প্রথম পাতা

অবৈধ ভিওআইপি ঠেকাতে আইজিডব্লিউ কল রেট কমাল বিটিআরসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: অবৈধপথে আন্তর্জাতিক কল আসা ঠেকাতে ইনকামিং কল টারমিনেশন রেট কমিয়েছে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। অর্ধেকের বেশি কমিয়ে ওই কলরেট প্রতি মিনিটের জন্য ০.০০৬ ডলার বা ৫১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা এর আগে ০.০২৫ ডলার বা দুই টাকা ১২ পয়সা ছিল। কল রেট কমায় বিদেশ থেকে বৈধ পথে আর্ন্তজাতিক কল বাড়বে বলে আশা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

বিটিআরসি সূত্র জানিয়েছে, দেশে বৈধ পথে বিদেশ থেকে কল আসার পরিমাণ দিন দিন কমছে। ২০১৫ সালের দিকে দৈনিক গড়ে বিদেশ থেকে ১২ কোটি মিনিট পর্যন্ত কল আসত, যা চলতি ২০২০ সালে এসে এক কোটিতে নেমেছে। এতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিটিআরসি, ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) অপারেটর, ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) ও মোবাইল ফোন ও টেলিফোন অপারেটরদের আয় কমছে। আবার সরকার প্রতি বছর বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে। আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশনের ক্ষেত্রে উচ্চ মাশুলের কারণেই অবৈধ ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল বা ভিওআইপি উৎসাহিত হচ্ছে বলে জানিয়ে আসছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এর জের ধরেই আন্তর্জাতিক কলের টার্মিনেশন রেট কমাল বিটিআরসি।

গতকাল বিটিআরসির ইস্যু করা এক চিঠিতে সর্বনিম্ন কল টার্মিনেশন রেট (ফ্লোর রেট) প্রতি মিনিটের জন্য ০.০০৬ ডলার ধরা হয়েছে। কোম্পানিগুলোকে ওই মূল্যের ভিত্তিতেই বিটিআরসির সঙ্গে আয় ভাগাভাগি করতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে বিদেশ থেকে আসা আন্তর্জাতিক কলের টার্মিনেশন রেট ০.০২৫ ডলার বা দুই টাকা ১২ পয়সা ছিল। এর বিপরীতে আইজিডব্লিউ সেবা প্রদানকারী কোম্পানিগুলোকে প্রতি মিনিট ০.০১৭৫ ডলার বা এক টাকা ৪৮ পয়সা ভিত্তিমূল্যে বিটিআরসির সঙ্গে আয় ভাগাভাগি করতে হতো।

এর আগে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশনের রেট পুনর্নির্ধারণ করা হয়। এতে কল টার্মিনেশন রেট ধরা হয় ০.০২৫ ডলার বা দুই টাকা ১২ পয়সা। কিন্তু ওই দামে বিদেশ থেকে কল আনা সহজ ছিল না। অবৈধ পথে খরচ কম হওয়ার কারণে অনেকেই সেপথে পা বাড়িয়েছে। তাই অবৈধ ভিওআইপি বেড়ে যায়। এ অবস্থায় অবৈধ ভিওআইপি ঠেকাতেই কল টার্মিনেশন রেট কমাল বিটিআরসি। এতে বিদেশ থেকে বৈধ পথে আসা কলের পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে বিটিসিএলসহ আইজিডব্লিউ অপারেটরের সংখ্যা ২৪টি। এ ছাড়া পাওনা অর্থ না দেওয়ায় বিভিন্ন সময়ে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করেছে বিটিআরসি।

উল্লেখ্য, বিদেশ থেকে বৈধ পথে আসা একটি আন্তর্জাতিক কলের রাজস্ব আয়ের ৪০ শতাংশ পায় বিটিআরসি। আর ২০ শতাংশ আইজিডব্লিউ অপারেটর, সাড়ে ১৭ শতাংশ আইসিএক্স অপারেটর এবং সাড়ে ২২ শতাংশ এক্সেস নেটওয়ার্ক সার্ভিস (এএনএস) প্রদানকারী সেলফোন অপারেটর কোম্পানি পায়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..