দিনের খবর প্রচ্ছদ সারা বাংলা

অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স বছরে দ্বিগুণ

সাইদ সবুজ, চট্টগ্রাম: বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) ভাষ্যমতে, চট্টগ্রামে বাড়ছে অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স। ২০১৮ সালে অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু হয়েছে সাড়ে ১৫ হাজার, যা ২০১৯ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩ হাজার ৮৩৪টিতে। মূলত ২০১৮ সালের শেষদিকে সারা দেশে ছাত্র আন্দোলনের পর থেকে এ চিত্র দেখা যাচ্ছে। এর আগে খুব বেশি তদারকি না হওয়ায় অনেক চালক বিনা লাইসেন্সে গাড়ি চালিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনের কড়াকড়িতে ড্রাইভিং লাইসেন্সের সংখ্যা বাড়ছে।

বিআরটিএ সূত্রে জানা যায়, ছাত্র আন্দোলনের পর থেকে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ও বিআরটিএ অভিযান জোরদার করলে অবস্থার পরিবর্তন হয়। এতে গত বছরের তুলনায় ড্রাইভিং লাইসেন্সের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স বাড়লেও পেশাদার লাইসেন্সের সংখ্যা বাড়েনি। বিপরীতে বিদায়ী বছরে এক হাজার ৭৯১টি পেশাদার লাইসেন্স কম ইস্যু হয়েছে।

বিদায়ী বছরে ৫৮ হাজার ৮২৫টি নতুন লাইসেন্সের মধ্যে মেট্রোপলিটনের বাইরে জেলায় ইস্যু হয়েছে ২৫ হাজার। বাকিটা মেট্রোপলিটনের মধ্যে। এর মধ্যে ২৪ হাজার ৯৯১টি পেশাদার ও ৩৩ হাজার ৮৩৪টি অপেশাদার লাইসেন্স রয়েছে। বিপরীতে ২০১৮ সালে নতুন লাইসেন্স ইস্যু হয়েছিল ৪৯ হাজার ৯৮৪টি। এর মধ্যে পেশাদার ২৬ হাজার ৭৮২টি ও অপেশাদার ১৫ হাজার ৫২১টি। একই সঙ্গে বিআরটিএ’র সারা দেশে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে নতুন লাইসেন্স ইস্যু হয়েছে ছয় লাখ ১৭ হাজার ১৬২টি। অথচ পাঁচ বছর আগে এ সংখ্যা ছিল মাত্র এক লাখ ৯৯ হাজার।

এদিকে অন্য বছরের তুলনায় ফিটনেস নবায়নের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০১৯ সালে জেলা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা মিলে ৬৭ হাজার ৪৪৭ গাড়ির ফিটনেস নবায়ন করেছে বিআরটিএ চট্টগ্রাম। তবে একই বছরের জুলাই মাসে বিআরটিএ’র করা অন্য একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় নিবন্ধিত মোটরযানের ৭০ শতাংশই ফিটনেসখেলাপি। এর মধ্যে পাঁচ বছরের অধিক সময়ের খেলাপি সংখ্যা রয়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশের ওপরে।

আর শুরু থেকে ৩০ জুলাই ২০১৯ পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ফিটনেসখেলাপি মোটরযান রয়েছে ৫১ হাজার ৮৯টিÑযা মোট নিবন্ধিত মোটরযানের প্রায় ৭০ শতাংশ। এছাড়া ২০১৪ পর্যন্ত পাঁচ বছরে ফিটনেসখেলাপি রয়েছে ৩০ হাজার ৯২টি, ২০১৫ পর্যন্ত চার বছরে খেলাপি রয়েছে ২৭ হাজার ৩৪৯টি, ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিন বছরের ফিটনেসখেলাপি রয়েছে ২৪ হাজার ৫৪৮টি, ২০১৭ সাল পর্যন্ত দুবছরের খেলাপি রয়েছে ২০ হাজার ৭৮৫টি এবং ২০১৮ সাল পর্যন্ত এক বছরের ফিটনেসখেলাপি রয়েছে সাড়ে ১৩ হাজার।

১৯৯৬ সাল থেকে জুলাই ২০১৯ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৩৭৯ মোটরযান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় নিবন্ধিত হয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৯ হাজার বড় ট্রাক, প্রায় সাড়ে তিন হাজার ছোট ট্রাক, আট হাজার পিকআপ, ছয় হাজারের অধিক বাস-মিনিবাস, আড়াই হাজারের বেশি প্রাইম মুভার (লরি), তিন হাজার ৭০০ প্রাইভেট জিপ, সাড়ে ২৯ হাজার প্রাইভেট কার, এক হাজারের অধিক মাইক্রোবাস, ৩৮৫টি অ্যাম্বুলেন্স, আড়াইশ টেম্পো, প্রায় সাড়ে চার হাজার হিউম্যান হলার, প্রায় ৩০০ মিনি কাভার্ডভ্যানসহ সাড়ে ছয় হাজার সিএনজি-চালিত অটোরিকশা রয়েছে।

এদিকে সাড়ে ৭৩ হাজার নিবন্ধিত মোটরযানের মধ্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় নিয়মিত গণপরিবহন হিসেবে ৫৫ রুটে বাস-মিনিবাস, হিউম্যান হলার ও অটো টেম্পো চলাচল করছে প্রায় পাঁচ হাজারের অধিক। আর প্রাইভেটকার ও সিএনজি-চালিত অটোরিকশা চলাচলের সঠিক হিসাব না থাকলেও নিবন্ধিত গাড়ির অধিকাংশই নিয়মিত চলাচল করছে বলে বিআরটিএ’র দাবি। তবে এর মধ্যে কিছুসংখ্যক সিএসজি-চালিত অটোরিকশা জব্দ করা হলেও বাকি খেলাপি গাড়িগুলো পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় বহালতবিয়তে রাস্তায় আছে।

তবে গত তিন মাস ধরে বিআরটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। জানা যায়, চার মাস আগে বিআরটিএ’তে দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে পদায়ন করা হলেও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষমতা না পাওয়ায় অভিযান পরিচালনা বন্ধ রয়েছে। এর আগে ৯ মাসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিভিন্ন যানবাহন থেকে এক কোটি ৮৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে বিআরটিএ চট্টগ্রামের উপপরিচালক মো. শহিদুল্লাহ শেয়ার বিজকে বলেন, ছাত্র আন্দোলনের পর থেকে লাইসেন্সসহ গাড়ির বিভিন্ন ডকুমেন্ট নবায়নের ব্যস্ততা বেড়েছিল। তবে বর্তমানে সে চাপ নেই। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে রাস্তায় শৃঙ্খলা আনতে কাজ করেছেন ম্যাজিস্ট্রেটরা। কিন্তু গত তিন মাস ধরে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা বন্ধ রয়েছে। আশা করি দায়িত্ব পেলে আবারও নিয়মিত অভিযান শুরু হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..