সারা বাংলা

অভয়নগরে সহস্রাধিক বিঘা জমিতে বোরো আবাদ ব্যাহত

বিলে জলাবদ্ধতা

মহসিন আলী, বেনাপোল (যশোর): যশোরের অভয়নগর ঝিকরার বিলে সহস্রাধিক বিঘা জমিতে থইথই করছে পানি। এসব জমিতে এ বছর বোরো আবাদ হচ্ছে না। আবার যেসব মৎস্য ঘেরে বোরো আবাদ হয়ে থাকে, সেগুলোয়ও এবার ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুণ।

সরেজমিনে জানা যায়, বিলের মধ্যকার মৎস্য ঘেরের মাছচাষিরা চুক্তি মোতাবেক মাছ চাষ শেষে পৌষের মধ্যে ঘেরের পানি সেচে জমিতে বোরো আবাদের পরিবেশ তৈরি করে দিতে জমির মালিকদের প্রতি বাধ্য থাকেন। কিন্তু এবার পানি সেচে বোরো আবাদের জন্য জমি প্রস্তুত করা একেবারেই সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে আমডাঙ্গা খাল দিয়ে পানি প্রবাহ বাড়াতে ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসন আন্দোলন কমিটির উদ্যোগে খালের পলি অপসারণ ও খাল প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। কিন্তু বিএডিসির অর্থায়নে প্রায় ৩০ লাখ টাকা খরচ করে আমডাঙ্গা খাল কাটা হয় এবং খালের ওপর পুরাতন ব্রিজটি ভেঙে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন ব্রিজ করা হয়। সরকারের এ কার্যক্রম এখন কৃষকের কোনো কাজেই আসছে না বলে জানান এলাকার কৃষকরা। পুরো মাঠই এখন জলাবদ্ধ। 

মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জানান, ঘের পানিতে ভরে গেছে। পানি পার না হতে পারায় এবার ঘেরে ধানও হবে না; আবার মাছ চাষ করাও সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, এ সময় আমরা ঘের থেকে পানি সেচ দিয়ে ঘেরের মধ্যে বোরো ধান চাষ করতাম; কিন্তু এবার ধান করা সম্ভবই হচ্ছে না। এতে কৃষক চরম ক্ষতির মুখে পড়বে।

মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী শের আলী জানান, এবার বিলে ধান হবে না। তাই মনে করেছিলাম, যেহেতু ঘের পানিতে ভরে গেছে, তাই এবার মাছ চাষ করব। কিন্তু তারও কোনো উপায় নেই। কারণ, ঘেরে যে পরিমাণ পানি রয়েছে, তার মধ্যে মাছ ছাড়লে যদি নতুন করে পানির চাপ আসে কিংবা বৃষ্টি হয়, তহালে আসল-ফসল দুটোই যাবে। ফলে পথে বসার ভয়ে কোনোটাই করা সম্ভব হচ্ছে না। এ রকম অবস্থা থাকলে কৃষকের অনাহারে দিন কাটবে।

লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক হোসেন আলী জানান, আমাদের প্রধান ফসল হচ্ছে বোরো চাষ। এটি না করতে পারলে আমরা পথে বসে যাব। তাছাড়া মাঠভরা পানি কৃষকদের প্রধান ফসল বোরো আবাদ নিয়ে যে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে, তা সরকারের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের বেঁচে থাকার কোনো উপায় নেই।

অভয়নগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সামদানি জানান, উপজেলার বিভিন্ন বিলে পানি জমে থাকায় এবার বোরো আবাদ নিয়ে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। তবে আমডাঙ্গা খাল দিয়ে কিছু পানি ভৈরব নদে নিষ্কাশন হচ্ছে। তা অবশ্য প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তিনি আরও জানান, বোরো আবাদ না হলেও আমন চাষ বেশ ভালো হয়েছে। কারণ, আমনের সময় পানি কম থাকায় এবং ওই সময় খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশন হওয়ায় কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পেরেছে কৃষক। কিন্তু এ এলাকার প্রধান ফসল বোরো চাষ সঠিকভাবে না করতে পারলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন খান জানান, সম্প্রতি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এসেছিলেন, তখন আমডাঙ্গা খাল পরিদর্শন করে তিনি একটি প্রকল্পের কথা জানিয়েছিলেন। আমরা চেষ্টা করছি ওই প্রকল্পের আওতায় কোনো সমাধান করা যায় কি না। তাছাড়া বিল ঝিকরার রাজাপুর-গোবিন্দ এলাকার কৃষক নিজেদের অর্থায়নে পানি সেচ করে বোরো আবাদ করে থাকে। কিন্তু এ বছর পানির চাপ এত বেশি যে, সেচ করতে যে পারিমাণ খরচ হবেÑতা বোরো আবাদ করে পুষিয়ে ওঠা যাবে না। ফলে এ বছর পানি সেচ করতে আগ্রহী হচ্ছে না স্থানীয় কৃষক। গত প্রায় এক সপ্তাহ যাবৎ মেশিন দিয়ে খালের গভীরতা বাড়ানোর কাজ চলছে। গভীরতা বাড়লে ভৈরব নদে পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে, সে লক্ষ্যে এ কাজ করা হচ্ছে। তাছাড়া সম্প্রতি মন্ত্রী পরিদর্শন করে একটি প্রকল্প ও দ্রুত টিআরএম বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করি দ্রুত সমাধান হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..