প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

অভিযোগ বিএনপির: ‘আত্মসাতের চেষ্টায়’ মার্কেটে আগুন

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: গুলশানের ডিসিসি মার্কেট ‘আত্মসাতের চেষ্টায়’ আগুন দেওয়ার অভিযোগ এনেছে বিএনপি। দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সরকারের কর্মপদ্ধতির ‘ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ’ করে তারা বুঝতে পেরেছেন, গুলশান-১-এর ডিসিসি মার্কেটের অগ্নিকাণ্ড একটি ‘নাশকতা’ এবং এর সঙ্গে ‘শাসকদলের যোগসূত্র’ আছে।

সুষ্ঠু তদন্তের অভাবে ওই ঘটনা যাতে ধামাচাপা পড়ে না যায়, কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের যাতে মার্কেট থেকে উচ্ছেদ করতে না পারে সেজন্য সবাইকে ‘সচেতন থাকার’ আহ্বান জানান রিজভী। তিনি বলেন, ব্যবসায়ী নেতারা সরকারের লোকদেখানো তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছেন। গোটা দেশের মালিক হওয়ার জন্যই শাসকদল দেশবাসীর সম্পত্তি গ্রাস করে নিতে চাচ্ছে। আমরা নাশকতা সৃষ্টিকারীদের মুখোশ উম্মোচন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

এদিকে ঘটনার পরদিন ওই মার্কেট ঘুরে দেখে অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মেয়াদে ২০০৩ সালে তৎকালীন মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সময় ডিসিসি মার্কেটের জায়গায় ১৮ তলা গুলশান ট্রেড সেন্টার নির্মাণের দরপত্র দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েও তা করতে অপারগতা জানালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা মেট্রো গ্রুপের আমিন অ্যাসোসিয়েটস ওভারসিজ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। ওই চুক্তিতে বলা হয়, দুই হাজার ২৪টি দোকানের মধ্যে ডিসিসি পাবে ২৭ শতাংশ; আর আমিন অ্যাসোসিয়েটস ৭৩ শতাংশ দোকান পাবে।

পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ওই চুক্তি স্থগিত করার পর আলোচনার ভিত্তিতে ডিসিসির মালিকানা বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়। তখন নতুন চুক্তি হলেও দোকান মালিকরা উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করায় ভবন নির্মাণ আর শুরু করতে পারেনি ঠিকাদার কোম্পানি। সম্প্রতি ওই রিট আবেদনের নিষ্পত্তি হয়ে গেছে জানিয়ে ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক বৃহস্পতিবার বলেছেন, নতুন ভবন তৈরি হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা সেখানে অগ্রাধিকার পাবেন।

গতকালের সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কেন্দ্রীয় নেতা সানাউল্লাহ মিয়া, এমএ মালেক, আবদুস সালাম আজাদ, আসাদুল করীম শাহিন, মুনির হোসেন, সুলতানা আহমেদ, হাফেজ আবদুল মালেক ও শাহ নেসারুল হক উপস্থিত ছিলেন।