সম্পাদকীয়

অবৈধ বাল্কহেড চলাচল বন্ধে পদক্ষেপ কাম্য

ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনীতির সব খাতে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব সর্বাধিক। তাই বন্দরটি যাতে সব সময় পূর্ণ ব্যবহারোপযোগী রাখা যায়, সে জন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বন্দরে ঝুঁকি এড়াতে জাহাজ চলাচলেও সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি রয়েছে। তবে এসব নিয়ম উপেক্ষা করে জাহাজ চলাচলের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের আশপাশের জলসীমায় ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। জাহাজডুবিসহ নানা কারণে নাব্য সংকটও দেখা দিচ্ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে শিগগিরই বন্দরে অচলাবস্থা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা। অথচ উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে ওই এলাকায় অবৈধ বাল্কহেড চলছে; যাতে কয়লা, তেলসহ নানা ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য পরিবহন করা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে বন্দরে সংকট আরও বাড়বে বৈকি।

গতকালের শেয়ার বিজে ‘অবৈধ বাল্কহেডে বহির্নোঙর থেকে পণ্য পরিবহন’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন ছাপা হয়। এতে বলা হয়, নৌপথে স্বল্প দূরত্বে বালি পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা নৌযান বাল্কহেডে এখন অন্যান্য পণ্যও পরিবহন করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট নৌরুটে চলাচল করার কথা থাকলেও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এগুলো দেশের সব নৌপথে চলাচল করছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর থেকে কার্গো পরিবহনে ব্যবহার হচ্ছে দুই শতাধিক বাল্কহেড, যা উদ্বেগজনক। বাল্কহেডের চলাচল দ্রুত বন্ধ করা না হলে তা বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

প্রয়োজনীয় নাব্য না থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের মূল জেটিতে বড় জাহাজ দীর্ঘদিন ধরে নোঙর করতে পারে না। ফলে গভীর সমুদ্রে জাহাজ নোঙর করে ছোট লাইটার জাহাজে পণ্য খালাস করা হয়। কিন্তু এ ধরনের বাল্কহেড চলাচল বৃদ্ধির কারণে লাইটার চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। অন্যদিকে উত্তাল জলরাশি, তীব্র বাতাস কিংবা অন্য জাহাজের ধাক্কায় সমুদ্রে বাল্কহেড ডুবির আশঙ্কা বেশি। সেটি হলে বন্দর এলাকায় জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বাড়বে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা কাম্য।

বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিভোয়া) তথ্যমতে, দেশে বাল্কহেড আছে প্রায় তিন হাজার। দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের কারিগরি নকশা ছাড়াই মিস্ত্রি ও ওয়েল্ডারের হাতে এসব বাল্কহেড নির্মাণ করা হচ্ছে। আরও গুরুতর ব্যাপার হলো, অনুমোদন ছাড়াই এগুলো নির্মাণ হচ্ছে, যা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কারোর যুক্ত থাকার প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া বিদ্যমান বাল্কহেডগুলো পরীক্ষা করে বৈধগুলোর চলাচলের অনুমতি দিতে হবে। পাশাপাশি সমুদ্রে বাল্কহেড চলাচল বন্ধ করে লাইটার জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করি।

সর্বশেষ..