প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

অবৈধ চাল মজুতদারদের তালিকা করছে খাদ্য অধিদপ্তর

শেখ শান্ত ইসলাম, খুলনা: খুলনায় গত চার মাসের ব্যবধানে দুই দফায় বেড়েছে চালের দাম। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতা ও নিন্ম আয়ের মানুষ। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। এ অবস্থায় অবৈধ চাল মজুতদারদের তালিকা তৈরি করছে খাদ্য বিভাগ।

নগরীর কয়েকটি চালের পাইকারি বাজার ও আড়তে গিয়ে দেখা যায়, গত ১৫ দিন ধরে প্রকারভেদে সব ধরনের চিকন ও মোটা চালের দাম বেড়েছে। আমন ওঠার ভরা মৌসুমে সরকারি গুদামে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত চাল মজুত থাকার পরও খুলনায় বস্তাপ্রতি দাম বেড়েছে গড়ে দেড়শ থেকে ২০০ টাকা। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। এর পরিপ্রেক্ষিতে অবৈধ মজুতদারদের নাম-ঠিকানা চেয়ে অধিদপ্তর থেকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক খুলনাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মাহাবুবুর রহমান সম্প্রতি একপত্রে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অবৈধভাবে খাদ্য মজুতদারদের নাম-ঠিকানা জানতে চেয়েছেন।

চালের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. বাবুল হোসেন বলেন, আমরা নির্দেশ পেয়েছি। সে অনুযায়ী মজুতদারদের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। জেলায় ২০০ রাইস মিলে ও পাইকারি দোকান পর্যবেক্ষণের জন্য একটি টিম কাজ করছে। যদিও জেলা খাদ্য অফিস গত ৬ জানুয়ারি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জেলার কোনো রাইস মিল ও পাইকারি আড়তে অস্বাভাবিক মজুত নেই।

ব্যবসায়ীদের সূত্র জানিয়েছে, আমনের ভরা মৌসুমে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে প্রতিদিন নৌকায় ধান আসছে। ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, লবণচরা, রূপসা ও বয়রা রাইস মিলগুলোয় ধান সরবরাহ হচ্ছে। ভারত থেকে বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি করা নানা ধরনের চাল নগরীর বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া সরকারিভাবে ভারত থেকে ট্রেন ও জাহাজে চাল আসছে।

জেলার দুটি কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামসহ ১০টি গুদামে এক লাখ ৪৯ হাজার ২৫৮ টন চাল মজুত আছে। এর মধ্যে চালের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে অধিদপ্তর অবৈধভাবে মজুতকে ইঙ্গিত করেছে।

এর আগে গত ১১ আগস্ট মন্ত্রণালয় হঠাৎ করে চালের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ জানতে চেয়ে জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বাবুল হোসেনকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

এ কমিটির সদস্য সিনিয়র বাজার কর্মকর্তা আব্দুস সালাম তরফদার জানান, খুলনার কোনো মিলে অস্বাভাবিক মজুত দেখতে পাওয়া যায়নি। অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে ধান ও চালের মূল্য বাড়ে।

মিল মালিক মোস্তফা কামাল বলেন, এ সময় ধান-চালের দাম একটু বাড়তি থাকে। আমনের চাল বাজারে এলে আবার কমেও যায়। এখন মানুষ অনেক সচেতন। কোনো মিল মালিক অবৈধ মজুত করে শাস্তি পেতে চান না।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল ৪৪-৪৫ টাকা, মাঝারি চাল ৫৪-৫৫ টাকা, চিকন চাল ৬২-৬৪ টাকা ও আতপ চাল ৪৩-৪৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর গল্লামারী বাজারে চাল কিনতে আসা নওশের আলী নামে একজন ক্রেতা বলেন, ‘এমনিতেই শীতকাল, শীতের কারণে বাইরে তেমন কাজ নেই। আর কাজ না করলে তো আমাদের টাকা আসে না। বাজারে চালের দাম বেড়েছে, এতে চাল কিনতে এসে আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়।’

এদিকে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকার টিসিবির মাধ্যমে বেশ কয়েকটি পয়েন্টে কম দামে চাল বিক্রি শুরু করেছে। টিসিবির আওতায় শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাথাপিছু পাঁচ কেজি করে চাল বিক্রি করা হচ্ছে।

প্রতিটি পয়েন্টে প্রতিদিন দেড় টন করে চাল ও এক টন আটা সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০টি পয়েন্টে এবং দুটি ট্রাকে করে ভ্রাম্যমাণ পদ্ধতিতে চাল বিক্রি করা হচ্ছে।

জেলা সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক শেখ মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, চালের মূল্য স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। শৈত্যপ্রবাহের কারণে চাতালে ধান শুকাতে বিলম্ব হচ্ছে। এ কারণে বাজারে চাহিদা অনুযায়ী রাইস মিলগুলো চাল সরবরাহ করতে পারছে না।

তিনি জানান, জেলার দুটি কেন্দ্রীয় ও আটটি উপজেলা পর্যায়ের গুদামে এক লাখ ৬৬ হাজার টন চাল মজুত আছে।