বিশ্ব বাণিজ্য

অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে এক শতাংশ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: টানা দুই দিন কমার পর শুক্রবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এক শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা পর্যায়ে বিক্রির তথ্য প্রকাশের পর তেলের দাম বৃদ্ধি পায়। এর মাধ্যমে জ্বালানি তেলের বাজারে উদ্বেগও কমেছে। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি তিন শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। খবর: রয়টার্স।
শুক্রবারের লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যরেলপ্রতি ৬৮ সেন্ট বা এক দশমিক দুই শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৮ ডলার ৯১ সেন্টে পৌঁছায়। অথচ গত বৃহস্পতিবার এক দশমিক চার শতাংশ এবং বুধবার তিন শতাংশ কমে যায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম।
অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৩ সেন্ট বা এক দশমিক দুই শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৫ ডলার ১০ সেন্টে গিয়ে পৌঁছায়। বৃহস্পতিবার এক দশমিক চার শতাংশ ও
বুধবার তিন দশমিক তিন শতাংশ কমেছিল এ ধরনের জ্বালানি তেলের দাম।
প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রির পরিমাণ জুলাইয়ে দশমিক সাত শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময় গাড়ি ক্রয়ের পরিমাণ কমলেও অন্যান্য পণ্যের ক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে জ্বালানি তেলের বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে।
এক সপ্তাহ ধরে প্রকাশিত কিছু তথ্য অনিশ্চয়তা তৈরি করে। বিশেষত চীনের শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি অপ্রত্যাশিতভাবে ১৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে পৌঁছানো এবং রফতানি কমার কারণে দ্বিতীয় প্রান্তিকে জার্মানির অর্থনীতির নিম্নমুখী ধারা এতে মূল ভূমিকা রাখে। ফলে মন্দাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে পারে বলে আশঙ্কা করছিলেন সংশ্লিষ্টরা।
অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ফিন জেইবেল বলেছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থান এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে অথবা দুর্বল হতে যাচ্ছে। ফলে প্রত্যাশাও ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে।
অবশ্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম চলতি বছর এখন প্রায় ১০ শতাংশ বেশি রয়েছে। জ্বালানি তেল উত্তোলক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক এবং রাশিয়ার মতো এর সহযোগী দেশগুলোর তেল উত্তোলন কমিয়ে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত এতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। গত জুলাইয়ে ওপেক ও অন্য দেশগুলো সিদ্ধান্ত নেয় ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের উত্তোলন কমানো হবে। দামে ভারসাম্য আনতে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সংস্থাটি।
জেইবেল বলেছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ওপেক ও রাশিয়াকে তেলের উত্তোলন আরও কমাতে হতে পারে, যাতে সবকিছু ঠিকভাবে চলতে পারে। গত ৮ আগস্ট সৌদি আরবের একজন মুখপাত্রও আরও পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, আগামী বছর বাজার স্থিতিশীল রাখতে যা যা করার প্রয়োজন হবে, তার সবই করবে সৌদি আরব।
তবে ওপেকের প্রচেষ্টা বৈশ্বিক অর্থনীতির উদ্বেগকে ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষত চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার বেক্সিট প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার মতো ব্যাপার রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুডের মজুত ক্রমেই বৃদ্ধি পাওয়া এবং দেশটির শেল অয়েলের বাড়তি উত্তোলনও এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।

সর্বশেষ..