Print Date & Time : 28 September 2021 Tuesday 12:49 pm

অবৈধ বালিকারবারিদের দাপটে কোণঠাসা রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা

প্রকাশ: June 22, 2021 সময়- 12:13 am

প্রতিনিধি, রাজশাহী: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বন্ধ হচ্ছে না বালির অবৈধ কারবার। স্থানীয় কিছু আওয়ামী লীগ নেতার সহযোগিতায় একটি সিন্ডিকেট অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করছে বলে জানা গেছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে এ অবৈধ বালিকারবার। এতে বেহাল অবস্থা সড়কগুলোর।

তাদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী ও বালিমহালের বৈধ ইজারাদাররা। এর প্রতিবাদ করলে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে ইজারাদারদের। ফলে চরম ক্ষতিতে পড়েছেন বৈধ বালিমহাল ইজারাদাররা।

বালির এই অবৈধ কারবার বন্ধের দাবি জানিয়ে ডিসির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন এলাকাবাসী। গত রোববার গোদাগাড়ী পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডবাসীর পক্ষ থেকে দেয়া স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন পৌরসভার তিন কাউন্সিলর আব্দুল জাব্বার, এমদাদুল হক ও জাহানারা বেগম এবং জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-২ রবিউল আলম।

অভিযোগ উঠেছে, একটি সিন্ডিকেট উপজেলার জোতগোসাইদাস ও ভগবন্তপুরে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন, মজুত ও পরিবহন করছে। স্থানীয় প্রভাবশালী আনারুল বিশ্বাস ও তার ছেলে রোমেন বিশ্বাস এই বালি সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কিছু নেতা ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অবৈধ সুবিধার মাধ্যমে তারা অবাধে চালিয়ে যাচ্ছেন বালির কারবার। তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসীসহ বালিমহালের বৈধ ইজারাদাররা।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, পদ্মা থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে বালি। এতে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়েছে পদ্মার তীররক্ষা বাঁধ, মাদরাসা ও মসজিদ। সেইসঙ্গে নদীভাঙনের হুমকিতে পড়েছে তিনটি গ্রাম। এছাড়া ভারী ট্রাক-লরি ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচলের কারণে এলাকার সড়কগুলো ভেঙেচুরে একাকার হয়ে গেছে। দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই বালি পরিবহনের কারণে এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এছাড়া সড়কগুলো নষ্ট হয়ে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে সরকারের।

গোদাগাড়ী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল জব্বার জানান, প্রশাসনের নাকের ডগায় এই অবৈধ বালিকারবারে তারা অতিষ্ঠ। অবৈধ বালি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেয়া হলেও কোনো প্রতিকার নেই। এ সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি এলাকার মানুষ।

এদিকে অবৈধ বালিকারবারে আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিতে রয়েছেন বালিমহালের ইজারাদাররা। উপজেলায় বালিমহাল রয়েছে দুটি, যেগুলো জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইজারা দেয়া হয়েছে। প্রায় ১৩ কোটি টাকায় বালিমহাল দুটি ইজারা নিয়েছেন জাহাঙ্গীর হোসেন ও হাসিবুর রহমান নামে দুই বালি ব্যবসায়ী।

বালিমহাল ইজারাদার জাহাঙ্গীর হোসেন ও হাসিবুর রহমান জানান, শুধু অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করেই ক্ষান্ত নন তারা। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তাদের বৈধভাবে বালি উত্তোলনে বাধা সৃষ্টি ও নানাভাবে হয়রানি করছেন। এতে লোকসানের মুখে পড়েছে তাদের ব্যবসা। অবৈধভাবে বালি উত্তোলন বন্ধ না হলে ইজারার অর্ধেক অর্থ তোলা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।