বিশ্ব বাণিজ্য

অবসরে আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা অবসরে গেছেন। গত মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যানের পদ থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড্যানিয়েল ঝ্যাং তার স্থলাভিষিক্ত হবেন। জ্যাক মা’র বয়স এখন ৫৫ বছর। সাধারণত এ বয়সে কোনো বৈশ্বিক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠাতাকে পদ ছাড়তে দেখা যায়নি। এক বছর আগেই তিনি আলিবাবার চেয়ারম্যানের পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। খবর: বিবিসি।
চেয়ারম্যান পদ ছাড়লেও আগামী বছর আলিবাবার শেয়ারধারীদের বার্ষিক সাধারণ সভা পর্যন্ত জ্যাক মা আলিবাবা বোর্ডে থাকবেন। এ ছাড়া তিনি আলিবাবা পার্টনারশিপের আজীবন সহযোগী হিসেবে থাকবেন। আলিবাবা পার্টনারশিপ হচ্ছে আলিবাবা গ্রুপের কোম্পানি ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপকদের একটি দল, যাদের হাতে বোর্ড সদস্য নির্বাচনের ক্ষমতা থাকে।
গত বছর জ্যাক মা অবসরের ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন, তিনি স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই আলিবাবা ছাড়ছেন। তার ভাষ্য ছিল, ‘একটি বিষয়ে সবাইকে প্রতিশ্রুতি দিতে পারি আর তা হলো আলিবাবা কখনও জ্যাক মা সম্পর্কিত কোনো বিষয় ছিল না, কিন্তু জ্যাক মা সব সময় আলিবাবার সঙ্গেই থাকবে।’
২০১৩ সালে জ্যাক আলিবাবার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পোস্ট ছেড়ে দেন। তার জায়গায় আসেন জোনাথান লু। ২০১৫ সালে লুয়ের জায়গা নেন প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালনা কর্মকর্তা (সিওও) ঝ্যাং। কয়েক দশক ধরে চীনের ক্রমবর্ধমান ই-কমার্স সাইট এখন কিছুটা ঝিমিয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় চেয়ারম্যান ও সিইও পদ সামলাতে হবে ঝ্যাংকে।
আলিবাবার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর দিনটি ছিল চীনে মূলত শিক্ষক দিবস। জ্যাক মা মূলত ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেছেন। এ দিনটিকেই তাই তিনি পদত্যাগের জন্য বেছে নেন। ‘টিচার মা’ হিসেবে খ্যাত আলিবাবার এ উদ্যোক্তা দাতব্য শিক্ষাক্ষেত্রে সময় দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।
হাইস্কুলের গণ্ডি কোনোমতে পার করতে পারলেও উচ্চশিক্ষার জন্য কলেজে ভর্তি হতে গিয়ে বিপদে পড়েন জ্যাক। দু-দুবার ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থ হন। তৃতীয়বার কোনো রকমে পাস করে হ্যাংঝু টিচার্স ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। ১৯৮৮ সালে স্নাতক শেষ করতে পারলেও প্রায় ৩০টি চাকরির পরীক্ষায় ফেল করেন তিনি। যে চাকরির জন্যই আবেদন করেছেন, সেখানেই প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। চীনে যখন প্রথম ফাস্টফুড চেইন কেএফসি চালু হয়, তাতে যে ২৪ জন আবেদন করেছিলেন, তাদের মধ্যে জ্যাক মাও ছিলেন। সে ২৪ জনের মধ্যে ২৩ জনের চাকরি হলেও জ্যাক মা’র চাকরি হয়নি। তবে স্থানীয় এক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে চাকরি হয় তার। ১০ বার চেষ্টা করেও যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি।
যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের সময় প্রথম ইন্টারনেটের সঙ্গে পরিচয় ঘটে তার। এর আগে তিনি একটি অনুবাদ সেবার ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ১৯৯৫ সালে ওই ব্যবসার সূত্র ধরে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে যান। দেশে ফিরে ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যবসায় মনোযোগী হন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে ইন্টারনেটভিত্তিক নতুন কোম্পানি তৈরি করলে তাও ব্যর্থ হয়। তিনি ‘চায়না পেজেস’ নামে ইন্টারনেটে বিভিন্ন চীনা কোম্পানির ডিরেক্টরি চালু করেছিলেন। চায়না পেজ ব্যর্থ হলেও দমে যাননি তিনি। এর চার বছর পর ১৯৯৯ সালে শুরু করেন আলিবাবা। তাকে বিশ্বের অন্যতম বড় উদ্যোক্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সর্বশেষ..