মত-বিশ্লেষণ

অপুষ্টির চিকিৎসা না করলে প্রভাব স্থায়ী হতে পারে

সময়মতো শিশুদের অপুষ্টির চিকিৎসা করা না হলে শিশুদের ওপর তার স্থায়ী প্রভাব পড়তে পারে এবং এতে করে শিশুর মারা যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। শিশুদের জীবনের প্রথম দুই বছর পুষ্টিহীনতা থেকে তার শারীরিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের যে ক্ষতি হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা স্থায়ী হয়।

সম্পদ যেখানে অত্যন্ত সীমিত এমন পরিবেশে বাস করার পরেও এটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় যে, আশ্রয়শিবিরে বসবাসকারী বাবা-মা এবং সেবাদানকারী তাদের শিশুদের স্বাস্থ্য এবং কল্যাণের ক্ষেত্রে এই অপুষ্টির আজীবন পরিণতি সম্পর্কে জানেন।

মায়েদের এবং প্রাথমিক সেবাদানকারীদের তাদের বাচ্চা এবং অল্প বয়সী শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানো এবং বয়স-উপযুক্ত খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল এই প্রচারাভিযানে। একজন শিশুর হাতের মাঝামাঝি থেকে উপরের অংশ (এমইউএসি) পর্যন্ত কীভাবে পরিমাপ করতে হয় সে বিষয়ে মায়েদের এবং প্রাথমিক সেবাদানকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। একজন শিশুর পুষ্টির অবস্থা সম্পর্কে জানার জন্য হাতের এ পরিমাপ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। ছোট শিশুরা যেন বাড়িতে বসে এ পরীক্ষা করতে পারে তা নিশ্চিত করতে মায়েদের নেতৃত্বে পরিমাপ করার বিষয়টি আশ্রয়শিবিরে চালু করা হয়েছিল। মহামারির কারণে ধারণ ক্ষমতার ওপর চাপ পড়বে বলেই এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল।

আশ্রয় শিবিরগুলোতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার বিস্তার রোধে বিধিনিষেধের কারণে মানবতা কর্মীর সীমিত উপস্থিতি রয়েছে। এ প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে অপুষ্টিতে ভুগছে এমন শিশুদের পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং এসব শিশুদের মধ্যে মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে এমন ২১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি শিশুকে শনাক্ত করা হয়েছিল। এদের মধ্যে সাত হাজারেরও বেশি শিশুকে সম্পূর্ণরূপে নতুন হিসাবে শনাক্ত করা হয়েছিল।

চার বছর বয়সী এক শিশুর মা জাহানারা বেগম বলেন, আমার পরিবার এর আগে করোনাভাইরাস সম্পর্কে জানত না। কমিউনিটির স্বেচ্ছাসেবীরা আমাদের এগুলো বলেছে।

তিনি বলেন, আমার ভালো লাগছে যে, তারা আমার ছেলেকে দেখতে এসেছে। আমি এখন বুঝতে পারছি, আমার ছেলেটি বেশ শক্ত-সমর্থ আছে। যদি সে শক্তিশালী থাকে তবে আমি মনে করি, যে কোনো রোগের বিরুদ্ধে সে যুদ্ধ করতে পারবে।

জাহানারা বেগমসহ এবং আরও অনেকে শুধু ভিটামিন-এ-এর সম্পূরক থেকেই উপকৃত হননি, তারা করোনাভাইরাস সম্পর্কে জীবন রক্ষাকারী তথ্যও পেয়েছেন।

কমিউনিটি পর্যায়ের সচেতনতার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করতে ইউনিসেফ যেমন কাজ করছে; তেমনিভাবে শুধু কভিড-১৯ থেকেই নয় বরং অন্যান্য যে কোনো রোগ থেকে বাঁচার জন্য শিশুরা যেন যথেষ্ট শক্তিশালী থাকে সেটাও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..