Print Date & Time : 17 April 2021 Saturday 2:54 am

অপুষ্টির চিকিৎসা না হলে শিশুর ওপর স্থায়ী প্রভাব পড়বে

প্রকাশ: January 18, 2021 সময়- 11:55 pm

সময়মতো শিশুদের অপুষ্টির চিকিৎসা করা না হলে শিশুদের ওপর তার স্থায়ী প্রভাব পড়তে পারে এবং এতে শিশুর মারা যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। শিশুদের জীবনের প্রথম দুই বছর পুষ্টিহীনতা থেকে তার শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের যে ক্ষতি হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা স্থায়ী হয়।

সম্পদ যেখানে অত্যন্ত সীমিত, এমন পরিবেশে বাস করার পরও এটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় যে, আশ্রয়শিবিরে বসবাসকারী বাবা-মা ও সেবাদানকারী তাদের শিশুদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণের ক্ষেত্রে এই অপুষ্টির আজীবন পরিণতি সম্পর্কে জানেন।

মায়েদের ও প্রাথমিক সেবাদানকারীদের তাদের বাচ্চা এবং অল্প বয়সি শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানো এবং বয়স-উপযুক্ত খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছিল প্রচারাভিযানে। কোনো শিশুর হাতের মাঝামাঝি থেকে ওপরের অংশ (এমইউএসি) পর্যন্ত কীভাবে পরিমাপ করতে হয়, সে বিষয়ে মায়েদের ও প্রাথমিক সেবাদানকারীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল। কোনো শিশুর পুষ্টির অবস্থা সম্পর্কে জানার জন্য হাতের এই পরিমাপ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। ছোট শিশুরা যেন বাড়িতে বসে এই পরীক্ষা করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে মায়েদের নেতৃত্বে পরিমাপ করার বিষয়টি আশ্রয়শিবিরে চালু করা হয়েছিল। মহামারির কারণে ধারণক্ষমতার ওপর চাপ পড়বে বলেই এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল।

আশ্রয়শিবিরগুলোয় করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার বিস্তার রোধে বিধিনিষেধের কারণে মানবতাকর্মীদের সীমিত উপস্থিতি রয়েছে। এই প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে অপুষ্টিতে ভুগছে এমন শিশুদের পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং এসব শিশুর মধ্য মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে এমন ২১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি শিশুকে শনাক্ত করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে সাত হাজারেরও বেশি শিশুকে সম্পূর্ণভাবে নতুন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল।

চার বছর বয়সি এক শিশুর মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘আমার পরিবার এর আগে করোনভাইরাস সম্পর্কে জানত না। কমিউনিটির স্বেচ্ছাসেবীরা আমাদের এগুলো বলেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভালো লাগছে যে, তারা আমার ছেলেকে দেখতে এসেছেন। এ কারণেই আমি এখন বুঝতে পারছি, আমার ছেলেটি বেশ শক্ত-সমর্থ আছে। যদি সে সবল থাকে তবে আমি মনে করি, যে কোনো রোগের বিরূদ্ধে সে যুদ্ধ করতে পারবে।’

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে