পাঠকের চিঠি মত-বিশ্লেষণ

অন্ধকার কেটে যাবে আলো আসবে ফিরে

তন্দ্রাচ্ছন্ন পৃথিবী, চারদিকে মৃত্যুর ঘণ্টা বাজছে, থামছে না মৃত্যুর মিছিল, নিথর নিস্তব্ধ পুরো পৃথিবী। মানুষ কি কখনও প্রস্তুত ছিল এমন পরিস্থিতির জন্য? না কখনওই প্রস্তুত ছিল না। সর্বত্র কেউ ভালো নেই, সবদিকে ছড়িয়ে পড়েছে কভিড-আতঙ্ক। জীবন-মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছে মানুষ। যেভাবে ধীর গতিতে কভিড বিশ্বময় ছড়াচ্ছিল, মানুষ হয়তো ভেবেছিল এটা তো ঠুনকো মহামারি, কদিন পরেই আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে পৃথিবী। মাঝে কিছুদিন কভিড সংক্রমণ কিছুটা কমেছিল। কিন্তু সম্প্রতি আবার কভিডের সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়। সামনে শীতের সময় কভিড আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ডাক্তার, কভিড টেস্ট, প্রতিষেধকÑকোনো কিছুই এখন পর্যন্ত ৫০ শতাংশও সফল হতে পেরেছে বলে মনে হয় না। পৃথিবীর নামকরা চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা দিনরাত গবেষণা করেও এখন পর্যন্ত কভিডের কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে পারেননি। মানুষ সাধারণত করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য প্রাথমিকভাবে মাস্ক ব্যবহার করছে, কিন্তু মাস্ক দিয়ে এই ক্ষুদ্র জীবাণুর আক্রমণের মাঝে প্রতিবন্ধকতা কীভাবে তৈরি করা যাবে আমার বোধোদয় হয় না। আইইডিসিআর জানিয়েছে, সাধারণ মাস্ক কিংবা সার্জিক্যাল মাস্ক দিয়ে এই ক্ষুদ্র জীবাণুকে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। কারণ এই ক্ষুদ্র জীবাণুটি মাস্কের মধ্য দিয়েও শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

সুতরাং এই প্রাণঘাতী ভাইরাস থেকে বাঁচতে হলে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। মহামারি যত দিন চলমান থাকবে তত দিন মানুষকে হতে হবে কিছুটা আত্মকেন্দ্রিক। অর্থাৎ আমার আমিকেই বেশি সময় দিতে হবে, আমাকেই বেশি ভালোবাসতে হবে। পাড়া-প্রতিবেশীর মাঝে হয়তো বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে তার সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব তৈরি হওয়ার কারণে। কিন্তু বাস্তবতা খুবই কঠিন ও তিক্ত, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই চলতে হবে। আমরা সবাই স্বাভাবিক মৃত্যু চাই, কভিডের জাঁতাকলে পিষ্ট হতে চাই না। আমরা সবাই আমাদের জীবনকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। জীবনকে ভালোবাসি বলেই জীবনের মায়া ত্যাগ করতে পারি না।

এই মহামারি আমাদের কর্মের ফল, প্রকৃতির পক্ষ থেকে আমাদের প্রতি নীরব প্রতিশোধ। আমরা যান্ত্রিকতার প্রতিযোগিতায় নেমে পুরো পৃথিবীটাকে দূষিত করে ফেলেছি। অক্সিজেন হ্রাস পেয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডের দূষণে পৃথিবী নরকে পরিণত হচ্ছে। আমরা অস্বাভাবিক জীবনাচরণে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি, তাই প্রকৃতিও প্রতিশোধ নিতে শুরু করেছে।

আশায় বুক বেঁধে আছে বিশ্ববাসীÑএকদিন আবার শান্ত হবে পৃথিবী। অশান্ত কোলাহল ছেড়ে শান্তির সুশীতল ছায়ায় আবার বসত গড়বে মানুষ। কভিড পৃথিবীর অকৃতজ্ঞ মানুষগুলোকে শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন, কভিড থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে আমাদের; আর অপেক্ষা করতে হবে সুদিনের জন্য। কভিডের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। অন্ধকার কেটে গিয়ে আলো আসবে ফিরে। কোলাহল ভেঙে সব মানুষ ফিরবে নীড়ে। সবাই গাইবে আবার সাম্যের জয়গান নষ্ট নীড়ে পৃথিবী আবার ফিরে পাবে প্রাণ।

সাইফুল বিন শরীফ

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..