বিশ্ব সংবাদ

অবশেষে ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি হলেন ট্রাম্প

শেয়ার বিজ ডেস্ক : নির্বাচনে জয়ী জো বাইডেনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে অবশেষে সম্মত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তোলাসহ নানা উপায়ে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প। কিন্তু মিশিগান রাজ্যের আইনপ্রণেতাদের যথাযথ উদ্যোগের কারণেই ট্রাম্পের সব প্রয়াস কার্যত ভেস্তে গেছে। তবে ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে সম্মত হলেও এখনও নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক পরাজয় মেনে নেননি ট্রাম্প। তিনি লড়াই অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন। খবর: রয়টার্স।

২৩ নভেম্বর বিকালে মিশিগানে বাইডেনের বিজয় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সার্টিফাই’ হওয়ার পরই পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি দেখভাল করে ফেডারেল এজেন্সি জেনারেল সার্ভিস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিএসএ)। মিশিগানে বাইডেনের আনুষ্ঠানিক বিজয় ঘোষণার পরই ট্রাম্প জিএসএর প্রধান এমিলি মারফিকে বাইডেন প্রশাসনকে ক্ষমতা গ্রহণের প্রস্তুতি নিতে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়ে টুইট করেছেন। অবশ্য এর আগে জিএসএ প্রধান নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে নতুন প্রশাসনের ফেডারেল অর্থ অবমুক্ত করাসহ অন্যান্য সুবিধা অবমুক্ত করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

মিশিগানে বাইডেনের নির্বাচনী প্রচারের মুখপাত্র ব্যান হ্যালি বলেন, ‘বাইডেন এখানে এক লাখ ৫৪ হাজার ভোট বেশি পেয়ে জিতেছেন, এটি দিবালোকের মতো সত্য ও স্বীকৃত। আমাদের সমর্থন দেওয়ার জন্য মিশিগানবাসীকে অনেক ধন্যবাদ। আমরা অপেক্ষায় আছি মিশিগানের ১৬টি ইলেকটোরাল ভোটের।’ এদিকে ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ আইন উপদেষ্টা জেনা এলিস বলেছেন, আমরা সারা দেশে ভোট জালিয়াতির বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছি। আমেরিকানদের অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে চূড়ান্ত ফলাফল সুষ্ঠু ও বৈধ।

ভোট প্রত্যয়নের পর মিশিগানের গভর্নর গ্রিচেন হুইটমার ইউএস সেক্রেটারি অব স্টেটকে রাজ্যের পপুলার ভোটের বিষয়টি অবহিত করবেন। নির্বাচকরা আগামী মাসে রাজ্যের রাজধানী ল্যান্সিংয়ে ইলেকটোরাল কলেজে মিশিগানের ১৬টি ভোট দেবেন।

এ কারণে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করতে বললেও ট্রাম্প নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করতে এখনও রাজি নন। টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমাদের মামলাগুলো জোর কদমে এগিয়ে চলেছে। আমরা লড়ে যাব। আর বিশ্বাস করি, আমরা টিকে থাকব।’

শেষ মুহূর্তে এসেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঐতিহ্য অনুযায়ী বিজয়ী প্রার্থী বাইডেনকে এখনও অভিনন্দন জানাননি। তিনি টুইট বার্তায় বলেছেন, জিএসএ প্রধান এমিলি মারফিকে হয়রানি করা হচ্ছে, হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি এমনটি দেখতে চান না। এ কারণে দেশের স্বার্থেই তিনি বাইডেন শিবিরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

জিএসএ প্রধান তার চিঠিতে ১৯৬৩ সালের প্রেসিডেনশিয়াল ট্রানজিশন আইনের আওতায় ক্ষমতার পালা বদলকালীন সময়ের আইনগত সব সুবিধা গ্রহণ করার জন্য নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে জানান। চিঠিতে আরও জানিয়েছেন, তিনি স্বাধীনভাবে সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নির্বাহী বিভাগ বা কারও কোনো চাপ তার ওপর ছিল না। নির্বাচনের ফল, সার্টিফিকেশন এবং আইনগত চ্যালেঞ্জের সর্বশেষ অবস্থা বিবেচনায় রেখেই তিনি নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে এমন চিঠি দিয়েছেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..