে বা ভোর রাত পর্যন্ত অনেক রোগী দেখে অনেকে-সেগুলোর ওপর ট্যাক্স আদায় করি কি না? যারা ট্যাক্স দেয় তাদের বেশিরভাগেই স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে দেয়। এটা অনেক সময় তাদের নীতি-নৈতিকতার ওপর নির্ভর করে। অনেক ডাক্তার আছে যারা তার পুরো ইনকামই দেখায়। আবার অনেকে আছে টোটাল ইনকামের ওয়ান-ফোর্থ দেখায় না। কাউকে আমরা ধরতে পারি, কাউকে পারি না। তবে আমরা ডাক্তার, আইনজীবীসহ অন্যান্য পেশাজীবীদের কাছে একটা অনুরোধ রাখব তারা যেন নৈতিকতা মেনে চলে। বাজেট বক্তৃতায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’
সভায় বিটিএমসিএ সভাপতি এমএ মুবিন খান বলেন, এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে স্বাস্থ্য খাতে সরকারের পাশাপাশি প্রায় ৬৭টি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল অবদান রাখছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে এক লাখ ৬০ হাজার চিকিৎসক প্রয়োজন। এ মুহূর্তে রয়েছে ৮০ হাজারের মতো। সংখ্যায় ৮০ হাজার হলেও বাস্তবে তা অনেক কম। বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ বিজনেস বা জেনারেল হাসপাতালের মতো নয়। এসব হাসপাতাল মূলত ‘টিচিং হসপিটাল’। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। সে অনুযায়ী, এসব মেডিক্যালে ২৫ শতাংশ রোগী বাধ্যতামূলকভাবে বিনা মূল্যে চিকিৎসা দিতে হয়। শিক্ষার্থীরা রোগী নিয়ে প্র্যাকটিজ করে। সে কারণে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্কয়ার, এ্যাপোলোর মতো না।
তিনি বলেন, ২০১১ সালের আগ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো ট্যাক্স-ভ্যাট ছিল না। ২০১১ সালের পর আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ করারোপ করা হয়। অলাভজনক বলে করারোপ নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ভালো চিকিৎসক তৈরি করতে গেলে ভালো টিচার ও ইকুইপমেন্ট দরকার। গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত ও ভালো চিকিৎসক তৈরির স্বার্থে এ কর অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি।
সংগঠনের উপদেষ্টা ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৬৫ শতাংশ অবদান রাখছে বেসরকারি মেডিক্যাল ও হাসপাতাল। বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে প্রতি বছর ছয় হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হয়, ছয় হাজার চিকিৎসক তৈরি হয়। যেখানে সরকারি মেডিক্যাল থেকে বের হয় মাত্র সাড়ে তিন হাজার চিকিৎসক। এসব চিকিৎসক দেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখে। সরকারি ৫০ শতাংশ মেডিক্যাল কলেজে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। আমাদের শিক্ষকরা গিয়ে লেকচার দেন, পরীক্ষা নেন। সীমাবদ্ধতার পরও আমরা উন্নত শিক্ষার পরিবেশ ও গুণগত মান নিশ্চিত করার চেষ্টা করি। মেডিক্যাল শিক্ষার ক্ষেত্রে ইকুইপমেন্ট আমদানিতে ২২-২৫ শতাংশ শুল্ককর দিতে হয়; যা শূন্য করে দেওয়া হলে ভালো শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।
সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রীতি চক্রবর্তী বলেন, মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট, অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসকের পরিবহনে গাড়িসহ অন্যান্য খাতে খরচ কমাতে পারলে শিক্ষার্থীদের গুণগত শিক্ষা ও রোগীদের কমমূল্যে চিকিৎসা দিতে পারব। লাইফ সেভিং মেশিন মোট ইকুইপমেন্টের মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশ; যার আমদানি শুল্ককরমুক্ত। বাকি ৭৫ শতাংশ ইকুইপমেন্ট বড় বড়। সে জন্য রেফারেল হাসপাতালের ন্যায় ৭৫ শতাংশ ইকুইপমেন্ট, অ্যাম্বুলেন্স, পরিবহন আমদানি শুল্ককর প্রত্যাহার, কলেজের জমি ক্রয়ে করমুক্ত সুবিধা, মেডিক্যাল কলেজ ভাড়ার ওপর ভ্যাট চার শতাংশ করার সুপারিশ করেন তিনি। একই সঙ্গে আগামী বাজেটে বেসরকারি হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজের উন্নয়নে নির্দেশনা রাখার দাবি জানান তিনি।

সর্বশেষ..