সম্পাদকীয়

অপ্রয়োজনে রেল ইঞ্জিন কেনা বন্ধে ব্যবস্থা নিন

দীর্ঘ ভ্রমণ, নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ যাতায়াতে ট্রেন মানুষের প্রথম পছন্দ। পরিবেশবান্ধব ও অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী হওয়ায় এটি পণ্য পরিবহনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এদিকে জনসংখ্যার বৃদ্ধিতে সড়কপথের ওপর পড়ছে অতিরিক্ত চাপ; ব্যক্তিগত গাড়ির আধিক্যও কম নয়। সড়কে দুর্ঘটনা, যানজট বেড়েছে। বেড়েছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও।

সব বিবেচনায় রেলকে আধুনিক, নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও যাত্রী সেবামূলক গণপরিবহন হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে ২০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা আর চার ধাপে চলছে বাস্তবায়ন। রেলের উন্নয়নে দেশের যোগাযোগ খাতে বৈপ্লবিক উন্নতি সাধিত হবে বলে সবার ধারণা। মাঝে মধ্যে বেশি দামে কোচ-ইঞ্জিন কেনার খবর আসে গণমাধ্যমে। এতে প্রতীয়মান হয় উন্নয়নের পাশাপাশি অপচয় কিংবা লোপাট চলছে। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘সংকট নেই তবু কেনার উদ্যোগ: এক দশক ধরে ঝুলছে রেলের ৭০ ইঞ্জিন প্রকল্প’ শীর্ষক প্রতিবেদন নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

খবরে বলা হয়, রেলওয়ের ইঞ্জিনের বড় অংশের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেছে বহু আগেই। এজন্য ২০১১ সালে ৭০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন কেনার উদ্যোগ নেয় রেলওয়ে। তবে এক দশকেও ইঞ্জিনগুলো কেনা হয়নি। এমনকি ইঞ্জিনগুলো কেনার জন্য বাণিজ্যিক চুক্তি সইয়ের দুই বছর পেরুলেও এখনও ঋণ চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। বর্তমানে রেলের মিটারগেজ ইঞ্জিনের সংকট নেই। ফলে এ প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

তথ্যমতে, ৭০টি ইঞ্জিন কেনায় ২০১৮ সালে প্রায় ২৩ কোটি ৯৪ লাখ ৫৭ হাজার ডলার বা দুই হাজার ৩৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকার বাণিজ্যিক চুক্তি সই করে রেলওয়ে। দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেম কোম্পানি এ ইঞ্জিনগুলো সরবরাহ চুক্তি অনুসারে ১৮ থেকে ৬০ মাসের মধ্যে সরবরাহ করার কথা ছিল। তবে দুই বছরেও ঋণ চুক্তি না হওয়ায় এ প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাচ্ছে।

বেশ সুযোগ থাকতেও রেলওয়েকে লাভজনক করে তোলা যায়নি। অব্যবস্থাপনার কারণে এটি প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারছে না। এর আগে ৬৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে আনা নি¤œমানের ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট-ডিইএমইউ (ডেমু) ট্রেন নিয়ে রেল বেকায়দায় পড়েছে। যাত্রীদেরও দুর্ভোগ বাড়িয়েছে।

অভিজ্ঞতা না থাকায় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থের অপব্যবহার হতেই পারে। কিন্তু অপ্রয়োজনে রেল ইঞ্জিন কেনার কোনো যুক্তি খুঁজে পাই না আমরা। এমনিতেই রেলপথ নির্মাণে সবচেয়ে ব্যয়বহুল দেশ হিসেবে ‘পরিচিতি’ রয়েছে বাংলাদেশের। এখন অপ্রয়োজনে ইঞ্জিন কেনা প্রমাণ করে এখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতি রয়েছে। যখন সামনে আসবে ঋণ চুক্তি না হওয়ায় শুরু হয়নি ইঞ্জিন কেনার প্রক্রিয়া, ইঞ্জিনের দামের চেয়ে বেশি ঋণ নেওয়াÑতখন হয়তো আরও অনিয়মের কথা জানা যাবে। আমরা মনে করি, যেহেতু সংকট নেই, আর নতুন করে মিটার গেজ লাইনও হচ্ছে না; তাই এ ইঞ্জিন কেনারও প্রয়োজন নেই।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..