করপোরেট টক

অভিজাত খাবারের জন্য দ্য ম্যানহাটান ফিশ মার্কেট

তাজা, সুস্বাদু ও নির্ভেজাল খাবারের রেস্টুরেন্ট দ্য ম্যানহাটান ফিশ মার্কেট। এর বিস্তারিত তুলে ধরেছেন জহিরউদ্দিন অভি

হামিদ সাহেব রসনাবিলাসী মানুষ। খেতে পছন্দ করেন তিনি। সারা জীবন বিরিয়ানি, পোলাও, রোস্ট, কোপ্তা, কাবাবসহ ভারী খাবার খেয়েছেন। ফলে শরীরে বাসা বেঁধেছে ডায়াবেটিস, হাইপ্রেসার। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রাও বেশি। এখন এসব খাবার তার জন্য হারাম। ডাক্তার তাকে সামুদ্রিক মাছ-জাতীয় খাবারের পাশাপাশি কম মসলা দিয়ে তৈরি খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাই এখন হামিদ সাহেবের ভরসার জায়গা দ্য ম্যানহাটান ফিশ মার্কেট। হামিদ সাহেবের মতো অনেকে এখন সিফুডনির্ভর হয়ে পড়েছেন। কারণ, সারা জীবন ট্র্যাডিশনাল খাবার খেয়ে শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা রোগ।
বাংলাদেশের সি-ফুডপ্রেমীদের আস্থার নাম দ্য মানহাটান ফিশ মার্কেট। নামে মাছবাজার হলেও আসলে এটি অভিজাত রেস্টুরেন্ট। মালয়েশিয়ান ব্র্যান্ডের এ রেস্টুরেন্টটিতে রয়েছে হরেক রকম সামুদ্রিক মাছের সমাহার। রাজধানীর ধানমন্ডির ইন্টারন্যাশনাল ফুুুড কোর্ট ও বনানীর আওয়াল সেন্টারে রয়েছে এর জমজমাট দুটি আউটলেট। গুণে, মানে ও স্বাদে অনন্য বলে আউটলেট দুটি সারা বছর অতিথিতে ভরা থাকে।
বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বেড়েছে। ফলে সি-ফুডের চাহিদা রয়েছে। ভাত, মাছ, মাংস, বিরিয়ানি, পোলাও, পিজা, কাবাবসহ অতিরিক্ত মসলা-জাতীয় খাবারের বদলে সি-ফুডের প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়ছে। এ কারণে তারা প্রতিনিয়ত ছুটে আসছেন দ্য ম্যানহাটান ফিশ মার্কেটে।

কেন এত জনপ্রিয় ম্যানহাটান ফিশ মার্কেট: রেস্টুরেন্টটির খাবার এক কথায় অসাধারণ। সব মেন্যু অদ্বিতীয়। সারা রাজধানী খুঁজেও পাওয়া যাবে না ফ্রাইড কান্ট্রি মাশরুম, গার্লিক হার্ব মাসেল বা ফ্রাইড কালামারির মতো স্টার্টার। আর ভলকানো মাসেলতো পাগল করার মতো স্বাদের। এছাড়া রয়েছে ওয়েন্টার রুলেট, ক্রিসপি হোয়াইট বেইটসহ নানা মন হরণকারী সব খাবার।
স্যুপের জন্য সমাদৃত দ্য ম্যানহাটান ফিশ মার্কেট। এখানে রয়েছে অতি পুষ্টিকর সব স্যুপ। ক্রিম অব মাশরুমের কোনো তুলনা নেই। ফারমার্স স্যুপটা বেশ জনপ্রিয়। রয়েছে ক্লাম চাওডার, সি-ফুড চাওডার ও স্যামন চাওডারের মতো মজাদার স্যুপ। এখানের খাবারগুলো জনপ্রিয় হয়ে ওঠার অন্যতম কারণ হচ্ছে গুণগত মান। মানের সঙ্গে আপস নেই দ্য ম্যানহাটান ফিশ মার্কেটের।
ম্যানহাটান ফিশ মার্কেটের মেইন ডিশে রয়েছে ফ্লেমিং সি-ফুড প্লাটার। এতে রয়েছে ডরি, হেক, কড, শেরিসøাপার, ওশান পার্স ও স্যামনের বিশাল ডিশ। দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৭০০ টাকার এ প্লাটার চারজন তৃপ্তির সঙ্গে খেতে পারবেন।
আরও রয়েছে গ্রিল, দ্য বোম্ব, কালামারি মাসেল চিকেন, ক্লালক ফিশ চিকেন। একেকটি মেন্যু অন্যটির তুলনায় ভালো।
ম্যানহাটানে সারা বছর থাকে নানা অফার। এসব অফারে সত্যিকারের ডিসকাউন্ট দেওয়া হয়। ফলে অনেকে এ অফারের জন্য অপেক্ষায় থাকেন। বর্তমানে চলছে মোস্ট ওয়ান্টেড লাঞ্চ ডিল ইন দ্য সিটি অফার। এ অফারের আওতায় আপনি সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পাচ্ছেন মাত্র ২৬০ টাকায় তৃপ্তিদায়ক নিরাপদ খাবার।
দ্য ম্যানহাটান নিয়ে তরুণদের মধ্যেও রয়েছে বিশেষ ক্রেজ। ধানমন্ডিনিবাসী জেবা তাসনিম রেস্টুরেন্টটির ফুড নিয়ে লিখেছেন ‘দ্য বেস্ট প্লেস ফর সি ফুড’। সার্ভিসটাও অসাধারণ। বনানীতে বসবাসরত অপর এক তরুণ লিখেছেন  ম্যানহাটানে আসি পেট ভরতে নয়, মন ভরাতে। এখানের খাবার খুব তৃপ্তিদায়ক। শুধু তা-ই নয়, পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত। এ কারণে এখানে বারবার আসি।
মানহাটান রেস্টুরেন্টের সবচেয়ে জনপ্রিয় মেন্যু: ফিশ অ্যান্ড চিপস, ফ্রাইড-জায়েন্ট। দাম যথাক্রমে ৭৪৭.৫০ ও দুই হাজার ৫৩০ টাকা। ফ্রাইড-জায়েন্ট মেন্যুটি তিন থেকে চারজন নিয়ে খাওয়া যায়।
খাবারের নিরাপত্তা: এখানকার সব খাবার সঠিক তাপমাত্রা ও গুণগত মান বজায় রেখে তৈরি করা হয়।
খাবারের পুষ্টিমান: এখানের প্রয়োজনীয় সব মসলা ও পণ্য মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা হয়, যা আমাদের দেশে পাওয়া সম্ভব নয়।
খাবার সংরক্ষণ: তাজা খাবারের অনন্য প্রতিষ্ঠান ম্যানহাটান ফিশ মার্কেট। এখানে অতিথির অর্ডারের পর খাবার রান্না করা হয়। তারপর তা সরাসরি পরিবেশন করা হয়। আগে রান্না করা খাবার কিংবা বাসি খাবার পরিবেশনের কোনো সুযোগ নেই এখানে।
অফার: ৭ জুলাই থেকে ফিশ অ্যান্ড চিপস (লাইট পোরশন)+লেমন আইস টি অফারটি পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৯৯ টাকায়। অফারটি সীমিত সময়ের জন্য। এ অফারটি থাকবে আগামী ৬ আগস্ট সকাল ১১ হতে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।
খাবারের খরচ: দুজন অতিথির লাঞ্চ অথবা ডিনার করতে এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ টাকার মতো খরচ হয় (পানীয়সহ)। তবে বিশেষ অফার থাকলে খরচ কম হবে।
পরিবেশ: এটি একটি ফ্যামিলি রেস্টুরেন্ট। পাশাপাশি মধ্য বয়সী, ছেলে ও মেয়ে সবাই এখানে আসেন। নতুন প্রজন্মের তরুণদের পছন্দের জায়গা দ্য ম্যানহাটান ফিশ মার্কেট।
সুযোগ-সুবিধা: ফ্রি ওয়াইফাই ও লিফটের সুব্যবস্থা রয়েছে।

গুণগান ভোক্তাদের মুখে…

খাবারের গুণগত মানের পাশাপাশি সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করে দ্য ম্যানহাটান ফিশ মার্কেট। সংগত কারণে রেস্টুরেন্টটি জয় করে নিয়েছে ভোক্তার মন। বোঝাই যায়, খাবারের স্বাদ নিয়ে নেই কোনো অভিযোগ। সেবাপ্রাপ্তিতে রয়েছে অতুলনীয় তৃপ্তির ছোঁয়া।
ম্যানহাটানে বন্ধুদের নিয়ে এসেছেন আহনাফ ইবরাহিম। তিনি বলেন, একজন বন্ধুর কাছে রেস্টুরেন্টটি সম্পর্কে শুনেছি। আর দেরি না করে বন্ধুদের নিয়ে চলে এলাম। আমরা যা অর্ডার করেছি, তা সামনেই তারা প্রস্তুত করে দিয়েছে। খুব মজা পেয়েছি। তাদের সেবায় আমরা অভিভূত।
রেস্টুরেন্টটির ইন্টেরিয়র ডিজাইন নজরকাড়া। চারটি ব্লকে ভিন্ন ভিন্ন ধাঁচে সাজানো-গোছানো। সব মিলিয়ে অনুভূতিটা সুখকর। এ কারণে ভোক্তাসাধারণও মুগ্ধ।
সাজদার ইসলাম পরিবার নিয়ে দুপুরের খাবার সারতে এসেছেন। গুনে গুনে পঞ্চমবারের মতো এসেছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে। এখানকার সুস্বাদু ও উপাদেয় খাবার বেশ কয়েকবার বাসায়ও নিয়ে গেছেন। তার পরিবারের সদস্যরা জানালেন, ম্যানহাটানের খাবার ভালো। সেবা উন্নত মানের।
ভোজনরসিক ও একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ রায়ান হায়দার। তার সহধর্মিণী কিরন হায়দারও স্বাস্থ্যসচেতন। একটু বাছবিচার করেই তবে খাবার খায় এ দম্পতি। তারা একটু নির্ভেজাল খাবারের আশায় ধানমন্ডি, উত্তরা, গুলশান, বারিধারা ও বনানীর প্রায় সব রেস্টুরেন্টের ফিশ আইটেমের স্বাদ চেখে দেখেছেন। কিন্তু মন ভরেনি তাদের। তবে তাদের সেই আক্ষেপ দূর করেছে দ্য ম্যানহাটান ফিশ মার্কেটের খাবার। সেই যে রেস্টুরেন্টটি চালু হওয়ার পর এখানে এসেছেন, আর কোথাও গিয়ে খাবার খেয়ে তৃপ্তি পাননি তারা। তাই অন্য কোথাও না গিয়ে এখানেই নিয়মিত খেতে আসেন। তারা উচ্ছ্বাস নিয়ে বলেন, ফিশ আইটেমের জন্য অনেক রেস্টুরেন্ট ট্রাই করেছি। কিন্তু মনমতো হচ্ছিল না। দ্য ম্যানহাটান সেই চিন্তা থেকে মুক্তি দিয়েছে। অসাধারণ! খুব ভালো লাগছে আমাদের।

মাউথ ওয়াটারিং ডিশের স্বাদ নিন দ্য ম্যানহাটান ফিশ মার্কেটে


লিপ স্ম্যাকিংয়ের প্রায়োগিক অর্থ হচ্ছে চেটেপুটে খাওয়া। দ্য ম্যানহাটান ফিশ মার্কেট সি-ফুডপ্রেমীদের কাছে তেমনই একটি রেস্টুরেন্ট। এ রেস্টুরেন্টের নাম শুনলেই সি-ফুডপ্রেমীদের মুখে জল আসে। আর আসবেই না কেন? এখানে রয়েছে হরেক রকম চিংড়ি, সামুদ্রিক মাছ, শামুক-ঝিনুকসহ মজাদার খাবারের সমাহার। প্রতিটি ডিশ স্বাদে ও গুণে অতুলনীয়। আর এ কারণে বিশেষ সি-ফুডের স্বাদ নিতে ধানমন্ডি ও বনানীর দুটি আউটলেটে নিয়মিত ছুটে যান ভোজনবিলাসীরা।
রেস্টুরেন্টটির মান, স্বাদ ও পরিবেশন অত্যন্ত ব্যতিক্রমী। বিদেশি এ ব্র্যান্ড রেস্টুরেন্টটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় খাবারের মান নিয়ন্ত্রণকে। এ কারণে বেশ জনপ্রিয়। রেস্টুরেন্টটির গুণের খবর বঙ্গভবন পর্যন্ত গেছেÑদ্য ম্যানহাটান ফিশ মার্কেটের খাবার বঙ্গভবনে পরিবেশন করা হয়েছে।
সারা বিশ্বে সি-ফুড রেস্টুরেন্ট ব্যয়বহুল হলেও ম্যানহাটান ফিশ মার্কেট এর ব্যতিক্রম। এখানে তুলনামূলক কম দামে পছন্দের খাবার খান ক্রেতাসাধারণ।
রেস্টুরেন্টটিতে লাঞ্চ ও ডিনারের জন্য অভিজাত কাস্টমাররা ভিড় করেন। এখানে একসঙ্গে ৯৫ জন অতিথিকে খাবার পরিবেশন করা যায়।
দ্য ম্যানহাটান ফিশ মার্কেটের ডাইনিং রুম সাজানো হয়েছে অত্যাধুনিক ডিজাইনে। ডাইনিং রুমের মতো কিচেন রুমও বেশ পরিচ্ছন্ন। আধুনিক ও প্রশস্ত কিচেনে সবকিছু অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়। কিচেনের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে জিরো টলারেন্স। নিয়মিত তদারকি করা হয়। সবকিছু মিলে সুস্বাদু ও ফ্রেশ খাবারের জন্য অন্য রকম একটি রেস্টুরেন্ট দ্য ম্যানহাটান ফিশ মার্কেট।
মালয়েশীয় এ ব্র্যান্ডটি গত ১০ বছরে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপান, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ব্রুনাই ও মালদ্বীপে বেশ কয়েকটি আউটলেট খুলেছে। সি-ফুড রেস্টুরেন্টের ক্ষেত্রে দ্য মানহাটান ফিশ মার্কেট এখন এশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট।

পাঁচে চার দশমিক এক

দ্য ম্যানহাটান ফিশ মার্কেটের সব খাবার নিরাপদ বলে স্বীকৃত। গুণগত মানে সেরা। এ দুইয়ের কারণে ভোক্তা শ্রেণির কাছে বেশ জনপ্রিয় এ রেস্টুরেন্টটি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকও জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পেছনে ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করেছে। রেস্টুরেন্টটির ফেসবুক পেজ  https://www.facebook.com এ পেজে লাইক রয়েছে প্রায় ৮২ হাজার। নিয়মিত ফলো করেন প্রায় সমানসংখ্যক ফেসবুক ব্যবহারকারী। রয়েছে প্রায় ৬০০’র মতো ভোক্তার প্রশংসাসূচক রিভিউ। পেজটির রেটিং পাঁচের মধ্যে চার দশমিক এক। বিষয়গুলো রেস্টুরেন্টটির ইতিবাচক প্রচারে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
চাইলে যে কোনো ভোজন রসিক ফেসবুকে রেস্টুরেন্টের মেন্যুর অগ্রিম অনুরোধও করতে পারেন। সে অনুযায়ী খাবার তৈরি করে রাখে দ্য ম্যানহাটান ফিশ মার্কেট কর্তৃপক্ষ।

যোগাযোগ
বনানী শাখা
আওয়াল সেন্টার (প্রথম তলা)
৩৪, কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ
বনানী বা/এ, ঢাকা ১২১৩
খোলা থাকে: সকাল ১১টা থেকে রাত ১১টা

ধানমন্ডি শাখা
লেভেল ২ ও ৩
৭৫৪/বি সাতমসজিদ রোড
ধানমন্ডি আ/এ, ঢাকা
খোলা থাকে: দুপুর ১১টা থেকে রাত ১১টা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..