সম্পাদকীয়

অযাচিত অপচয় রোধে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করুন

আমাদের বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ পুরোনো। বড় প্রকল্পে যৌক্তিক কারণে অতিরিক্ত ব্যয় হতেই পারে। বড় প্রকল্পগুলোয় ব্যবহার্য সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির বেশিরভাগই আমদানিনির্ভর। এখানে উচ্চহারে আমদানি শুল্কও পরিশোধ করতে হয়। প্রতি বছরই নির্মাণসামগ্রীর দাম, পরিবহন খরচ ও লোকবলের বেতন-ভাতা বাড়ে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতায় ব্যয় বাড়ে। অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রকল্প ব্যয় ও সংশোধন করতে হয়। তবে অতিরিক্ত ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি না থাকার কারণে অতিরিক্ত ব্যয় মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের দেশে সড়ক-মহাসড়ক, সেতু-উড়াল সেতু, সমুদ্রবন্দর, রেলপথ নির্মাণ ও সংস্কারের সব প্রকল্পই অতিরিক্ত ব্যয়ে বাস্তবায়িত হয়েছে, এটি নতুন নয়। তাই বড় প্রকল্পের যথাযথ বাস্তবায়ন ও দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছেন সবাই। কিন্তু অবস্থার উন্নতি দৃশ্যমান নয়। এ নিয়ে নাগরিক সমাজে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই অতিরিক্ত ব্যয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে বিমানবন্দর।
গতকালের শেয়ার বিজে প্রকাশিত প্রতিবেদন ‘খানজাহান আলী বিমানবন্দর: নির্মাণ শুরুর আগেই ব্যয় বেড়ে চারগুণ’ পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে।
তথ্যমতে, বিমানবন্দরটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৪৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয় ২০১৫ সালের ৫ মে। ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল। তবে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে সম্প্রতি বিমানবন্দরটি নির্মাণে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে বিমানবন্দরটি নির্মাণে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে দুই হাজার ১৮১ কোটি টাকা। অর্থাৎ নির্মাণ ব্যয় চারগুণ ছাড়িয়ে গেছে।
আমাদের দেশে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ার দৃষ্টান্ত খুবই কম। কোনো প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয়ের কয়েকগুণ অর্থ ব্যয় হয়েছে কাজ শেষ করতে। কাজ শুরু হওয়ার আগেই নির্মাণব্যয় বাড়ানোর দৃষ্টান্ত রয়েছে। খানজাহান আলী বিমানবন্দর এখন উদাহরণের তালিকাটি বড় করল।
তুলনামূলক পর্যবেক্ষণের পর বিশ্বব্যাংক বলে আসছে বাংলাদেশের প্রকল্পে নির্মাণব্যয় বেশি। তিনটি সেতু নির্মাণে কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাকে অর্থায়নের অনুরোধ জানিয়েছে ইআরডি। কয়েক দফা চিঠি পাঠালেও সাড়া পাওয়া যায়নি। এখন খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ শুরুর আগেই অতিরিক্ত ব্যয়ের খবরে নেতিবাচক বার্তা যাবে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হলে রাষ্ট্রের শত শত (এখন হাজার কোটি ছাড়িয়ে যাচ্ছে) কোটি টাকা অপচয় রোধ করা সম্ভব।

সর্বশেষ..