দুরে কোথাও

অপরূপ বান্দরবান বারবার যেতে চায় মন

বান্দরবান। প্রকৃতির কন্যা নামে খ্যাত। এর সম্পদ মূলত পাহাড় ও হ্রদ। পাহাড়ে উঠলে অনুভব হয়, এ যেন নীল মেঘের দেশ। ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না। কেবল অনুভব করা যায়। আঁকাবাঁকা সর্পিল রাস্তাগুলো যেন পথ আগলে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিশালাকার একেকটি পাহাড়ে ওঠার জন্য। তবু নৈসর্গিক নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্যের অবতারণা হলে অজান্তে কিছুটা ভয়ও কাজ করে। যেন এক্ষুনি পড়ে যাচ্ছি একেবারে তলদেশে।
পাহাড়ি ও বাঙালিসহ ১১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ বসবাস বান্দরবানে। তাদের পাশাপাশি প্রকৃতির এ অপার সৌন্দর্য যে কোনো পর্যটককে কাছে ডাকে যখন-তখন। তাই প্রতি বছর শীত ও ঈদের ছুটিতে প্রকৃতির কন্যা বান্দরবানের সৌন্দর্য দেখতে হাজারো পর্যটক ছুটে আসেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে।
সম্প্রতি পর্যটকের ব্যাপক সমাগম না হলেও পর্যটন কেন্দ্রগুলোয় দেখা গেছে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে বেড়াচ্ছেন নীলগিরি থেকে নীলাচল। কেউবা ছুটছেন কেওক্রাডংয়ের খোঁজে। এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে। এখানে রয়েছে অসংখ্য ঝিরি-ঝর্ণা, মেঘলার লেক, নজরকারা স্বর্ণমন্দির, নীলাচল, নীলগিরি, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক, বগালেক, রেমাক্রি, নাফাকুম, বড়পাথরসহ সরকারি-বেসরকারি অনেক পর্যটনকেন্দ্র। চাঁদের গাড়িতে করে পর্যটকরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন এসব পর্যটনকেন্দ্রে। কেউবা মাইক্রোবাসে চড়ে।
কক্সবাজার থেকে বেড়াতে এসেছেন রেজাউল করিম। পেশায় স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘আমি এবারসহ দুবার বান্দরবানে বেড়াতে এসেছি। প্রথমবার আসার পর আবারও আসার সিদ্ধান্ত নিই। আসলে এখানে বারবার আসতে ইচ্ছে করে। এখানের পাহাড়ি ঝরণা ও উঁচু-নিচু পাহাড়, পাহাড়ের ওপর ভেসে বেড়ানো মেঘ সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে যায়। তিনি যোগ করেন, দেশের এমন অপরূপ সৌন্দর্য রেখে যারা বিদেশে ভ্রমণ করতে যায়, তারা নিতান্তই হৃদয়শূন্য মরুভূমিতে চড়ে বেড়ানো মানুষ। এখানে না এলে বুঝতে পারতাম না যে, বাংলাদেশ কত সুন্দর। তবে এ সময়ে পর্যটন কেন্দ্রগুলোয় সৌন্দর্যপিয়াসু মানুষ দেখা গেলেও হোটেল-মোটেলগুলোয় তেমন ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি।
বান্দরবান শহরের একটি আবাসিক হোটেলের ব্যবস্থাপক জানে আলম বলেন, গত রমজানের ঈদের ছুটিতে যে পরিমাণ পর্যটক আসার কথা ছিল, সে পরিমাণ পর্যটক আসেনি। বেশিরভাগ হোটেলের সব কক্ষ বুকিং হয়নি তখন। তিনি মনে করেন, পাহাড়ের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে এ বছর পর্যটক সমাগম কিছুটা কম হয়েছে। সরকারকে এ অঞ্চলের শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় আরও নজর দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন তিনি। বলেন, বান্দরবানের পর্যটনভিত্তিক প্রচারণা দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও বাড়ানো দরকার।
বান্দরবানের একজন সাংবাদিক বলেন, এখানে বেশিরভাগ সময় আশেপাশের এলাকা থেকে ঘুরতে আসেন বিভিন্ন পেশাজীবীরা। অনেকে পর্যটন স্পটগুলো ঘুরে রাত যাপন না করে চলে যান।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, পর্যটকরা যাতে নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারেন সে লক্ষ্যে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ট্যুরিস্ট পুলিশ রয়েছে। তারা সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে। আর এখানে এসে কোনো পর্যটক যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব সদস্য সজাগ রয়েছেন।

আকাশ মো. জসিম, নোয়াখালী

 

সর্বশেষ..