অপরিচালন আয় বাড়ায় পেনিনসুলার ইপিএস বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০২১) কভিড-১৯ মহামারির কারণে দি পেনিনসুলা চিটাগং লিমিটেডের মূল ব্যবসা ব্যাহত হয়, কিন্তু অপরিচালন আয় দুই কোটি ৫৭ লাখ ৩৫ হাজার ৬৪৩ টাকা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। একইসঙ্গে বর্তমানে করহার আড়াই শতাংশ কমে সাড়ে ২২ শতাংশে এসেছে, যার ফলে কোম্পানিটির প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) আগের বছরের তুলনায় চার পয়সা বা ১৪ দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০২১) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৭ পয়সা।

২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৩০ টাকা ৫৯ পয়সা। অন্যদিকে এ সময়ে আগের বছরের তুলনায় গ্রাহকের কাছ থেকে নগদ প্রাপ্তি অর্থ ৮০ লাখ ১০ হাজার ২৫ টাকা কমেছে, ফলে নগদ অর্থপ্রবাহ কমেছে। প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে পাঁচ পয়সা (লোকসান)।

সম্প্রতি কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ৩০ জুন, ২০২১ সমাপ্ত হিসাববছরের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪১ পয়সা। ৩০ জুন, ২০২১ শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৩০ টাকা ২৮ পয়সা। এছাড়া এই হিসাববছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ৯৩ পয়সা। ঘোষিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের সম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য আগামী ১৩ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে কোম্পানিটি ৩০ জুন ২০২০ সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবদেন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৩০ টাকা ৮৭ পয়সা। আর শেয়ার প্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে ৬৯ পয়সা।

কোম্পানিটি ২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ৩০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ১১৮ কোটি ৬৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ১৪২ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

কোম্পানিটির মোট ১১ কোটি ৮৬ লাখ ৬৬ হাজার ৮০০ শেয়ার রয়েছে। ডিএসই’র সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ৪৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ১৪ দশমিক ২৪ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীর কাছে শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ৩৯ দশমিক ৭২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

এদিকে গতকাল ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর পাঁচ দশমিক ৩৪ শতাংশ বা এক টাকা ৮০ পয়সা কমে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ৩১ টাকা ৯০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল ৩১ টাকা ৯০ পয়সা। দিনভর কোম্পানিটির ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৮৩২টি শেয়ার মোট ৭৫৩ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর চার কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ওই দিনভর শেয়ারদর সর্বনিম্ন ৩১ টাকা ৪০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৩৩ টাকা ৩০ পয়সায় ওঠানামা করে। এক বছরের মধ্যে শেয়ারদর ১৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৩৬ টাকা ৫০ পয়সায় ওঠানামা করে।

সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজার দরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাতে ৬৩৮ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ২৫ দশমিক ৭৩।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯৪৬  জন  

সর্বশেষ..