সম্পাদকীয়

অবৈধ ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখুন

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের ধারণা ইতিবাচক নয়। কিছুটা দায় নিজেদের অর্জিত, কিছুটা অর্পিত। মাঝে মধ্যে কোনো সূত্রবিহীন ঘটনার রহস্য উম্মোচনের দৃষ্টান্তও আছে পুলিশের। সাধারণ মানুষ পুলিশের এমন অবদান স্বীকার করতে এতটুকু কার্পণ্য করে না। তবে অবলীলায় মন্তব্য করে, ‘পুলিশ ইচ্ছা করলে সবই পারে।’
অবশ্য সব ক্ষেত্রে পুলিশের ওপর ঢালাওভাবে দায় চাপানো যায় না। গোবেচারা ধরনের মানুষও বোঝে, পুলিশ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হলেও তাদের অনেক কিছু বিবেচনায় রাখতে হয়। ফলে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন সবসময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। বর্তমানে দেশের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় অবৈধ ক্যাসিনোগুলোয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হানা। এই প্রথম অভূতপূর্ব দক্ষতায় পাকড়াও করা হয়েছে ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের।
ক্যাসিনো ব্যবসা চলে আসছে অনেকদিন ধরে, খোদ রাজধানীতেই শতাধিক। প্রশ্ন হলো, এত দিন কোথায় ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী! সাধারণ মানুষ আকারে-প্রকারে বলছে, তাদের প্রচ্ছন্ন সহযোগিতা ছাড়া ক্যাসিনো চালানো সম্ভব নয়। গতকাল একাধিক জাতীয় দৈনিক বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। ‘পুলিশ পাহারায় চলত জুয়া’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুয়ার কারবার নির্বিঘ্ন করত পুলিশ। গত বুধবার রাজধানীর চারটি ক্যাসিনোতে অভিযান ও একটি ক্যাসিনোর মালিককে প্রেফতারের পর এমন তথ্য দিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা।
আরেকটি ইংরেজি দৈনিকের প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘পুলিশ ওয়্যার দেয়ার ক্লোজ নেইবরস।’ এতে বলা হয়েছে, মতিঝিল থানার পাশেই পুলিশ ব্যারাকের সীমানা প্রাচীরের অপর পাশেই ফকিরেরপুল ইয়ংমেন’স ক্লাব ও ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব পরিচালিত ক্যাসিনো। এর ১০০ ফুটের মধ্যেই আরামবাগ স্পোর্টিং ক্লাব ও দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব পরিচালিত ক্যাসিনো বিরতিহীন চলছে বছরের পর বছর।
পুলিশ পাহারায় ক্যাসিনো চলেছে বলে এটি নিশ্চিতভাবে বলা যায়, এগুলো বন্ধে কোনো ভূমিকা নেয়নি। কেন নেয়নি সে কারণও জানার প্রয়োজন নেই। র?্যাবের পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) বলেছেন, অবৈধ ক্যাসিনো নিয়ে আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। নিশ্চিত তথ্য-প্রমাণ নিয়ে আরও অভিযান হবে। না হওয়ার চেয়ে দেরিতে হওয়াও কাম্য। তাই আমরা আশাবাদী, ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকলে ক্যাসিনো পরিচালনা করা সম্ভব নয়। শূন্য সহনশীলতা নিশ্চিত না হলে অবৈধ ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাও ফলপ্রসূ হবে না। রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মাধ্যমেই সমাজবিনাশী কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব। খোদ সরকারপ্রধান এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ায় সাধারণ মানুষ ভরসা পাবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

সর্বশেষ..