দিনের খবর মত-বিশ্লেষণ

অর্থনীতি এগিয়ে নিতে চাই যথাযথ পদক্ষেপ

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারিতে মুখ থুবড়ে পড়েছে অর্থনীতি খাত। অনেক কর্মজীবী মানুষ হারিয়েছে চাকরি, অনেকের কমে গেছে আয়, কমেছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। কৃষক উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে না পেরে দিশাহারা। দোকানদার দোকান না খুলতে পেরে অসহায় হয়ে পড়েছে এবং মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা হারিয়েছে সবকিছু।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তথ্যমতে, মহামারির কারণে বিশ্বে আড়াই কোটি মানুষ চাকরি হারাবে। ফলে মাহামারিতে স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি অর্থনৈতিক অবস্থাও ঝুঁকিতে রয়েছে। সারা বিশ্বের অর্থনীতির মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও প্রবল চাপে রয়েছে। জনবহুল এদেশের পক্ষে এই চাপ মোকাবিলা করা কঠিন হবে। বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আট থেকে নেমে দুই কিংবা তিন শতাংশে চলে আসতে পারে। দেশের মোট জিডিপির ১২ শতাংশই রেমিট্যান্স। বোঝাই যায় তাদের ওপর নির্ভরশীল দেশের অর্থনীতি, কিন্তু মহামারির কবলে পড়ে তাদের আয় কমার সঙ্গে সঙ্গে দেশে ফেরত আসতে হচ্ছে। দেশে ফেরত আসা প্রবাসীদের সংখ্যা আরও বাড়বে করোনা-পরবর্তী সময়ে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের কারণে। বিশ্বব্যাংকের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় রেমিট্যান্স ২২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এই অবস্থায় দেশের মানুষ বাঁচানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশের অর্থনীতি বাঁচাতে হবে, তা না হলে বৈশ্বিক মন্দার কবলে পড়বে দেশ।

দেশকে বিভিন্ন জোনে ভাগ করে যথাযথভাবে তা বাস্তবায়ন করতে হবে, কম ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে হবে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সেসব স্থানে কুটিরশিল্পের প্রসার বাড়াতে হবে এবং বেকারদের বিভিন্ন কাজে লাগাতে হবে। তাহলে কিছুটা হলেও বেকারত্ব কমার সঙ্গে সঙ্গে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে। মহামারির কবলে পড়ে মানুষের আয় কমার পাশাপপাশি নিত্য ভোগ্যপণ্যের আকাশচুম্বী দামে অসহায় জনসাধারণ। কৃষিজাত পণ্য বাজারজাত করতে হবে, তাহলে কৃষকের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও দুর্ভোগ কমবে। নবীন উদ্যোক্তাদের যথাযথ নীতিমালা নির্ধারণ করে তাদের কজের সুযোগ করে দিতে হবে। মহামারির কবলে পড়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ব্যাপকহারে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব শিল্পকে বাঁচাতে হবে, বাড়াতে হবে এসব শিল্পের প্রসার এবং স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির দুনিয়ায় কৃষিই এদেশের নিরাপদ আশ্রয়স্থল, তাই দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কৃষির দিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়কে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে সেগুলোকে কার্যকর করতে হবে, আর সেসব পদক্ষেপকে অবশ্যই টেকসই হতে হবে। দেশের অর্থনীতি বাঁচাতে সরকার ও জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে তবেই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।

হাবিবা খাতুন

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..