প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

‘অপ্রয়োজনীয়’ বিলাসী পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করল পাকিস্তান

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বিদেশি মুদ্রার মজুত সামাল দিতে সব ধরনের ‘অপ্রয়োজনীয়’ বিলাসী পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে পাকিস্তান। খবর: ডন।

পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন জানায়, ভেঙে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। বিদেশি মুদ্রার মজুত প্রায় শূন্য। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বিলাসী পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

কভিড-১৯ মহামারি, শাসনব্যবস্থা ও ঋণের ভারে জবুথবু পাকিস্তানের অর্থনীতি। এর জেরে পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। এসব কারণে তলানিতে ঠেকেছে বিদেশি মুদ্রার মজুত। এজন্য খাবার থেকে ওষুধ সবকিছুর দাম বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে খাদ্য ও ওষুধের মতো জরুরি পণ্যের সরবরাহ বজায় রাখতে ৩৮টি বিলাসী পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার। গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই পদক্ষেপের কথা জানান পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী মরিয়ম আওরঙ্গজেব। এই পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছেÑগাড়ি, মোবাইল ফোন, গৃহস্থালি পণ্য, ফল ও শুকনো ফল (আফগানিস্তান থেকে আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়নি), ক্রোকারি, ব্যক্তিগত অস্ত্র ও গোলাবারুদ, জুতা, স্যানিটারি ওয়্যার, টিস্যু পেপার, আসবাব, শ্যাম্পু, বিলাসবহুল ম্যাট্রেস ও সিøপিংব্যাগ, বিলাসী চামড়াজাত পোশাক, সানগ্লাস, পাস্তা, বাদ্যযন্ত্র, চকলেট প্রভৃতি।

কয়েক মাস ধরে পাকিস্তানের অর্থনীতি নি¤œমুখী। এর মধ্যে চরম রাজনৈতিক ডামাডোলে ক্ষমতা হারায় ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ। প্রধানমন্ত্রী পদে বসেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ভাই শাহবাজ শরিফ। কিন্তু তাতেও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি, বরং রেকর্ড গড়ে ডলারের তুলনায় দেশটির মুদ্রার দামে পতন হয়েছে। গত শুক্রবার প্রতি ডলার কিনতে ব্যয় হয়েছে ২০০ পাকিস্তানি রুপি।

এ অবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য অপরিহার্য নয় এমন বিলাসী পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফেডারেল মন্ত্রিসভা জানায়, দুই মাস পর এ নিষেধাজ্ঞা আবার পর্যালোচনা করা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক টুইটে লেখেন, বিলাসী পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে। কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে আমরা একসঙ্গে সব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে সক্ষম হব।

 পাকিস্তানের ফেডারেল বোর্ড অব রেভিনিউর মতে, আমদানি নিষেধাজ্ঞার কারণে মাসে আমদানি বিল ২৮ কোটি থেকে ৩০ কোটি ডলার কম হবে।