সম্পাদকীয়

অবৈধ স্পিডবোট চলাচল বন্ধে পদক্ষেপ নিন

নদী গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অন্যতম মাধ্যম। বিভিন্ন ধরনের পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি হাজার হাজার যাত্রীসেবা পাচ্ছেন নদীপথে। উদ্বেগজনক ব্যাপার হলো, নদীপথের পরিমাণ ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। তবে বিদ্যমান নদীপথে নৌযান ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করায় জীবনহানি এবং সম্পদহানিও বাড়ছে। অথচ কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করছেন, যা কাম্য নয়। জীবনহানি এবং সম্পদহানি বন্ধ করতে হলে অবিলম্বে বিদ্যমান নৌপথে নিরাপদ নৌযান চলাচল নিশ্চিতে উদ্যোগ নিতে হবে।

গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘অবৈধভাবে চলাচল করছে চার শতাধিক স্পিডবোট’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এতে বলা হয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে অবৈধভাবে চলাচল করছে চার শতাধিক স্পিডবোট। নিবন্ধনবিহীন, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন এসব স্পিডবোট নিয়ম না মানায় ঘটছে দুর্ঘটনা। স্পিডবোটডুবিতে দুর্ঘটনার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এক্ষেত্রে নীরব রয়েছে বলে অভিযোগ, যা উদ্বেগজনক। শুধু মাওয়া ঘাটেই নয়, ব্যস্ততম পাটুরিয়া-দৌলতদিয়াসহ আরও কয়েকটি স্থানে একই অবস্থা বিরাজ করছে। এভাবে চললে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনায় জীবনহানির শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

সড়কপথের পাশাপাশি নৌপথেও ফিটনেসবিহীন যানের চলাচলের নজির অনেক। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনার খবর আসে। নৌযান চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় নাব্যও হারাচ্ছে নদীগুলো। কয়েকদিন আগেই গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়, নাব্য সংকটের কারণে শত শত জাহাজ আটকা পড়েছে। এর মধ্যে অনিয়ন্ত্রিত স্পিডবোট চলাচল ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে সন্দেহ নেই। খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, স্পিডবোট ঘাট নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। যাত্রীদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেটও থাকে না। মাঝ পদ্মায় ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিদিনকার ঘটনা। স্পিডবোট উল্টে অনেকেই নিহত ও নিখোঁজ হয়েছেন। ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী নিয়ে চলাচলের অভিযোগ তো রয়েছেই। এমনকি রাতের অন্ধকারেও চলে অনেক স্পিডবোট। ফলে স্পিডবোটে চলাচল কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে তা সহজেই অনুমেয়।

এদেশের প্রেক্ষাপটে নৌযান চলাচলের গুরুত্ব রয়েছে সত্য। তবে সুরক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। সে লক্ষ্যে ফিটনেস পরীক্ষা করে নৌপথে চলাচলের উপযোগী স্পিডবোটের অনুমোদন দিতে হবে। অদক্ষ চালকের হাতে এ ধরনের স্পর্শকাতর যানের নিয়ন্ত্রণ দেওয়া অগ্রহণযোগ্য। পাশাপাশি নিবন্ধনসহ এ ধরনের নৌযান চলাচলের দায়িত্ব দিতে হবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হাতে এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিতে হবে। অতীতে লঞ্চ দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আমরা দেখেছি। আশার কথা, সাম্প্রতিক সময়ে তা অনেক কমেছে। এখন স্পিডবোটের কারণে যেন একই পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে ব্যাপারে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..