মত-বিশ্লেষণ

অবকাঠামো নির্মাণব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করুন

আমাদের দেশে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে, এমন দৃষ্টান্ত খুবই কম। কোনো কোনো প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয়ের কয়েকগুণ অর্থ ব্যয় হয়েছে কাজ শেষ করতে। সমালোচকের দৃষ্টিভঙ্গি নয়, এমন পর্যবেক্ষণ উঠে আসে খোদ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে। কোনো প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম পরিবীক্ষণ, সমাপ্ত প্রকল্পের গুণগত মূল্যায়ন এবং গণ খাতে ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কার্যকর সহায়তা প্রদানের দায়িত্বপালনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটির মূল্যায়ন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমাদের খুব কম প্রকল্পই আইএমইডির মূল্যায়নে ইতিবাচক ফল অর্জন করেছে।  এ ধরনের আরেকটি দৃষ্টান্ত হচ্ছে ‘টঙ্গী-ভৈরববাজার রেলপথ। এতে তিনগুণ ব্যয়ে ডাবললাইন নির্মাণেও নিন্মমানের কাজ হচ্ছে।

গতকাল শেয়ার বিজে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঁচ বছরে নির্মাণের কথা থাকলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সময় লেগেছে ১২ বছর। নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যে রং নষ্ট হয়ে মরিচা ধরে গেছে সেতুগুলোয় এবং দরপত্রের শর্তানুসারে পাওয়া যায়নি ব্যালাস্ট কুশন, ব্যালাস্ট ও অন্যান্য উপাদান।

সম্ভাব্যতা যাছাই ও সমীক্ষায় বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে প্রকল্পব্যয় নির্ধারণ করা হয়।  কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হলে ব্যয় বাড়ে অর্থাৎ নির্মাণকাল বাড়লে নির্মাণব্যয় বাড়বেই। তাই নির্ধারিত সময়ে নির্মাণ শেষ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। টঙ্গী-ভৈরববাজার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে বেশি সময় লাগায় রাষ্ট্রের ব্যয় বেড়েছে অনেক। এ প্রকল্পে ব্যয় হয় দুই হাজার ১৭৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যদিও এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এরপরও প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। রেলপথটি নির্মাণে নি¤œমানের কাজের প্রমাণও মিলেছে। আইএমইডি’র প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। যৌক্তিক কারণের পাশাপাশি অনিয়ম দুর্নীতি হলেও ব্যয় বাড়ে। সে ধরনের কিছু হলে প্রতিকারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যথায় বারবারই রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হবে। রূপকল্প ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য সব কিছুতেই বিরূপ প্রভাব পড়বে।

আমাদের দেশে বিভিন্ন অবকাঠামোর নির্মাণব্যয় নিয়ে তুলনামূলক পর্যবেক্ষণে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন থেকে বলে আসছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশে নির্মাণব্যয় বেশি। দেশগুলোর ভূ-প্রকৃতি একই ধরনের নয়, তাই অবকাঠামোর নির্মাণব্যয়ে ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু কোনোভাবেই তিনগুণ বেড়ে যাওয়ার কথা নয়।

লক্ষণীয় যে, যেনতেন সমীক্ষার ওপর ভর করে প্রকল্পব্যয় নির্ধারণ, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই কাজ শুরু করা, ঠিকাদারদের সময়ক্ষেপণের প্রবণতা, সুবিধাভোগীদের কমিশন বাণিজ্য প্রভৃতি কারণে নির্মাণব্যয় বেড়ে যায়। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করলে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়, লোপাট হবে না বলেই প্রত্যাশা। 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..