বিশ্ব সংবাদ

অর্থনীতি সচল করায় যুক্তরাজ্য সরকারের ঋণ কমেছে

শেয়ার বিজ ডেস্ক: কভিডের বিধিনিষেধ শিথিল করায় পুনরায় সচল হয়েছে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির চাকা। পুনরুদ্ধার হচ্ছে দেশটির বিপর্যস্ত অর্থনীতি। সরকারের মাথা থেকে কমছে ঋণের বোঝাও। পুরোদমে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড শুরু হওয়ায় গত মে মাসে দেশটিতে সরকারি ঋণ হ্রাস পেয়েছে প্রায় ২০ বিলিয়ন পাউন্ড, যা অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক দিক মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর: বিবিসি, গার্ডিয়ান।  

গতকাল দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ওএনএস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কভিড বিধিনিষেধ শিথিল করায় মে মাসে যুক্তরাজ্যের সরকারি ঋণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ দশমিক আট বিলিয়ন পাউন্ড থেকে কমে ২৪ দশমিক তিন বিলিয়ন পাউন্ডে নেমেছে, যা প্রায় ১৯ দশমিক চার বিলিয়ন পাউন্ড। কিন্তু ২০১৯ সালের মে মাসের তুলনায় ১৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন পাউন্ড বেশি।

অর্থনীতি সচল হওয়ায় স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়ায় দেশটিতে কর দেয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এ জন্য সরকারকে কম ঋণ নিতে হয়েছে। তবে গত মাসে সরকারের ঋণ কম নেয়ার পরও তা মাসিক ভিত্তিতে ১৯৬০ সালের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

মূলত কভিড মহামারির কারণে গত বছর ব্রিটিশ সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাপকহারে ঋণ নেয়। গত বছর সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দুই দশমিক দুই ট্রিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছে, যা দেশটির মোট জিডিপির ৯৯ দশমিক দুই শতাংশের সমান। এটি ১৯৬০-এর দশকের পর আর দেখা যায়নি। যেখানে ১৯৬২ সালে ছিল মোট জিডিপির সর্বোচ্চ ৯৯ দশমিক পাঁচ শতাংশ।

এদিকে ওএনএস প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের মার্চ মাসে ব্রিটিশ সরকার মোট ২৯৯ দশমিক দুই বিলিয়ন পাউন্ড ঋণ নিয়েছিল, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ ঋণ।

ওএনএস আরও বলছে, কভিড মহামারির কারণে গত বছর সরকারের ব্যয় দিন দিন বেড়ে ২০৪ দশমিক দুই বিলিয়ন পাউন্ড থেকে ৯৪২ দশমিক চার বিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছেছিল। এসব অর্থ কভিডকালীন ব্যবসায়ী এবং ব্যক্তিপর্যায়ে ব্যয় করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্যানথন ম্যাক্রোইকনোমিকসের যুক্তরাজ্য শাখার প্রধান অর্থনীতিবিদ স্যামুয়েল টমস বলেছেন, সরকারের বাজেট পরিকল্পনায় ব্যয় কমালে ঋণের পরিমাণ দ্রুত কমতে থাকবে। তিনি বলেন, সরকারের বাজেট ব্যয় (ওবিআর) ধারণা ৫৫ দশমিক দুই বিলিয়ন পাউন্ডের চেয়ে বেশি ৫৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন পাউন্ড কর ও বিভিন্ন উৎস থেকে গ্রহণ করেছে, যা অর্থনীতিকে শক্তিশালীকরণ বোঝায়।

এদিকে ক্যাপিটাল ইকনোমিকসের অর্থনীতিবিদ থমাস পাগ বলেন, চলতি বছরের মে মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট কর হিসেবে জনগণের কাছ থেকে ৫৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন পাউন্ড গ্রহণ করেছে, যা এপ্রিলের ৫৮ দশমিক এক বিলিয়ন থেকে কম কিন্তু আগের বছরের মে মাসের ৪৯ দশমিক তিন বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি। তিনি বলেন, ট্যাক্স গ্রহণের প্রবণতা মোট জিডিপি বাড়াবে, যা অর্থনীতি শক্তিশালী করবে।

একই সঙ্গে মে মাসের সরকারের ব্যয়ও এপ্রিলের ৮৪ দশমিক সাত বিলিয়ন পাউন্ডের চেয়ে কমে ৭৫ দশমিক ছয় বিলিয়ন পাউন্ডে নেমেছে।

গত মার্চে অর্থবছরের শুরুতে অর্থমন্ত্রী করপোরেট কর বৃদ্ধি এবং ব্যক্তি ও হাউসহোল্ড কর হ্রাস করার প্রস্তাবেও ব্রিটিশ অর্থনীতি সচল রাখার কাজ করছে বলে তিনি করেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..