প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

অনেক নাটকের পর তিন ফরম্যাটে মুস্তাফিজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক: গত কদিন ধরেই চলছে আলোচনা। মুস্তাফিজুর রহমান নিজেও ছিলেন দ্বিধায়।  টেস্ট ক্রিকেট খেলা তো ছেড়েই দিতে চেয়েছিলেন এই পেসার। কিন্তু শেষ অব্দি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চাপাচাপিতে সিদ্ধান্ত বদলাতেই হচ্ছে। প্রায় দেড় বছর পর সাদা পোশাকের দলে ফিরলেন মুস্তাফিজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাকে রেখেই টেস্ট দল গঠন করেছে বোর্ড।

বলা যায়, দ্য ফিজকে একপ্রকার বাধ্য করল বিসিবি। অবশ্য দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামের ইনজুরি বিপাকে ফেলে দিয়েছে। এ অবস্থায় উইন্ডিজের মতো দেশে সফরে পেসার তো চাই। বাধ্য হয়েই তাই মুস্তাফিজকে রাজি করাল বোর্ড।

সমালোচনা আর কথা এমনই হচ্ছিল যে, এতে স্পষ্ট হাসিমুখে রাজি হননি মুস্তাফিজ। ক্যারিয়ার লম্বা করতে টি- টোয়েন্টি আর ওয়ানডেতেই চোখ তার। এ কারণে টেস্টের প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি বলেছিলেন, ‘দেখুন, টেস্ট খেলতে চাই কি চাই না, এ নিয়ে ক্রিকেট বোর্ড জানতে চাইলে তাদের নিজের ভাবনা জানাব। বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে দলের বড় ভাইয়েরা বিসিবি সভাপতির সঙ্গে কথা বলেন। প্রয়োজনে আমিও বলব। আমি লম্বা সময় ধরে বাংলাদেশকে সার্ভিস দিতে চাইলে ফিট থাকাটা জরুরি। এজন্য তিন ফরম্যাটের মধ্যে বেছে বেছে খেলাটাই সেরা উপায়।’

কিন্তু সেটা আর পারলেন কোথায়? ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে খেলতে হতে পারে তিন ফরম্যাটেই। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই টেস্ট খেলায় কিছুটা অনীহা দ্য ফিজের। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক ২০১৫ সালে। তারপর বাঁহাতি এই পেসার মাত্র ১৪ টেস্ট খেলেছেন। সবশেষ খেলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এবার লাল বলের চুক্তিতেও নেই এই পেস বোলার। বিসিবিকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, ক্রিকেটের এই অভিজাত ফরম্যাটে খেলতে চান না তিনি।

আগামী ৫ জুন দুই টেস্ট, তিন ওয়ানডে ও তিন টি-টোয়েন্টি খেলতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। সেখানে টেস্ট সিরিজের দুই ম্যাচ হবে ১৬ ও ২৪ জুন। প্রথম টেস্টের ভেন্যু অ্যান্টিগা। আর দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে সেন্ট লুসিয়ায়।

টি-টোয়েন্টি সিরিজের তিনটি ম্যাচ ২, ৩ ও ৭ জুলাই। প্রথম দুই ম্যাচ হবে ডমিনিকায়, শেষ ম্যাচ হবে গায়ানায়। সেখানেই আগামী ১০, ১৩ ও ১৬ জুলাই তিন ওয়ানডে।

উইন্ডিজ সফরে বাংলাদেশ টেস্ট দল : মুমিনুল হক (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, মাহমুদুল হাসান জয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাকিব আল হাসান, লিটন কুমার দাস, মোসাদ্দেক হোসেন, ইয়াসির আলি চৌধুরী, তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ, ইবাদত হোসেন চৌধুরী, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, রেজাউর রহমান রাজা, শহিদুল ইসলাম, নুরুল হাসান সোহান, মুস্তাফিজুর রহমান।

ওয়ানডে দল : তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাকিব আল হাসান, ইয়াসির আলি চৌধুরী, মাহমুদউল্লাহ, আফিফ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, শরিকুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, ইবাদত হোসেন, নাসুম আহমেদ, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, এনামুল হক।

টি-টোয়েন্টি দল : মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), মুনিম শাহরিয়ার, লিটন দাস, এনামুল হক, সাকিব আল হাসান, আফিফ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, ইয়াসির আলি চৌধুরী, মেহেদি হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।