করপোরেট টক

অফারের ঝুলি…

সব শ্রেণি-পেশার মানুষের চাহিদা বিবেচনায় নানা অফার চালু করেছে পিৎজা হাট। সম্প্রতি ‘ওয়াও’ নামের একটি অফার চালু করেছে। এ অফারের আওতায় ১৯৯ টাকায় পিৎজা খেতে পারবেন ভোক্তারা।
ডে-বেসিস একটি অফার রয়েছে। প্রতি রোববার ফ্যামিলি সাইজের একটি পিৎজা কিনলে আরেকটি একদম ফ্রি!
এ সেপ্টেম্বরে বিকাশ গ্রাহকদের জন্য একটি অফার চলছে। ৬৯৪ টাকার একটি পিৎজার দাম বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করলে সঙ্গে সঙ্গে ২৩৫ টাকা ক্যাশব্যাক পাবেন ভোক্তা।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিৎজা হাটের আউটলেটটিতে জন্মদিন উদযাপনের জন্য আলাদা পার্টি জোন রয়েছে। ৪৪৯ টাকার প্যাকেজটির ১৫টি অর্ডার করলে পার্টি স্পেসসহ ডেকোরেশন একদম ফ্রি। এছাড়া শিশুদের জন্য ইনডোর গেমসের ব্যবস্থা করে থাকে পিৎজা হাট। খেলায় জয়লাভকারীর জন্য বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থাও রেখেছে কর্তৃপক্ষ।


মতামত দিলেই স্মল পিৎজা ফ্রি!

পিৎজা হাট তাদের ভোক্তাদের মতামতের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন। সবার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় এখানে। এজন্য মতামতদানকারীর জন্য বিশেষ উপহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অনলাইনে পিৎজা হাটের দেওয়া নির্দিষ্ট একটি ওয়েবসাইটে গিয়ে খাবার কিংবা সেবার ব্যাপারে মতামত দেওয়ার পর একটি কোড জমা দিলে মতামতদানকারীকে পিৎজা উপহার দেওয়া হয়। এজন্য একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে মতামত দিতে হয়। উপহার পেতে চাইলে ক্রেতার বিলের সঙ্গে একটি ওয়েবসাইটের ঠিকানা দেওয়া হয়; সঙ্গে কমেন্ট করার জন্য একটি আইডি নং দেওয়া হয়। ওই ওয়েবসাইটে গিয়ে লগইন করার পর কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়ে কমেন্ট সাবমিট করলে কাস্টমার একটি কোড পান। কোডটি ব্যবহার করে পূর্ববর্তী বিলের সঙ্গে ২১ দিনের মধ্যে পিৎজা হাট থেকে কিছু কিনলে তার সঙ্গে একটি স্মল পিৎজা উপহার দেয় পিৎজা হাট।

বিশ্বস্ত ও নিরাপদ খাবারের আরেক নাম…

বিশ্বে সংখ্যার দিক দিয়ে ষষ্ঠ বৃহৎ ফাস্টফুড রেস্টুরেন্ট পিৎজা হাট। আর সর্ববৃহৎ পিৎজা চেইন এটি। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার আউটলেট রয়েছে পিৎজা হাটের। পিৎজা হাট বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক পিৎজা চেইন ফ্র্যাঞ্চাইজি। বিশ্বব্যাপী সমাদৃত এ রেস্টুরেন্টটিকে ২০০৩ সালে বাংলাদেশে আনে ট্রান্সকম ফুডস লিমিটেড।
যুক্তরাষ্ট্রের উইচিটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পড়–য়া দুই ভাই ‘ড্যান ও ফ্রাঙ্ক কার্নি’ তাদের মায়ের কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে উইচিটা কানসাস এলাকায় প্রথম পিৎজা হাট প্রতিষ্ঠা করেন। অল্প সময়ের মধ্যে চারদিকে সুস্বাদু পিৎজার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। ছয় মাসের মধ্যে দুই ভাইকে দ্বিতীয় আউটলেট খুলতে হয়। আর এক বছরের মধ্যে ছয়টি পিৎজা হাট রেস্টুরেন্ট তৈরি করে ফেলেন ড্যান ও ফ্রাঙ্ক কার্নি। এরপর ১৯৫৯ সাল থেকে তারা ফ্র্যাঞ্চাইজি শুরু করেন।
বাংলাদেশে ইতোমধ্যে পিৎজা হাটের আটটি আউটলেট গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে রাজধানীর ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডে অবস্থিত আউটলেটটি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আয়তনে বড়। রেস্টুরেন্টটিতে রয়েছে পার্টির জন্য আলাদা স্পেস। এমনকি শিশুদের জন্য রয়েছে খেলার বিশেষ স্থান। প্যান পিৎজার জন্য বিশ্বখ্যাত আউটলেটগুলোয় প্যান পিৎজা, চিজি বাইটস অ্যান্ড গোল্ডেন সারপ্রাইজ, এসএফও, থিন ক্রাস্ট, পাস্তা, অ্যাপিটাইজার, স্যুপস অ্যান্ড সালাদস, ডেজার্ট ও বেভারেজ পাওয়া যায়। আউটলেটে বসে যেমন পিৎজা খেতে পারবেন, তেমনি ফোনে অর্ডারের মাধ্যমে ফ্রি ডেলিভারির ব্যবস্থাও রয়েছে।
পিৎজা হাট সবসময় তাদের ভোক্তাদের খাদ্য নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে, মানুষের কথা মাথায় রেখে খাবারের মান, পরিবেশ সবকিছুকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে পরিচালনা করে। কিচেন থেকে শুরু করে পরিবেশনের টেবিল পর্যন্ত জীবাণুমুক্ত। খাদ্য নিরাপত্তা বিধানের সব পদক্ষেপ নেওয়া হয় পিৎজা হাটে। সব ধরনের বিধিবিধান যেমন ফুড সেফটি স্ট্যান্ডার্ড, ব্র্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড প্রভৃতি মেনে চলছে কি না, তা পরীক্ষার জন্য কয়েক মাস পরপর ইয়াম ব্র্যান্ড কর্তৃক মনোনীত অডিটর অডিট করেন। তারা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেন। কোনো ত্রুটি পেলে ফ্র্যাঞ্চাইজি বাতিল হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে।
পিৎজা হাট মনে করে, খাবারের নিরাপত্তার জন্য পরিবেশন করার স্থানের চেয়ে খাবার তৈরির স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। তাই তারা সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সুস্বাস্থ্যে সহায়ক সব নিয়ম অনুসরণ করে। এ কারণে পিৎজা হাট তাদের কাস্টমারকে কিচেন পরিদর্শনের জন্য উৎসাহ দেয়। প্রতিদিন অনেক ক্রেতা পিৎজা হাটের কিচেন ভিজিট করেন। খাবারের নিরাপত্তার স্বার্থে নিয়মিত হিমাগারের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হয়। সব মিলিয়ে নির্দ্বিধায় বলা যায়, বর্তমানে পিৎজার জন্য বিশ্বস্ত ও নিরাপদ খাবারের আরেক নাম পিৎজা হাট।

জনপ্রিয় কয়েকটি আইটেম
পিৎজা হাটের প্যান পিৎজা জগৎ খ্যাত। প্যান পিৎজার প্রায় ২৫টির মতো আইটেম রয়েছে, যা চারটি ক্যাটেগরিতে বিভক্ত।
ফেভারিটস ক্যাটেগরিতে ১০টি মেন্যু, যা ২৮৯ থেকে ৯৬৯ টকার মধ্যে পাওয়া যায়। সুপ্রিমস ক্যাটেগরিতে ৩২৯ থেকে এক হাজার ৫৯ টাকার মধ্যে পাবেন ছয়টি মেন্যু। সুপার সুপ্রিমস ক্যাটেগরিতে ৩৬৯ থেকে এক হাজার ১৯৯ টাকার মধ্যে রয়েছে পাঁচটি মেন্যু। আর ভেজ ডিলাইটস ক্যাটেগরিতে ২২৯ থেকে ৯৬৯ টাকার মধ্যে তিনটি মেন্যু রয়েছে।
ফেভারিটস ক্যাটেগরিতে মিডিয়াম সাইজের চিজি বাইটস ৮৯৯ টাকা থেকে এক হাজার ৬৯ টাকা। সুপ্রিমস ক্যাটেগরিতে মিডিয়াম সাইজের চিজি বাইটস ৯৮৯ থেকে এক হাজার ১৫৯ টাকা।
ডেজার্ট আইটেমের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ইবোনি ও আইভোরি। চকোলেট কেক ও ভ্যানিলা আইসক্রিমের ওপর চকোলেট সস। এ আইটেমটির স্বাদ অসাধারণ। দাম ২২৯ টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের কর্মসংস্থান

পিৎজা হাটের আউটলেটগুলোর আরেকটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এখানে কর্মরত অধিকাংশই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছেন।
পড়ালেখার পাশাপাশি পিৎজা হাটে খণ্ডকালীন কাজ করেন এসব শিক্ষার্থী। ক্লাসের বিষয়টি মাথায় রেখে শিপমেন্ট করা হয়েছে। সুবিধামতো সময়ে
কাজের সুবিধা রয়েছে। এসব কর্মীই ধীরে ধীরে ম্যানেজার, শিফট ম্যানেজার, রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার ও ব্রাঞ্চ ম্যানেজারে পদোন্নতি পেয়ে এখানেই উন্নত ক্যারিয়ার গড়ছেন।
উপযুক্ত কর্মপরিবেশ, প্রশিক্ষণ ও কঠোর নিয়মাবলির মধ্য থেকে যারা ভালো করেন তাদের জন্য নিয়মিত পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে পিৎজা হাটে।

সর্বশেষ..