প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

অবকাঠামো সমস্যায় বিসিককে দুষছেন ট্যানারি মালিকরা

নাজমুল হুসাইন: সাভারে চামড়া শিল্পনগরীতে চালু হওয়া অনেক ট্যানারিতে এখনও গ্যাস সংযোগ নেই। অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ সিইটিপি নিয়েও সমস্যা কাটেনি। এসব অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে ট্যানারি মালিক ও সরকার একে অপরকে দোষারোপ করছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিল্পনগরীর কার্যক্রম।

ট্যানারি মালিকদের বেশিরভাগ অভিযোগ, চামড়া শিল্পনগরীর প্রকল্প বাস্তবায়নকারী বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনের (বিসিক) বিরুদ্ধে। অন্যদিকে বিসিক কর্তৃপক্ষ বলছে, ট্যানারি মালিকদের অসহযোগিতা ও গড়িমসির কারণেই প্রকল্পের অনেক কাজ দীর্ঘায়িত হয়েছে। তারাই সাভারে ট্যানারি হস্তান্তরে আন্তরিক ছিলেন না। অযথা কালক্ষেপণ করছেন। এখন বিভিন্ন বাড়তি সুযোগ-সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যে বিসিককে দোষারোপ করছেন। এখনও ট্যানারি মালিকদের নির্মাণ কাজে ধীরগতির কারণে আটকে রয়েছে প্রকল্পের নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

উল্লেখ্য, সাভার চামড়া শিল্পনগরী বাস্তবায়নের সময় পেরিয়ে গেছে এক যুগেরও বেশি। ২০০১ সালে দেওয়া আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী হাজারীবাগের চামড়া কারখানাগুলো সাভারের হরিণধরায় সরিয়ে নিতে ২০০৩ সালে তিন বছরমেয়াদি প্রকল্পটি হাতে নেয় সরকার। পরে উভয়ের গড়িমসিতেই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াতে হয়েছে সাতবার। কিন্তু এখনও প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি হতাশাজনকই রয়ে গেছে।

ট্যানারি মালিকদের অভিযোগ, গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় কারখানা চালু করা যাচ্ছে না।

অপরদিকে প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার চারপাশের সব সড়ক ঘিরে গ্যাসলাইন বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে ২০০৬ সালে। শিল্পনগরীর অভ্যন্তরে গ্যাসলাইনে কোনো সমস্যা নেই। ১১ বছর আগে গ্যাসলাইন বসানোর কাজ শেষ হলেও ট্যানারি মালিকরা নিজ নিজ প্লটের সংযোগের জন্য আবেদন করেননি।

জানতে চাইলে সাভার চামড়া শিল্পনগরীর প্রকল্প প্রকৌশলী মঈনুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এখানে এসে ট্যানারি মালিকরা গ্যাস সংযোগের জন্য আবেদন করছেন। আগে সাভারে থাকা ৬৫টি বাণিজ্যিক লাইন ব্যবহারকারী ট্যানারিকে গ্যাস দেওয়া হয়ে গেছে। বাকিরা এতদিন আবেদন না করে সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে গেছে। এখন তারা আবেদন করছে।’

অপরদিকে উৎপাদনে যাওয়া ট্যানারিগুলোয় বিদ্যুতের স্থায়ী সংযোগ দেওয়া হয়েছে। যারা কারখানায় স্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য বিদ্যুৎ সমিতি বরাবর আবেদন করেছে, তাদের অনুকূলে বিদ্যুৎ সমিতি ডিমান্ড নোট ইস্যু করেছে বলে জানা গেছে।

বিসিক কর্তৃপক্ষ বলছে, বেশিরভাগ ট্যানারি মালিক প্লট বরাদ্দ পেয়েও কাজ শুরু করছেন না। তাদের অবকাঠামোর কাজের জন্য রাস্তাঘাটের কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। নির্মাণ কাজের জন্য বন্ধ হয়ে আছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা। যদিও এতদিন ট্যানারির এসব কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। এতে প্রকল্পের অগ্রগতি আরও বেশি হতো। বর্তমান ট্যানারি মালিকদের কাজের ধীরগতির জন্যও দায়ী করা হচ্ছে সরকারকে।

এ-বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ‘এখন ট্যানারিগুলো নির্মাণ কাজে প্রচুর টাকা বিনিয়োগ করছে। ফলে পুঁজির অভাবে অনেকে কাজ বন্ধ করে বসে আছেন। এ অবস্থায় উদ্যোক্তারা যাতে ঋণ সুবিধা পেতে পারেন, সেজন্য প্লটের মালিকানা দলিল রেজিস্ট্রেশন করা দরকার। রেজিস্ট্রেশন থাকলে তারা ব্যাংক লোন পাবেন। কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেটা দিচ্ছে না।’

এমন আরও অনেক দাবি ট্যানারি মালিকদের অপূরণীয় রয়ে গেছে। এখনও তাদের সেক্টর সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর পুনর্বাসনে বরাদ্দসহ প্লট না পাওয়া উদ্যোক্তাদের প্লটের দাবি, কারখানা শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতনভাতা পরিশোধের জন্য মালিকদের সরকারের পক্ষ থেকে এককালীন অর্থ বরাদ্দের দাবি, কারখানার উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় যেসব রফতানি আদেশ বাতিল হবে ও ক্রেতাদের দাবি করা ক্ষতিপূরণের অর্থ সরকারকে পরিশোধের দাবি রয়েছে এখনও। এছাড়া শিল্পোদ্যোক্তাদের বিদ্যমান ঋণ ব্লক ও সুদ মওকুফের কথা বলা হচ্ছে অনেক আগে থেকেই।

জানা গেছে, এর আগেও শিল্পমালিকদের ক্ষতিপূরণ ও শিল্পপার্ক গড়ে তুলে নতুন কারখানা স্থাপনে ব্যাংকঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় কারখানা স্থানান্তর করেননি ট্যানারি মালিকরা। শেষ পর্যন্ত সরকার তাদের দাবি মেনে ক্ষতিপূরণের ২৫০ কোটি টাকা দেয় এবং সুদহার সিঙ্গেল ডিজিট করার আশ্বাস দেয়। এর পরই সাভারে কারখানা স্থাপন শুরু করেন ট্যানারি মালিকরা।