প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

অর্থনৈতিক অঞ্চল করছে সৌদি আরব

শেয়ার বিজ ডেস্ক : তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এবং বেসরকারি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবে ৫০ হাজার কোটি ডলার ব্যয়ে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করার পরিকল্পনা করছে সৌদি সরকার। গত মঙ্গলবার ‘নিয়ম’ নামের এ উন্নয়ন পরিকল্পনা উম্মোচন করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। খবর রয়টার্স।

দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সাড়ে ২৬ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে হবে এই বিশেষ অঞ্চল, যা মিসর ও জর্ডান পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এ অঞ্চলে ৯টি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হবে, বিশেষ করে খাদ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি, ম্যানুফ্যাকচারিং, বিনোদন ও পানিতে।

বিশ্বের তেলসমৃদ্ধ দেশ সৌদি আরব। তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প অর্থনীতি নিয়ে চিন্তা করছে দেশটি। এ লক্ষ্যে ব্যাপক ভিত্তিতে অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনা আগেই ঘোষণা করেছে সৌদি আরব। এ অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনাকে বলা হচ্ছে ‘ভিশন-২০৩০’। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে সৌদি আরবের তেলপ্রধান অর্থনীতিকে বহুমুখী সম্পদভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর করা হবে। এর অংশ হিসেবে গত মাসে বিনোদন শিল্পের উন্নয়নে ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয় সৌদি আরব। আগস্টে একটি পর্যটন প্রকল্পের যাত্রা শুরু করেছে সৌদি আরব। এর আওতায় রয়েছে ১০০ মাইল দীর্ঘ বালুকাময় উপক‚ল এবং ৫০টি দ্বীপের একটি উপহ্রদ।

রক্ষণশীল রাজ্যের আধুনিকায়নে হঠাৎ করেই যেন সংস্কারের দিকে নজর দিয়েছে সৌদি আরব। গত মাসে নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। এবার অর্থনীতিকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর জন্য হাতে নেওয়া হয়েছে অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা। হাজার হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকার মরুভ‚মিকে নতুন শহরে পরিণত করতে চাইছে দেশটি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যাপকভাবে কমে গেছে এবং শিগগিরই এ দাম খুব একটা বাড়বে বলে মনে হচ্ছে না। তাছাড়া ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়ার পর দেশটিও এখন তেলের বাজারে এসেছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের জোগান আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছেন, তেলের বাজারে যাই হোক না কেন, সৌদি আরবের অর্থনৈতিক সংস্কারের দিকে যেতেই হবে। তিনি বলেন, ‘তেলের দামের সঙ্গে অর্থনৈতিক ভিশনের কোনো সম্পর্ক নেই। তেলের দাম বাড়লে আমাদের জন্য ভালো হবে। দাম কমার বিষয়টিকে মাথায় রেখে আমাদের অর্থনৈতিক ভিশনের মূল লক্ষ্য পরিচালিত হচ্ছে।’

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, ২০২০ সালে তেল বিক্রি বন্ধ হয়ে গেলেও সৌদি আরব চলতে পারবে। অর্থনৈতিক দিক থেকে বর্তমানে সৌদি আরবের মানুষের জীবনযাত্রা বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত জীবনের মধ্যে অন্যতম। সমস্যা হচ্ছে মানুষের হাতে অর্থ থাকলেও সেগুলো খরচ করার কোনো জায়গা দেশের ভেতরে নেই। বিশ্বের অনেক দেশের মানুষের উপার্জন সৌদি আরবের চেয়ে কম হওয়া সত্তে¡ও তাদের জীবনযাত্রার মান ভালো, কারণ সেসব দেশে বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থা আছে। সেসব দেশের নাগরিকদের উপার্জন কম হলেও তারা সে অর্থ খরচ করতে পারে এবং উপভোগ করতে পারে।