দিনের খবর মত-বিশ্লেষণ

অর্থনীতির প্রাণ রেমিট্যান্স

মো. ফুয়াদ হাসান: পৃথিবীর মানচিত্রে ছোট দেশ হলেও বাংলাদেশ বর্তমান বছরগুলোয় অর্থনৈতিক বিভিন্ন সূচকে অভাবনীয় সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে তাক লাগিয়ে দিয়েছে বিশ্ববাসীকে। আমাদের অর্থনীতির অগ্রযাত্রা নতুন করে ভাবনার খোরাক জুগিয়েছে বিশ্বকে। বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্ববাসীর কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম। দেশের এই অর্থনীতির অগ্রযাত্রা যে কয়টি খাতের ওপর নির্ভরশীল, তার মধ্যে অন্যতম রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। বাংলাদেশের বিপুল জনসমষ্টি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। তারা উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠায়। তাদের পাঠানো এই অর্থকে বলে রেমিট্যান্স। বাংলাদেশে অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের গুরুত্ব কম নয়।

প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছে। দেশের মোট জিডিপিতে রেমিট্যান্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ফলে বর্তমানে ব্যাংকে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি। বর্তমানে ১৭৪টি দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বসবাস। মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সংখ্যা প্রায় এক কোটি ২৫ লাখ। মধ্যপ্রাচ্য ও সৌদি আরবে রয়েছে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি, তাদের সংখ্যা প্রায় এক দশমিক দুই মিলিয়ন। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ওমান, বাহরাইন, জর্ডান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, কোরিয়া, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসীদের বসবাস রয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্বল্পসংখ্যক প্রবাসী রপ্তানির মাধ্যমে এই যাত্রা শুরু হয়, যা ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পায়। ১৯৭৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে সীমিত আকারে যাওয়া প্রবাসীদের সংখ্যা ছিল ছয় হাজার ৮৭ জন। ১৯৯৩ সালে এই সংখ্যা দুই লাখ অতিক্রম করে। ২০১৭ সালে রেকর্ডসংখ্যক প্রবাসী বিদেশে পারি জমায়, যার সংখ্যা ছিল ১০ লাখ আট হাজার ৫২৫ জন।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য অনুসারে, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ছয়-সাত লাখ মানুষ বিভিন্ন দেশে যায়। প্রতি মাসে বাংলাদেশ থেকে ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষ বিদেশে যায়। এসব প্রবাসী বছরে ১৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠায়, স্থানীয় মুদ্রায় যা এক লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা এবং দেশের মোট রপ্তানি আয়ের অর্ধেকের বেশি। এই বিপুলসংখ্যক লোক দিনরাত পরিশ্রম করে শুধু পরিবারে অন্নের সুব্যবস্থা করেনি, সচল রেখেছে দেশের অর্থনীতির চাকাও। ২০১৫ সালে প্রবাসীরা এক লাখ ৩০ হাজার ২৯৩ দশমিক ৬১ কোটি টাকা পাঠায় বাংলাদেশে। এটি ধাবমান গতিতে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দাঁড়ায় ১৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলারে। করোনার এই দুঃসময় ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবাসীরা রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠায়, যার পরিমাণ এক হাজার ৮২০ কোটি ৩০ লাখ (১৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন) ডলার, যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে ১০ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি।

আমাদের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রবাসীদের পাঠানো এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সচল রেখেছে দেশের অর্থনীতিকে। জীবনযাত্রার মান, কাঠামোগত ক্ষেত্র, নির্মাণ, আবাসন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যাংকসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখে রেমিট্যান্স। আমাদের দেশের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী তাদের পরিবারের জন্য অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত টাকা পাঠায়। ফলে সরকারের এই বিপুল পরিবারের জন্য দায়ভার নিতে হয় না। তাছাড়া প্রবাসীরা যদি নিজের সন্তান বা নিকটাত্মীয় কাউকে আত্মকর্মসংস্থান বা কুটিরশিল্প স্থাপনের জন্য অর্থ সহায়তা করে, তাহলে একসঙ্গে অনেক যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের বেকার সমস্যা লাঘব হবে। অন্যদিকে দেশের অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হবে। প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে কেমন অবদান রাখে, তা প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা ও অন্য এলাকার উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার মান তুলনা করে দেখলেই বোঝা যায়। প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে শিক্ষার হার ও জীবনযাত্রার মানে দ্রুত উন্নতি লক্ষ করার মতো।

বিএমইটির তথ্যমতে, বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি পুরুষ প্রবাসে গিয়েছে কুমিল্লা থেকে। তার পরই রয়েছে চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইল ও নোয়াখালী। অন্যদিকে সবচেয়ে কম পুরুষ প্রবাসে গিয়েছে তিনটি পার্বত্য জেলা এবং উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে। প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকায় জমির মূল্য, আবাসন, ব্যবসা, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিমালিকানাধীন হাসপাতাল প্রভৃতির সংখ্যা অন্য এলাকা থেকে অনেক বেশি। প্রবাসী অধ্যুষিত জেলার মানুষের জীবনযাত্রার মান ও মাথাপিছু ব্যয় ক্ষমতা অন্য জেলার মানুষের তুলনায় অনেক বেশি।

গত ডিসেম্বর থেকে করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশ্ব একেবারে স্থবির হয়ে পড়েছে। থমকে গিয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। বিশ্বের বড় বড় অর্থনৈতিক শক্তিধর দেশের অর্থনীতি নেতিয়ে পড়েছে করোনায় তাণ্ডবে, যার প্রভাব থেকে মুক্ত নয় দক্ষিণ এশিয়ার ধাবমান অর্থনীতির এই ছোট দেশ বাংলাদেশ। আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতি নিশ্চল ছিল মাত্র কয়েক দিন আগেও। অনেক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাসে রীতিমতো গলা শুকিয়ে গিয়েছিল দেশের সুধীজনদের। বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে বেকার সমস্যা এমনিতেই প্রকট, করোনা তার ওপর নতুন করে ভয়ের সৃষ্টি করেছে। আমাদের অর্থনীতির আরেক বড় খাত পোশাকশিল্পেও লেগেছে করোনার ছাপ।

সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতি একেবারে টালমাটাল অবস্থা। ভরসা ছিল রেমিট্যান্সের ওপর, কিন্তু সেটাও করোনার প্রভাব থেকে মুক্ত ছিল না। করোনার ফলে রেমিট্যান্সের পরিমাণ কমে যাবে বলেও অনেকে মত প্রকাশ করেছিল। চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারির ১৫ দিনেই প্রায় এক বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে বাংলাদেশে। মার্চ থেকে বৈশ্বিক পরিস্থিতি ওলটপালট হয়ে যায়। ২০২০ সালের মার্চে ১২৮ কোটি ৬৮ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল, যা ২০১৯ সালের মার্চ মাসের চেয়ে ১৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ কম। পরের মাস এপ্রিলে রেমিট্যান্স আরও কমে ১০৮ কোটি ১০ লাখ ডলারে আসে, তাও গত বছরের এপ্রিলের চেয়ে ২৪ দশমিক ৬১ শতাংশ কম। কিন্তু মে মাসে চিত্র পাল্টাতে থাকে। প্রথম ১১ দিনে ৫১ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে। ১৯ মে তা ১০৯ কোটি ১০ লাখ ডলারে দাঁড়ায়। ৩১ মে মাস শেষে সেই রেমিট্যান্স গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০ কোটি ৩০ লাখ ডলারে। করোনার এই দুঃসময়ে রেমিট্যান্সযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। সব কল্পনা মুছে দিয়ে এই কঠিন সময়েও রেমিট্যান্সের সূচক ঊর্ধ্বমুখী রেখেছেন বাংলাদেশের প্রবাসীরা। ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠান তারা, যার পরিমাণ ছিল ১৮৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। করোনার মাঝে রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বগতি সত্যই আশা জাগায়। এই মহাবিপদের মাঝে তারা রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে, দেশের অর্থনীতিতে আশার আলো জ্বালাচ্ছে। অথচ আমরা তাদের এই অবদানের কতটা মূল্যয়ন করতে পেরেছি, কতটা নিরাপদ করতে পেরেছি তাদের প্রবাসজীবন? নাকি প্রতিদান দিয়েছি কামলা ডেকে আর প্রবাসজীবনে ব্যাগভর্তি দুর্দশা দিয়ে। যদি সত্যই আমরা নিরাপত্তা দিতে পারতাম তাহলে কি প্রবাসে নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশের নারী শ্রমিক বা বিদেশে অরক্ষিত প্রবাসীদের এমন খবর পত্রিকার পাতায় দেখতে হতো? করোনার কারণে প্রবাসীদের অনেকে কাজ হারিয়েছেন, বিশেষ করে যাদের বৈধতা নেই, তারা কাজের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকে এরই মধ্যে দেশে ফিরেছেন। করোনার প্রভাবে এরই মধ্যে সাত লাখ প্রবাসী দেশে ফিরেছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, করোনার প্রভাবে বিভিন্ন দেশে থেকে প্রায় ১০ লাখ প্রবাসী কাজ হারিয়ে দেশে ফেরত আসতে পারে। জাদওয়া ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির জরিপ বলছে, চলতি বছরে প্রায় ১২ লাখ শ্রমিক ফেরত পাঠাবে সৌদি আরব, যা বাংলাদেশের জন্য দুঃসংবাদ। আর চলতি বছরের মে পর্যন্ত বিশ্বের ১৭টি দেশে করোনা-আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি। অনেকে অকালে প্রাণ দিয়ে দিয়েছে। প্রবাসীদের এই অকাল মৃতু দেশের অর্থনীতির জন্য সত্যই দুঃসংবাদ। অন্যদিকে বাংলাদেশের শ্রমিক অদক্ষ বা অশিক্ষিত হওয়ার ফলে তাদের নিন্ন মানের কাজ দেওয়া হয়। সেসব কাজের ঝুঁকি বেশি, কিন্তু বেতন অপর্যাপ্ত। তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করায় আমরা এখনও পিছিয়ে। প্রবাসীদের সব সমস্যার কথা লিখে শেষ করা যাবে না। তাদের ভোগান্তির শুরু হয় ঘর থেকে। আমাদের রেমিট্যান্স-যোদ্ধাদের বেশিরভাগ গ্রামের অর্ধশিক্ষিত বা অশিক্ষিত মানুষ। দালালরা প্রবাসজীবনের কষ্টের কথা গোপন করে উচ্চ বেতন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কাজের জায়গা, রাজকীয় জীবনযাপনের স্বপ্ন দেখিয়ে বিদেশ পাঠানোর ফাঁদে ফেলে। তারপর পাসপোর্ট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, ডাক্তারি পরীক্ষা, ভিসা, ইমিগ্রেশন, স্মার্টকার্ড ও বিমান ভাড়া প্রভৃতির কথা বলে সূক্ষ্মভাবে হাতিয়ে নেয় প্রয়োজনের দ্বিগুণ টাকা। সহজসরল এ মানুষগুলো প্রবাসে গিয়ে দুর্দিন পার করে। বাংলাদেশে মাত্র দুটি ব্যাংক প্রবাসীদের বিদেশ যেতে ঋণ দেয়Ñরাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক অগ্রণী ও বেসরকারি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। তাদের প্রদান করা ঋণ প্রয়োজনে তুলনার খুবই কম। বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক পাঠানোর খরচও তুলনামূলকভাবে অন্য দেশের থেকে বেশি।

২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এক জরিপ শেষে বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যয় পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বলে তথ্য প্রকাশ করে। সংস্থাটির মতে, পুরুষ কর্মীর ক্ষেত্রে তা সাত লাখ টাকা এবং মহিলা কর্মীর ক্ষেত্রে তা ৯৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়।

আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা মাইগ্রেশন ডেটা পোর্টাল ২০১৭ সালের উপাত্তের ভিত্তিতে জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যের কাতারে একজন ভারতীয় শ্রমিকের কাজ পেতে খরচ হয় এক হাজার ১৫৬ ডলার, বা এক লাখ টাকা, যা সে দুই মাসে আয় করতে পারে। একজন নেপালি খরচ করে এক হাজার ৮৮ ডলার বা ৯৫ হাজার টাকা, যা সে তিন-চার মাসে আয় করে। সবচেয়ে কম খরচ হয় ফিলিপাইনসের শ্রমিকের, যার অঙ্ক মাত্র ৪১৪ ডলার বা ৩৬ হাজার টাকা, যা সে দু-এক মাসেই আয় করে। তথ্যমতে, এর বিপরীতে তখন বাংলাদেশের শ্রমিক পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা খরচ করে কাতারে যায় এবং নি¤œবেতনে কাজে নেমে পড়ে। এত অভিবাসন ব্যয়ে সমপরিমাণ টাকা আয় করতে সে বছরের পর বছর সময় নেয়।

প্রবাসীদের ভোগান্তি দূর করতে গোড়া থেকে কাজ করতে হবে এবং প্রবাস সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ দালালের ফাঁদে না পড়ে। মানবপাচারকারীদের দমন করতে হবে। দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের নির্মূলে সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে। প্রবাসীদের জন্য পর্যাপ্ত ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের শ্রমশক্তি দক্ষ শ্রমশক্তিতে রূপান্তর করার লক্ষ্যে কর্মসূচি নিতে হবে। তাদের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে হবে। রেমিট্যান্সের প্রবাহ ঠিক রাখতে দক্ষদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিমানবন্দরের ভোগান্তি দূর করতে হবে। তারা আমাদের রেমিট্যান্সযোদ্ধা, তাদের সেভাবে সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। আভিবাসন ব্যয় কমাতে হবে, দ্বিপক্ষীয় যুক্তির ক্ষেত্রে ব্যয়ের বিষয়টা সুনির্ধারিত করতে হবে। প্রবাসে তাদের ভোগান্তি দূর করার লক্ষ্যে সরকারকে সজাগ থাকতে হবে। দূতাবাসগুলোয় স্বদেশি মনভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। সরকারকে শ্রমবাজার বৃদ্ধিতে এখনই কাজ করতে হবে। আরও নতুন বাজার সৃষ্টি করতে হবে। দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের স্বদেশি পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। মহামারির এই দুঃসময় যখন আমাদের অর্থনীতির সব খাত নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে, তখন এই একটি খাত অর্থনীতির কুপি জ্বালিয়ে রেখেছে। সুতরাং দেশের অর্থনীতির প্রাণস্বরূপ এ খাতের উন্নয়নের জন্য আশু ব্যবস্থা নিতে হবে।

শিক্ষার্থী

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..