প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

অপরিচ্ছন্ন থাকলে হতে পারে চর্মরোগ

 

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলে শরীর ও মন ভালো থাকে। আর অপরিচ্ছন্ন থাকলে শরীরে নানা রোগ বাসা বাঁধে। দেখা দেয় চর্মরোগ, যা আপনার জীবনকে বিষিয়ে তুলতে পারে। চর্মরোগের খুঁটিনাটি নিয়ে লিখেছেন শারমীন জাহান

অপরিচ্ছন্নতা থেকে দেখা দেয় চর্মরোগ। পাঁচড়া, খুজলি, দাদ এগুলোর মধ্যে অন্যতম। জেনে নিন রোগগুলো কেন হয় এবং এ থেকে বাঁচার উপায়ঃ

 

চর্মরোগ একটি সাধারণ সমস্যা। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না থাকার ফলে কিংবা অপরিসর-ঘনবসতিপূর্ণ স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের কারণে সমস্যাগুলো প্রকট আকার ধারণ করে। চর্মরোগ ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও ভাইরাস দ্বারাও হতে পারে। তবে চর্মরোগগুলোর মধ্যে পাঁচড়া, খুজলি ও দাদ সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে।

পাঁচড়া

রোগটি বিশেষত শিশুদের ত্বকে বেশি হয়। শিশুর হাতের আঙুলের মাঝখানে, তালুর আশপাশে, যৌনাঙ্গ, রানের মাঝখানে, কোমরের চারপাশে এবং শরীরের যে কোনো অংশে ছোট ছোট দানার মতো হয়ে থাকে। এ সময় আক্রান্ত স্থানে প্রচুর চুলকানি অনুভূত হয়। কিন্তু ওষুধ বা প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে চুলকালে বিপত্তি দেখা দেয়। পাঁচড়া থেকে পুঁজ বের হয়ে ছড়িয়ে গেলে পাশের জায়গাগুলোও আক্রান্ত হয়। এতে চুলকানি অন্য জায়গায় ছড়িয়ে যায়। দ্রুত এর চিকিৎসা না করালে ক্ষত তৈরি করতে পারে।

খুজলিঃ

এটি বিশেষত আঙুলের মাঝখানে হয়। আঙুলের মাঝখানে দানার মতো হয়ে যায় এগুলো। যৌনাঙ্গেও খুজলি হয়ে থাকে। এছাড়া শরীরের যে কোনো অংশে হতে পারে রোগটি। আক্রান্ত স্থানটি ভীষণ চুলকায়। চুলকালে জ্বালা হয় এবং পুঁজ বের হয়। এছাড়া জীবাণুযুক্ত পানি বের হয় খুজলি থেকে, যা রোগটিকে আশপাশের স্থানে ছড়িয়ে দেয়।

দাদঃ

মানব শরীরের যে কোনো স্থান ফাংগাস দ্বারা আক্রান্ত হলে তাকে দাদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এটি মাথার চামড়া থেকে শরীরের যে কোনো স্থানে হতে পারে। প্রথমে এক জায়গায় রোগটি বাসা বাঁধে। ধীরে ধীরে তা চাকার মতো গোলাকার হয়ে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগটি প্রচণ্ড ছোঁয়াচে।

চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রধানত এ রোগটি হয়ে থাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না থাকার কারণে। পরিধেয় পোশাক-পরিচ্ছদ পরিষ্কার রাখলে এবং নিয়মিত গোসল করলে সমস্যাগুলো থেকে অনেকাংশে মুক্ত থাকা যায়। তবে এরপরও রোগগুলোয় আক্রান্ত হতে পারেন যে কেউ। এ জন্য কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। যারা পাঁচড়া ও খুজলিতে আক্রান্ত, তাদের আলাদা রাখা, দূষিত পুকুরে গোসল করতে না দেওয়া, নখ ছোট করে কেটে দেওয়া, গামছা, বিছানা ও বালিশ সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। রোগগুলো সেরে গেলে রোগীর ব্যবহার করা সবকিছু ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। আক্রান্ত রোগীকে প্রতিদিন গরম পানিতে গোসল করাতে হবে। এ সময় যদি নিমপাতাসহ সেদ্ধ করা পানি দিয়ে গোসল করা যায়, তাও বেশ ভালো কাজে দেবে।

এছাড়া দাদের ক্ষেত্রে ক্ষতস্থান প্রতিদিন সাবান এবং গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তিকে রাখতে হবে পরিষ্কার ও শুষ্ক। ফাংগাস আক্রান্ত ছেলেমেয়েদের অন্য সুস্থদের সঙ্গে মেলামেশা করতে দেওয়া অনুচিত। কেননা, এগুলো ছোঁয়াচে রোগ। আক্রান্তদের পোশাক-পরিচ্ছদ, ব্যবহৃত জিনিসপত্রর মাধ্যমে এ রোগ ছড়াতে পারে। তাই এগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার না করে ব্যবহার করা উচিত নয়। রোগগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা অবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শে চিকিৎসা নিলে দ্রুত আরোগ্য লাভ সম্ভব।