সম্পাদকীয়

অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিন

সুশাসন, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা থাকলে কোনো দেশ পিছিয়ে থাকতে পারে না। স্বচ্ছতা না থাকলে সরকারি কর্মচারীরা স্বেচ্ছাচারী ও দায়িত্বহীন হবে, অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়বে এবং বেপরোয়া হয়ে উঠবে। সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, সরকারি বা বিদেশি অর্থসহায়তাপুষ্ট বেসরকারি সংস্থাসহ সব সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে দুর্নীতি কমবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে বলেই ধারণা।
আমাদের সংবিধানে বলা হয়েছে প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ। চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতাকে নাগরিকদের অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে সংবিধান। সরকারি অফিসে তথ্য চেয়ে তথ্য না পাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অসহযোগিতা ক্ষেত্রবিশেষে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ কারণে দুর্নীতি বাড়ছে, দেশের অর্থ লোপাট হচ্ছে। ফলে দেশের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন হচ্ছে না, এমনই ভাবনা সাধারণ মানুষের।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুশাসনের নিশ্চিতে নবম সংসদের প্রথম অধিবেশনেই অনুমোদন পায় তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯। এ আইন কার্যকর হলে সাধারণ মানুষ তথ্যসমৃদ্ধ হয়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নজর রাখবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। আইনটির সুষ্ঠু প্রয়োগ হলে সেবাগ্রহীতা তথ্য জানতে পারবে, কর্মকর্তারা দায়িত্বশীল হবেন, সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধ রচিত হবে সেটিই ছিল প্রত্যাশা। পাসের এক দশক পেরিয়ে গেলেও আইনটি প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পেরেছে এমনটি বলা যাবে না। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস-২০১৯’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনেও এমন বক্তব্য উঠে এসেছে।
গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবাদ সম্মেলেন বক্তারা সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তথ্য অধিকার আইনের বাস্তবায়নে ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এতে প্রতীয়মান হয়, তথ্য অধিকার আইনের বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের নেওয়া ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এবার আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘তথ্য সবার অধিকার: থাকবে না কেউ পেছনে আর’। তথ্য পাওয়া নাগরিকের অধিকার, নাগরিক তথ্য পাচ্ছে কি না, রাষ্ট্রকেই তা নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি বলেছেন, অগণতান্ত্রিক সরকারই অবাধ তথ্যপ্রবাহকে ভয় পায়।
বর্তমান সরকার তথ্য অধিকার আইন পাস করেছে। এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে তথ্য অধিকার আইন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে জবাবদিহি সৃষ্টি করেনি, তাদের কাজে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে দেশ ও জাতি এ আইনের সুফল পায়নি। আমরা জানি, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে তথ্য কর্তৃপক্ষ কিছু তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য নয়। কিন্তু এসব অন্য তথ্যও জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিতে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা নেবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..