সম্পাদকীয়

অর্থনীতি সচল রাখতে পরিকল্পিত উদ্যোগ নিন

চীন থেকে ছড়ানো করোনাভাইরাসে এখন গোটা বিশ্ব টালমাটাল। থমকে গেছে ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানিসহ সব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। ফলে বিশ্বের সব দেশকেই এর ফল ভোগ করতে হচ্ছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি কবে নিয়ন্ত্রণে আসবে তা জানা নেই কারোর। ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি কতটা বিশাল হবে তাও সবার অজানা। এ অবস্থায় পরিকল্পনায় ভুল হলে বিপর্যয় অবশ্যম্ভাবী। করোনাভাইরাসের ধাক্কা বাংলাদেশেও বেশ ভালোভাবে লেগেছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এতে তৈরি পোশাক খাতসহ গোটা অর্থনীতি ইতোমধ্যে বড় ধরনের ক্ষতির শিকার। এ অবস্থায় অর্থনীতিকে সচল রাখতে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত জরুরি।

‘থমকে যেতে বসেছে দেশের অর্থনীতি’ শিরোনামে গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এতে বলা হয়, করোনাভাইরাস দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানিসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। একই ধরনের সমস্যায় পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও। রপ্তানি আয়ের ৮৩ শতাংশ জোগানদাতা তৈরি পোশাক খাতও বড় ক্ষতির মুখে। ফলে করোনাভাইরাসের কারণে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ‘ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি: অর্থনীতির সব খাতেই ঝাঁকুনি দেবে করোনা’ আরেক শিরোনামের খবরে বলা হয়েছে, করোনার ঝুঁকি মোকাবিলায় সম্প্রসারণমুখী মুদ্রানীতি, অগ্রাধিকার পুনর্বিবেচনা সাপেক্ষে রাজস্ব, সরকারি ব্যয় ও খাতভিত্তিক বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিষয়গুলো আমলে নিয়ে দ্রুত পরিকল্পনা গ্রহণপূর্বক সে অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়া জরুরি।

করোনা মহামারিতে ইতোমধ্যে তৈরি পোশাকে ক্রেতারা ক্রয়াদেশ বাতিল করতে শুরু করেছেন। কিছু ক্রেতা পণ্য পরে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও কবে নেবেন, স্পষ্ট করে কিছু বলছেন না। স্বাভাবিকভাবেই এ পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থানেও বড় ধাক্কা লাগবে। দেশের লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে অর্থনীতির নানা ক্ষেত্রে। সেক্ষেত্রে করোনার কারণে তারা বেকার হয়ে পড়লে তখন ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা হবে দুষ্কর। অন্যদিকে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এ শ্রেণির মানুষ ইতোমধ্যে দুর্ভোগে রয়েছেন। পরিস্থিতি এখন তাই বেশ স্পর্শকাতর বলা চলে।

খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্য যে স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক যে ঝুঁকি তৈরি করেছে, বাংলাদেশও তার সম্মুখীন হয়েছে। এ অবস্থায় সরকারকে লক্ষ্যনির্দিষ্ট সম্প্রসারণধর্মী পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া খাতসংশ্লিষ্টরাও বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছেন। বিষয়গুলো আমলে নিয়ে সরকারকে এখনই সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। একথা সত্য, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারকে বাড়তি মনোযোগ দিতে হচ্ছে। তবে অর্থনীতির দিকেও পাশাপাশি নজর দেওয়া না হলে তা বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে অনেকের আশঙ্কা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..