প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

অভিযুক্ত ৬৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করবে শুল্ক গোয়েন্দা

অ্যাসাইকুডা আইডি জালিয়াতি

রহমত রহমান: অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম হ্যাক বা অবৈধ অনুপ্রবেশের মাধ্যমে ২২টি চালানে ২৭টি কন্টেইনার খালাস নেওয়া হয়েছে। এসব চালান খালাসে অভিযুক্ত ১৪ আমদানিকারক, সাত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ৩২ কাস্টমস বা জেটি সরকার ও তিন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীসহ ৬৭ জনকে চিহ্নিত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং ও ফৌজদারি আইনে পৃথক ২০টি মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।
অভিযুক্তদের মধ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী মো. জহুরুল ইসলামকে চট্টগ্রাম থেকে আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা। এছাড়া প্রযুক্তির সহায়তায় জালিয়াতি করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরও ২০টি মামলারও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এনবিআরের একটি বিশ্বস্ত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড অপব্যবহার করার বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর গত ১৪ জানুয়ারি এনবিআরে প্রতিবেদন দেয়। ১৫ জানুয়ারি একই বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমসকে চিঠি দেওয়া হয়। ১৬ জানুয়ারি দৈনিক শেয়ার বিজ পত্রিকায় ‘চট্টগ্রাম বন্দরে অভিনব পন্থায় কন্টেইনার খালাস: অবসরে কর্মকর্তা, আইডি সচল’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ নিয়ে চারটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির দেওয়া প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সম্প্রতি ৬৭ জনকে চিহ্নিত ও মামলা করার নির্দেশ দেয় এনবিআর। অপরদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অপর একটি প্রতিবেদনে জালিয়াতির মাধ্যমে ২২ চালানে ২৭ কন্টেইনার খালাসে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টম হাউসের ৩২ কর্মকর্তা-কর্মচারীর জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে।
সূত্র আরও জানায়, আমদানিকারক ১৪ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ১৬ জন অভিযুক্ত হলেন ঢাকার সৈয়দ আওলাদ হোসেন লেনের আর কে ইন্টারন্যাশনালের বীথি রানী সাহা, গুলশান আরা সিটির সিফাত ট্রেডিংয়ের মো. সালাহ উদ্দিন টিটো, জারার এন্টারপ্রাইজের মাহবুবুর রহমান, মুভিং ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনালের মো. মিজানুর রহমান চাকলাদার, মো. মফিজুল ইসলাম লিটন, আবদুল মান্নান দেওয়ান, চকবাজারের মেসার্স এসপি ইন্টারন্যাশনালের মোহাম্মদ সেলিম, ঢাকার মৌলভীবাজারের মেসার্স জাহিদ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মো. জাহিদুল ইসলাম, পাবনা সদরের এস কে এস এন্টারপ্রাইজের রাশেদুল ইসলাম কাফি, গাজীপুর সদরের খান এন্টারপ্রাইজের মো. রাশেদুল হাসান খান, হাতিরপুলের মিমি লেদার কটেজের গোলাম মোস্তফা, মতিঝিলের মেসার্স এ কিউ ট্রেডিংয়ের আবদুস কুদ্দুস রায়হান, নওয়াবপুরের মেসার্স সুপার ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের রবীন্দ্রনাথ সরকার, উত্তরার এইচ এল ট্রেড করপোরেশনের আবদুল হান্নান দেওয়ান, ঢাকার মৌলভীবাজারের এসডি ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনালের নাসরিন রায়হান এবং ঢাকার কুদরাত-এ-খুদা রোডের স্যাম ইন্টারন্যাশনালের মো. সেফায়েত উল্লাহ।
সাতটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের ১৭ স্বত্বাধিকারী ও ৩২ কাস্টমস সরকার হলেন মেসার্স এম আর ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান চাকলদার এবং কাস্টমস সরকার দুলাল শিকদার, সজীব মিয়া ও মো. রাজ্জাক হাওলাদার। চাকলাদার সার্ভিসেসের স্বত্বাধিকারী মো. হাবিবুর রহমান অপু চাকলাদার এবং কাস্টমস সরকার মো. নাঈম মৃধা, মো. শফিকুল ইসলাম, মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান ও মো. শাকিব হাসান তুহিন। স্মরণিকা শিপিং কাইজেন লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মো. কামরুল ইসলাম, জাবেদ আহমেদ, তানজিন মোর্শেদ, এএসএম খসরুল আলম খান, শরীফ উদ্দিন, মো. আবদুল কাফি ও মো. আনিসুর রহমান এবং কাস্টমস সরকার ইমরান রেজা। মেসার্স লাইলা ট্রেডিং কোম্পানির স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং কাস্টমস সরকার আবদুল হালিম জমাদ্দার, মো. এরশাদ, মো. আরিফুর ইসলাম চৌধুরী, মো. সাদ্দাম হোসেন, মো. মঈনুদ্দিন, মো. ফারুক আহম্মদ, মো. কামরুল ইসলাম ভূঁইয়া, মো. ইমাম হোসেন, সাদ্দাম হোসেন ও মো. ইকবাল হোসাইন। মেসার্স এম অ্যান্ড কে ট্রেডিং করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী তোফাজ্জল হোসেন মোল্লা এবং কাস্টমস সরকার মো. রাহাত হোসেন, আলাউদ্দিন মোল্লা, মো. ওহিদুর হাওলাদার, মো. সুমন, মো. রমজান আলী। মেসার্স লাবণী এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মো. রাশেদ খান, মো. রুহুল আমিন, মো. আরিফুর রহমান, মো. তোফায়েল আহমেদ এবং কাস্টমস সরকার মো. নিজাম উদ্দিন মামুন ও আরিফুল ইসলাম। মেসার্স মজুমদার ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী ইকবাল হোসেন মজুমদার ও ইমরান হোসেন মজুমদার এবং কাস্টমস সরকার মো. মোজাম্মেল হোসেন, মো. সাইফুল আলম চৌধুরী, আলাউদ্দিন ভূঁইয়া, মো. মিজানুর রহমান, মো. সেলিম, মো. ইমরান হোসেন মজুমদার ও শাওয়ান শরীফ ভূঁইয়া।
এদিকে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী তিন অভিযুক্ত হলেন চট্টগ্রামের চাঁদগাও হাসান কলোনী এলাকার মো. আবুল হোসেনের ছেলে মো. আবুল কামাল, হালিশহর দাদা মিয়া বাড়ির মো. জহুল ইসলাম ও মিরসরাই বাড়িয়াখালীর ছলিম উদ্দিন বাড়ির মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে মো. আবদুল গোফরান। এর মধ্যে মো. জহুরুল ইসলামকে গতকাল চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।
সূত্র জানায়, ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকিসহ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে পণ্য খালাস নেওয়ার অভিযোগে চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। এতে ৩০টি কন্টেইনার ছাড় করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি মেসার্স এম আর ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মো. মিজানুর রহমান চাকলাদারকে গ্রেফতার করে রমনা থানায় সোপর্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা। এসব কন্টেইনারে লোহা ও ইস্পাত পণ্য ছিল বলে ঘোষণা দেওয়া হলেও বিদেশি সিগারেট, দামি মদ ও পোশাক কারখানার কাপড় ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। মামলাটি বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে। এর আগে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা ডিএএম মুহিবুল ইসলামের আইডি ১১৬ বার ও ফজলুল হকের আইডি তিন হাজার ৬৬১ বার ব্যবহার করে পণ্য খালাস নেওয়া হয়েছে বলে তথ্য উদ্ঘাটন করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।

সর্বশেষ..