বিশ্ব সংবাদ

অর্থনীতি সচল রাখতে কর হ্রাস করছেন ট্রাম্প

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে মন্দা ঝুঁকি এড়াতে নতুন করে কর হ্রাস করতে যাচ্ছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি গত মঙ্গলবার জানিয়েছেন, সাময়িক সময়ের জন্য নাগরিকদের বেতনের ওপর ধার্য কর হ্রাসের বিষয়টি বিবেচনায় নিচ্ছে তার প্রশাসন। খবর: বিবিসি ও রয়টার্স।
মন্দাবস্থার ভয়ে যদি ভোক্তারা অর্থ ব্যয়ে অনিচ্ছুক হয়, তাহলে ক্রিসমাসের আগে অর্থনীতিতে তার প্রভাব দেখা দিতে পারে। বর্তমানের ছয় দশমিক দুই শতাংশ বেতন-কর কমিয়ে চার দশমিক দুই শতাংশ করার কথা ভাবা হচ্ছে।
যদি সত্যি সত্যি মন্দাবস্থার ধাক্কা এসে লাগে, তার দায়ভার যাতে নিজের ওপর না পড়ে, সে জন্য ট্রাম্প ইতোমধ্যে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রধান জেরোমি পাওয়েলকে দায়ী করেছেন। সোমবার এক টুইটে তিনি আরেক দফা সুদের হার কমানোর দাবি জানিয়ে বলেছেন, রিজার্ভ ব্যাংকপ্রধানের কোনো দূরদৃষ্টি নেই।
অধিকাংশ মার্কিন অর্থনীতিবিদ মনে করেন, ২০২১ সাল নাগাদ মার্কিন অর্থনীতি মন্দাবস্থার কবলে পড়বে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর বিজনেস ইকোনমিকসের জরিপ অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারজন অর্থনীতিবিদের তিনজনই এ ধারণার সঙ্গে একমত।
উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অর্থনীতিবিদ মনে করেন, চীনের সঙ্গে চুক্তি না হলে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাবে ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই মন্দাবস্থা প্রকট হয়ে উঠবে। ট্রাম্পের জন্য সেটাই এখন মাথাব্যথার প্রধান কারণ। অন্য কারণ, ট্রাম্পের জনসমর্থনে নি¤œগতি। ট্রাম্পের প্রবল সমর্থক হিসেবে পরিচিত ফক্স নিউজ তাদের সবশেষ জাতীয় জরিপের ফল প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, এ মুহূর্তে নির্বাচন হলে ট্রাম্প প্রতিপক্ষ ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর প্রথম চারজনের কাছে সহজেই পরাজিত হবেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে ট্রাম্প হারবেন ১২ পয়েন্টে।
অতীতে বেতন-কর হ্রাসের প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটরা আগ্রহ দেখালেও ট্রাম্পের ‘উপকার’ হয়, এমন কোনো পদক্ষেপে এবার তারা আগ্রহী নাও হতে পারেন। ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসম্যান বিল পারসেল দলের সদস্যদের এ মনোভাব প্রকাশ করে বলেছেন, ট্রাম্প ও তার সঙ্গীরা অর্থনীতির হাল দেখে যে আতঙ্কিত, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু কী করা উচিত, এ নিয়ে তাদের কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। এ মুহূর্তে তারা যখন যেমন ইচ্ছার কথা বলছেন।
অধিকাংশ পর্যবেক্ষক এ বিষয়ে একমত, মার্কিন অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তার প্রধান কারণ চীনের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ। ট্রাম্প আশ্বাস দিয়েছিলেন, এই বাণিজ্যযুদ্ধে তিনি সহজেই জিতবেন। চীনের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে দিন কয়েক আগেও তিনি সে দেশ থেকে সব আমদানি করা পণ্যের ওপর নতুন শুল্কারোপের হুমকি দিয়েছিলেন। ক্রিসমাসের আগে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করলে সাধারণ ভোক্তারা বিপদে পড়বেÑএমন সমালোচনা শোনার পর ট্রাম্প অবশ্য তার হুমকির বাস্তবায়ন আপাতত মুলতবি রেখেছেন।

সর্বশেষ..