কোম্পানি সংবাদ

অবমূল্যায়িত পুঁজিবাজারে এখনও বিনিয়োগের সুযোগ আছে

প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এনটিভি ‘মার্কেট ওয়াচ’ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে শেয়ার বিজের নিয়মিত আয়োজন ‘এনটিভি মার্কেট ওয়াচ’ পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো:

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পুঁজিবাজারে পক্ষ ও বিপক্ষে দুটি গ্রুপ রয়েছে। একটি পক্ষ চায় পুঁজিবাজার গতিশীল হোক। দেশের অর্থনীতিতে এ বাজার বড় ধরনের ভূমিকা রাখুক। এগিয়ে যাক এই খাত। কিন্তু অপর পক্ষ চায় বাজার যেমন আছে তেমনটি থাকুক। যাতে এর থেকে ফায়দা লোটা যায়। তাই বাজার যখন গতিশীল হয়, তখন বিভিন্নভাবে বাজারের গতিকে নষ্ট করার চেষ্টা করে এরা। তা সত্ত্বেও দেশের পুঁজিবাজার অনেক সম্ভাবনাময়। কারণ বর্তমানে বাজারের বেশিরভাগ শেয়ার অবমূল্যায়িত। এ সুযোগ নিচ্ছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। গতকাল এনটিভির ‘মার্কেট ওয়াচে’ এ বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। মো. ছায়েদুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম এবং এটি ক্যাপিটালের এমডি ও সিইও মো. এমরান হাসান।

ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বাজেট সম্পর্কে বলেন, বাজেটের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের জন্য বেশি কিছু করণীয় আছে বলে আমি মনে করি না। কারণ আমাদের দেশে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এবং তালিকাভুক্ত নয় এ কোম্পানিগুলোর মধ্যে করপোরেট শুল্কে ১০ শতাংশ পার্থক্য রয়েছে। বিএসইসির চেয়ারম্যান থাকাকালে সবার সঙ্গে আলোচনা করে এই ব্যবধান ১০ শতাংশ করতে পেরেছিলাম। যেটি আগে আরও কম ছিল এবং পরবর্তী সময়ে সব সরকারই এটা বজায় রেখেছে। কাজেই সামনের বাজেটে আমার প্রত্যাশা থাকবেÑএ ব্যবধানটি যেন বজায় থাকে। আমাদের মার্কেটে আস্থাহীনতা বেশিমাত্রার এবং এর পেছনে অনেক কারণও আছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, আমাদের ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের গুরুত্ব বাজারে যথেষ্ট। কিন্তু এদের অনেকেই বাজার বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগ করেন না। এতে বাজারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। বাজেটের মাধ্যমে বাজারকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আরও একটি কাজ করা যেতে পারে, তা হলো মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড প্রতিষ্ঠা করা। এটির মূল উদ্দেশ্য থাকবে বাজার যখন অতিমাত্রায় কমবে, তখন এই ফান্ড থেকে শেয়ার কেনা হবে আর যখন বাজার অতিমাত্রায় বাড়বে, তখন ফান্ডের মাধ্যমে কোনো শেয়ার বিক্রি করতে হবে। পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, এসইসি এবং অর্থ মন্ত্রণালয়কে সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করতে হবে। তালিকাভুক্ত না হওয়া কোম্পানিগুলো যেসব সুবিধা পাচ্ছে, সেগুলোর বিষয়ে কঠোর হওয়া। আর তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো ঠিকমতো হিসাব বিবরণী দাখিল করে কি না, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো। তিনি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন, দেশের বর্তমান পুঁজিবাজার এখনও অবমূল্যায়িত। কাজেই এখানে ভালো বিনিয়োগের সুযোগ আছে। এর একটি প্রমাণ হচ্ছে, বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ সম্প্রতি অনেক বেড়ে গেছে।

মো. এমরান হাসান বাজেটের বিষয়ে বলেন, বিনিয়োগকারীরা বাজেটকে কেন্দ্র করে অনেক প্রত্যাশা করেন। কিন্তু বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য তেমন কিছু করার নেই বলে মনে করি। তবে বাজেটে শুল্ক মুক্তর বিষয়টি কিছুটা বাড়ালে ভালো হয়। এতে যেসব ভালো কোম্পানি ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেয়, সেসব কোম্পানিতে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়বে। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে মিউচুয়াল ফান্ড খাতটি অপ্রত্যাশিতভাবে মোট বাজারের তুলনায় খুবই ক্ষুদ্র। দেখা যায়, বাজেটের আগে বাজার কিছুটা অস্বাভাবিক আচরণ করে।

 

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..